ব্রেকিংরাঙামাটি

নিয়ম ভেঙ্গে আবার বিলবোর্ড শহরে !

অনুমতির তোয়াক্কা নেই

রাঙামাটি পৌর এলাকায় নতুন কোন বিলবোর্ড স্থাপনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকার পরও সকলের নাকের ডগায় স্থাপন করা হচ্ছে বিশাল আকৃতির বিলবোর্ড।

রাঙামাটি পৌরসভার পুরাতন বাস টার্মিনালে বাস মালিক সমিতির একতলা মার্কেটের উপর স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই নির্মিত হচ্ছে এই বিলবোর্ড। পৌর এলাকায় বিলবোর্ড স্থাপনার ক্ষেত্রে পৌরসভার অনুমোদন নেয়া বাধ্যতাম‚লক হলেও এ ক্ষেত্রে পৌরসভার কোন অনুমতি বা অনুমোদন নেয়া হয়নি বলে জানিয়েছে রাঙামাটি পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।

পার্বত্য শহর রাঙামাটির সচেতন মানুষ ও পরিবেশবাদিরা মনে করেন, পর্যটন বান্ধব পৌরসভা বিনির্মাণে সবচেয়ে বড় বাধা এইসব অযাচিত বিলবোড। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন পৌর এলাকায় বিলবোর্ড স্থাপনের না করা ও শহরজুড়ে থাকা বিলবোর্ড অপসারনের দাবী জানিয়ে আসছিল। এমন দাবির কারণে অনেকদিন বন্ধ ছিল শহরে বিলবোর্ড স্থাপন কাজ। কিন্তু হঠাৎ করে আবারো দেখা গেলো এমন বিশাল বিলবোর্ড স্থাপনের কাজ ।
রাঙামাটি শহরের রিজার্ভবাজার সড়ক হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড হতে পুরাতন বাস স্টেশনে আসার সময় পাহাড় লেকের যে অসাধারন সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়, এখানে এমন বিলবোর্ড স্থাপন হলে এ অংশটি আর দেখা যাবে না পাহাড় কিংবা লেক । স্থানীয়রা এতে বিস্ময় প্রকাশ করে বিলবোর্ড অপসারণের দাবি জানান।

স্থানীয় দোকানি আতিকুর রহমান বলেন, বিলবার্ড তৈরি করে শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করার কোন মানেই হয়। প্রশাসনকে অনুরোধ করবো যাতে এটি স্থাপন করতে না দেয়।

স্থানীয় রবিউল হোসেন বলেন, রাঙামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্য মানুষ রাঙামাটি আসে। এখানে সে দৃশ্য দেখতে না দিয়ে বড় বড় বিজ্ঞাপনের জন্য বিলবোর্ড বানানো এটি কোনভাবেই যৌক্তিক না। এসব অনেকদিন বন্ধ ছিলো,এখন আবার কেনো শুরু করা হলো কি জানি !

রাঙামাটি পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর করিম আকবর বলেন, বিলবোর্ড স্থাপনের বিষয়টি আমার চোখে পড়ে নাই। যদি বিলবোর্ড স্থাপন করে থাকে তাহলে পৌরসভা সেটা ভেঙে দিবে।

রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী বলেন, পৌর এলাকায় সবধরনের ধরনের বিলবোর্ড স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা আছে। জেলার আইন শৃংখলা কমিটির সভায় তেমন সিদ্ধান্ত আগে থেকেই গ্রহণ করা আছে। যারা এটি স্থাপন করছে তারা সম্পুর্ন আইন অমান্য করে বেআইনিভাবে স্থাপন করছে। আমি তারপরও বিষয়টি দেখছি।’

তবে মেয়রের এই বক্তব্যের পরও বিকালে সরেজমিনে গিয়ে বিলবোর্ড স্থাপনের কাজ চলমান এবং সেখানে কয়েকজন শ্রমিক কাজ করতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে স্থাপন কাজে জড়িতদের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা এই বিলবোর্ড স্থাপন নিয়ে কোন ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হননি।

রাঙামাটি পৌরসভার সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভূট্টো বলেছেন, আমি দায়িত্বপালনকালে পৌরসভার সচেতন নাগরিক ও পরিবেশবাদীদের দাবির সাথে সংহতি জানিয়ে,সব ধরণের বিলবোর্ড স্থাপন বন্ধ করে দিয়েছিলাম এবং অনুমোদন ছাড়া নির্মিত বেশ কয়েকটি বিলবোর্ড উচ্ছেদও করেছিলাম। এখন আবার যদি বিলবোর্ড স্থাপন হয়,তবে বিষয়টি দুঃখজনক ও হতাশার।’

রাঙামাটি শহরে বিলবোর্ড স্থাপনের প্রতিবাদে সক্রিয়দের একজন সংবাদকর্মী ও পরিবেশবাদি সংগঠক গেøাবাল ভিলেজের সংগঠক হেফাজত সবুজ। তিনি বলেন-‘আগের মেয়র আমাদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে বিলবোর্ড স্থাপন বন্ধ করেছিলেন,জেলা প্রশাসনও শহরে অবৈধ বিলবোর্ডের বিপক্ষে। তাহলে আবার নতুন করে কিভাবে শহরে বিলবোর্ড স্থাপিত হয় ? আমরা অবিলম্বে এই বিলবোর্ডসহ শহরের সকল বিলবোর্ড অপসারণের দাবি জানাচ্ছি।’

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button