পাহাড়ের রাজনীতিব্রেকিংরাঙামাটিলিড

নিষ্প্রাণ রাঙামাটি বিএনপি!

বাংলাদেশের এক সময়ের প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল আজ কালের বিবর্তনে অনেকটা নিষ্প্রাণ। তার ব্যতিক্রম নয় রাঙামাটি জেলা কমিটিও। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রাঙামাটি জেলা শাখা একটা সময় ক্ষমতায় থাকায় ছিল প্রভাবশালী। প্রায় ১৩ বছর রাষ্ট্র ক্ষমতার বাইরে থেকে দলটি যেমন তার প্রভাব হারিয়েছে তেমন হারিয়েছে জৌলসও।

রাঙামাটি জেলা বিএনপির তেমন কোন দৃশ্যমান অন্দোলন বা কর্মসূচি নিয়ে মাঠেও নামতে দেখা যায় না। সরেজমিনে রাঙামাটি জেলা বিএনপির কার্যলয়ে গিয়ে দেখা যায় এক সময়কার জমজমাট অফিস নেতা কর্মীদের পদচারণায় মুখরিত থাকা কার্যালয়টি এখন অধিকাংশ সময় ফাঁকা থাকে, নেই নেতা কর্মীদের তেমন কোন আনাগোনা। বিএনপির অফিসে আছে পুলিশি পাহাড়া। সারাদিন কোন নেতা কর্মীদের কার্যালয়টিতে দেখা না গেলেও সন্ধ্যায় হাতেগোনা কিছু নেতা কর্মী কার্যালয়ের সামনে বসে আড্ডা দেয়।

বিএনপির এমন স্থবিরতার জন্য আছে নানা ধরনের মতামত। অনেকে মনে করেন কর্মীদের মধ্যে আগামীর জন্য কোন ভালো স্বপ্ন দেখাতে বর্তমানদের ব্যর্থতার কারণে এমন কর্মী শূন্য হচ্ছে জেলা বিএনপির অফিস। আছে ভিন্নমতও অনেক মনে করেন সরকারি দলের নানা মুখি চাপ মামলার কারণে এমনটি হচ্ছে। কেন্দ্রীয় কোনও কর্মসূচি ঘোষণা হলে তা অনেকটা দায়সারাভাবে পালন করে পুলিশ বেষ্টনীর মধ্যেই দলীয় অফিসের সামনে।

জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও রাঙামাটি পৌরসভা মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভুট্টো বলেন, সরকারি দলের হামলা- মামলা আর হয়রানি যেমন আছে তেমন আওয়ামীলীগের সাথে আপোষ করে চলা বিএনপির নেতাদের জন্য রাঙামাটি জেলা বিএনপির এমন করুণ অবস্থা। তিনি আরো বলেন, জেলা বিএনপির মুল পদে যারা আছেন তারা মুলত আওয়ামীলীগের হয়েই কাজ করে। তাই কর্মীরা আগ্রহ হারাচ্ছে অফিসমুখি হতে। তিনি আরো বলেন, জেলা বিএনপির নেতারা সকল পর্যায়ের কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

জেলে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর সুমন বলেন, মিথ্যা মামলায় জর্জরিত নেতা কর্মীরা আওয়ামীলীগের সাথে অনেকটা আপোষ করেই চলতে বাধ্য হচ্ছে। অনেকেই সাবধানতা ও ভয়ে প্রকাশ্যে আসতে চায় না মামলার ভয়ে।

তবে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু সাদাৎ মো: সায়েম বলেন, জাতীয়তাবাদী দল রাঙামাটি জেলা শাখা আগের যেকোন সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সুসংগঠিত। আমরা বিভিন্ন উপজেলাকে গোছানোর কাজ করছি এবং কেন্দ্র যে কোন ধরনের কর্মসূচি দিলে আমরা প্রস্তুত আছি মাঠে নামার জন্য।

রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি শাহ আলম বলেন, আমাদের সব ইউনিটই সক্রিয় আছে এবং প্রশাসনের কাছ থেকেও আমাদের জেলা বিএনপির ওপর কোনও চাপ নাই। সকালে হয়তো সকলে নিজেদের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে তাই সকালে অফিসে আসে না, কিন্তু সন্ধ্যায় আমরা অফিসে আসি। দলের অনৈক্যের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরো বলেন, সাইফুল ইসলাম ভুট্টো যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ বানোয়াট। তিনিই বরং বিএনপির কোনও কর্মসূচিতে থাকেন না।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button
Close