বান্দরবানব্রেকিংলিড

নির্মাণের পর বর্ষায় এলজিইডি’র দুটি সড়কে ভাঙ্গন

অপরিকল্পিতভাবে বান্দরবানের লামায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অর্থায়নে নির্মাণাধীন দুটি সড়কে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। প্রতিরক্ষা দেয়াল এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় নির্মাণের পর প্রথম বর্ষায় সাবেক বিলছড়ি সড়কের কমপক্ষে ৮টি স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। অপরদিকে রুপসীপাড়ায় নির্মাণাধীন সড়কটি সম্পূর্ন ধসে গেছে পাহাড়ি ঢলে। এলজিইডি’র কর্মকর্তা এবং ঠিকাদারের যোগসাজসে চলছে উন্নয়ন কাজে অনিয়ম-দুর্নীতি অভিযোগ স্থানীয়দের।

এলজিইডি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অর্থায়নে ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে জেলার লামা উপজেলা শহরের লাইনঝিড়ি থেকে সাবেক বিলছড়ি সড়ক পর্যন্ত ৩ কিলো ৪শ মিটার কার্পেটিং সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। নিশান ট্রেডার্স এর লাইসেন্সে ঠিকাদার নূরুল আবছার জুন মাসে তড়িগড়ি করে সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়েছে। অপরদিকে এম.ডি ইউনুচ এন্ড ব্রাদাসের লাইসেন্সে এলজিইডি’র অর্থায়নে ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে রুপসীপাড়া ব্রীজের মুখ থেকে প্রায় ১৬শ মিটার রাস্তা ইটের সলিং রুট, ৩৫ মিটারের একটি ব্রিজ, ৭টি কালভার্ট এবং টু-ওয়ালের আরো একটি উন্নয়ন কাজ ঠিকাদার নূরুল আবছারের চলমান রয়েছে।

সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, নি¤œমানের বিটুমিনসহ সামগ্রি ব্যবহারের কারণে নির্মাণের একমাসের মধ্যেই সড়কটির অধিকাংশ স্থানেই কার্পেটিং এর সিলকোড পাথর উঠে গেছে। অপরদিকে অপরিকল্পিতভাবে প্রতিরক্ষা দেয়াল এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সড়কটির কমপক্ষে ৮টি স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গন ঠেকাতে সড়কের কোথাও কোথাও বালির বস্তা দেয়া হয়েছে। তবে সড়কের সাবেক বিলছড়ি এলাকায় দুটি স্থানে সড়কের বিশাল একটি অংশ বৃষ্টিতে ধসে গেছে মাতামুহুরী নদীতে। অপরদিকে রুপসীপাড়া ব্রিজের মুখ থেকে নির্মাণাধীন ১৬শ মিটারের রাস্তার মধ্যে দেড়শ মিটারের মত রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে সড়কটি সম্পূর্ণ পাহাড়ি ঢলে ধসে গেছে। রাস্তার কোনো চিহ্নও দেখা যাচ্ছে না। এছাড়াও সড়কের মাটি ধসে পাশ্ববর্তী একটি বসতবাড়িও হুমকি মুখে পড়েছে। এ সড়কেও কোনো ধরণের ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ উদ্দিন, সৈয়দ আলম অভিযোগ করে বলেন, কোনো ধরণের পরিকল্পনা ছাড়ায় নি¤œমানের সামগ্রি ব্যবহার করে এলজিইডি’র সড়ক দুটি নির্মাণ করা হয়েছে। অল্প বৃষ্টিতে সড়ক দুটি ভেঙ্গে গেছে। এগুলো সরকারি অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। এলজিইডি’র কর্মকর্তা এবং ঠিকাদারের যোগসাজসে উন্নয়ন কাজে অনিয়ম-দুর্নীতিগুলো হচ্ছে। একই ঠিকাদারের দুটি কাজের-ই বেহাল অবস্থায় হয়েছে।

ঠিকাদার নূরুল আবছার জানান, লাইনঝিড়ি থেকে সাবেক বিলছড়ি রাস্তাটি কাজ শেষ করে বিলের টাকাও উত্তোলন করেছি। কাজে কোনো ধরণের অনিয়ম করা হয়নি। বর্ষায় টানা বৃষ্টিতে নির্মিত সাবেক বিলছড়ি সড়কের কয়েকটি স্থানে ভেঙ্গে গেছে। এবং রুপসীপাড়া নির্মাণাধীন সড়কটির একটি অংশ ধসে গেছে। বৃষ্টির কারণে আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। বৃষ্টির কারণে বর্তমানে কাজও বন্ধ রয়েছে।

এ ব্যাপারে লামা উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী মোবারক হোসেন ও সার্ভেয়ার জাকির হোসেন জানান, বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢলে বিলছড়ি ও রুপসীপাড়া সড়কটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিলছড়ি সড়কের কয়েকটি স্থানে ধসে গেছে মাতামুহুরী নদীতে। তবে রুপসীপাড়া সড়কটি চলমান থাকায় ভেঙ্গে যাওয়া সড়কটি পুনরায় করে দেয়া হবে। শতভাগ কাজের মান ঠিক রাখা সম্ভব নয় পাহাড়ি এলাকায়। তবে যতটুকু সম্ভব কাজের গুনগত মান ঠিক রেখেই উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করি।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button