ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

নির্দোষ এ সন্তানের পিতা কে?

নয় মাস আগে ধর্ষণের শিকার এক বাক-প্রতিবন্ধী নারী সন্তান প্রসব করেছে রাঙামাটির লংগদু উপজেলায়। মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার মাইনীমূখ ইউনিয়নের ইসলামাবাদ গ্রামে ধর্ষণের নারীর পুত্র সন্তান প্রসবের পর এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

এঘটনার পর ধর্ষণের নারীর স্বজনেরা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানালে তিনি ভিকটিমকে থানায় পাঠান এবং পুলিশ তাকে লংগদু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে সদ্যজাত সন্তানসহ ওই বাক প্রতিবন্ধী নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

ধর্ষণের শিকার নারীর স্বজনেরা জানায়, পিতা মাতাহীন প্রতিবন্ধী এ নারী খালার কাছে থেকে বড় হয়েছেন। খালা ইসলামাবাদ গ্রামেরই বাসিন্দা। তিন বছর আগে প্রতিবন্ধী মেয়েটিকে মাইনীমূখ বাজারের প্রহরী সিরাজের সাথে বিয়ে দেন স্বজনরা। সিরাজ দুই বছর আগে স্ত্রীকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এরপর আবারও খালা ফাতেমা বেগমের বাড়িতে আশ্রয় নেয় বাক প্রতিবন্ধী এই নারী। খালার বাসায় থেকে প্রতিবেশি সাবেক ইউপি সদস্য জালাল উদ্দীন’র (জালাল মেম্বার) বাড়িতে বুয়ার কাজ করতো সে। একদিন দুপুরে বাথরুমে কাপড় ধোয়ার কাজ করছিলো প্রতিবন্ধী নারী। এসময় ঘরে কেউ না থাকার সুযোগে জালাল মেম্বারের ছেলে শামীম হোসেন প্রতিবন্ধী এ তাকে ধর্ষণ করে। সে এ ঘটনা স্বজনদের কাউকে বলতে পারেনি। চার মাস পরে স্বজনরা বুঝতে পারে প্রতিবন্ধী মেয়েটি গর্ভবতী।

এরপর এ নিয়ে এলাকায় সালিশ বৈঠক হলে অভিযুক্ত শামীম হোসেন সে বৈঠকে হাজির হয়নি। ধর্ষণের মেয়েটি ধর্ষণের স্থান দেখাতে চাইলে বিচারকরা সেখানে যায়নি। বৈঠকে অভিযুক্ত ধর্ষক শামীমের চাচাত ভাই ইউপি সচিব আল আমিন অভিযোগের জবাবে বলেন, ‘আমার ভাই যদি অভিযুক্ত হয় তবে সন্তান প্রসবের পর ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে তা যাচাই করা হবে। যাচাইয়ে প্রমাণিত হলে আমরা সন্তানের দায়িত্ব নেবো।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আল আমিন বলেন, ‘মেয়েটির প্রতিবন্ধীতার সুযোগ নিয়ে এলাকার অনেক বখাটে তাঁকে ধর্ষণ করেছে। তবে স্থানীয়দের সাথে বিরোধের কারণে আমার চাচাতো ভাই শামীমকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’

গর্ভধারণের কয়দিন পর স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ও বর্তমান মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান আনোয়ারা বেগম প্রতিবন্ধী গর্ভবতী মেয়েটিকে নিজের বাড়িতে রাখেন। বিষয়টি সমাধান করা হবে বলে মেয়েটির স্বজনদের বার বার আশ্বাস দিয়ে আসছিলেন আনোয়ারা বেগম। শেষ পর্যন্ত আর বিচারে বসেনি কেউ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘প্রতিবন্ধী মেয়েটি গর্ভবতী ছিলো তবে সন্তান প্রসবের বিষয়টি আমি জানিনা। আমি খোঁজ নিয়ে আপনাদের জানাব।’

গর্ভবতী হওয়ার ঘটনায় সালিশ বৈঠকে বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য আব্দুস ছালাম তালুকদার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতিবন্ধী মেয়েটির গর্ভবতী হওয়া নিয়ে অভিযুক্ত শামীমের বিরুদ্ধে প্রমাণ না পাওয়ায় আমরা ধরে নিয়েছি মেয়েটি তার স্বামীর মাধ্যমেই গর্ভবতী হয়েছে। এরপর আমরা মেয়েটিকে তার স্বজন মুক্তিযোদ্ধা শুক্কুর আলীর হেফাজতে দিয়ে দেই।’

ধর্ষণের শিকার নারীর নারীর খালা বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ তাই বিচার পাইনা। আমার ভাগ্নি খুবই অসহায়। ওর বাবা বেঁচে নাই। মা ফেলে রেখে চলে গেছে। আমরা সন্তানের পিতার পরিচয় জানতে চাই এবং তাকে অবশ্যই সন্তান ও মায়ের দ্বায়িত্ব নিতে হবে।’

এই ব্যাপারে কথা বলার জন্য অভিযুক্ত শামীম হোসেনের সাথে দফায় দফায় যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য নেয়া যায়নি।

লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রবীর কুমার রায় বলেন, ‘প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের ফলে সন্তান প্রসবের অভিযোগ নিয়ে আমার কাছে আসলে আমি ওসি’র সাথে ফোনে যোগাযোগ করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য থানায় পাঠিয়ে দিই।’

এ বিষয়ে লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রঞ্জন কুমার সামন্ত’র কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button
Close