নীড় পাতা / ব্রেকিং / নিরাপদ খাদ্য সরবরাহে যৌথ প্রচেষ্টা নিলেন রাঙামাটির ব্যবসায়িরা
parbatyachattagram

বয়রা পড়বে পোশাক ‍ও টুপি,বাবুর্চিরা এপ্রোণ

নিরাপদ খাদ্য সরবরাহে যৌথ প্রচেষ্টা নিলেন রাঙামাটির ব্যবসায়িরা

পার্বত্য শহর রাঙামাটিতে দায়িত্বপালনকারি বিভিন্ন প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায়শই শহরের রেস্তোঁরা ও খাবারদোকানগুলোতে উপর্যুপরি অভিযানের প্রেক্ষিতে মঙ্গরবার রাঙামাটি রোস্তোঁরা মালিক সমিতির জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

বনরূপাস্থ রেইনবো রেস্তোঁরায় তাইপিং রেস্তোঁরার মালিক ও রাঙামাটি রেস্তোঁরা মালিক সমিতির সভাপতি শামীম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, রেইনবো রেস্তোরার মালিক জাহাঙ্গির আলম মুন্না, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও গ্রীনভ্যালি রেস্তোঁরা মালিক নেকাব্বর আলী, মাস্টার সেফ রেস্তোঁরা কর্ণধার সাইফুল ইসলাম, জিয়া ফুডস রেস্তোঁরার মালিক জসিম উদ্দিন, কামালিয়া ভাতঘর’র মালিক নাজিম উদ্দিন, বনফুল রেস্তোঁরার মালিক আলহাজ আক্তার হোসেনসহ রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন খাবার হোটেল,চাইনিজ রেস্তোরা ও খাদ্যদ্রব্য বিক্রয়কারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। 

এসময় আলোচনায় অংশ নিয়ে হোটেল মালিক সমিতির নেতা ও রেস্তোরার মালিকরা বলেন,সাম্প্রতিক সময়ে সরকার ভোক্তা অধিকার রক্ষার জন্য নতুন আইন প্রনয়ন করেছে। খাদ্যকে নিরাপদ করতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। আমরাও চাই মানুষকে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ করতে। আমরা মনে করি ব্যবসার পাশাপাশি আমরা একটা পবিত্র দায়িত্ব পালন করছি। একজন ব্যবসায়ী কখনই চায়না কোন নিন্মমানের খাবার সরবরাহ করতে। আমাদের অনেক সীমা বদ্ধতার মাঝেও ভালো ও নিরাপদ খাবার পরিবেশন ও  সরবরাহের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে’।

বক্তারা আরো বলেন,‘ বেশ কিছুদিন ধরে নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করেছে, এতে কয়েকজন মালিককে জরিমানা করা হয়েছে। তাই যাতে আগামীতে আর কোন মালিককে জরিমানা করতে না পারে সেজন্য আমাদের সচেতন হতে হবে। মানসম্মত খাদ্য পরিবেশনের জন্য যা যা করা প্রয়োজন আমরা তা করবো।’

এসময় ব্যবসায়ি আহ্বান জানান, ‘আমাদের কিছু দিন সময় দিয়েছেন, তবে একটু সময় দিতে হবে। প্রশাসনের কাজে দাবি জানাচ্ছি আপনারা আমাদের কয়েক মাস সময় দিন, এর মধ্যেই আমরা শহরের সকল রেস্তোঁরাকে আমাদের প্রদত্ত মানে নিয়ে আসতে পারবো। আর যদি তা না পারি তবে তখন আপনারা যে রায় দেবেন তা আমরা মাথা পেতে নিব।’

সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, সকল রেস্তোঁরার খাবার পরিবেশন করা বয়গণ নির্ধারিত পোশাক ও মাথায় ক্যাপ পরিধাণ করবে, বাবুর্চি মেট ও কারিগরগণ এপ্রোন পরে কাজ করবেন। সর্বোপরি রোস্তোঁরা মালিক ও বিভিন্ন বিভাগের কারিগরদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষনের মাধ্যমে মানসম্মত খাদ্য প্রস্তুত করার জন্য সচেতন করে তোলা হবে। এই প্রশিক্ষনে, নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রশিক্ষন দেয়া হবে এবং উক্ত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন স্যানেটারী ইনেসপেক্টর সহ লাইন ডিপার্টমেন্টের সকল কর্মকর্তাগণ কে উপস্থিত রাখা হবে।’

সভায় বক্তারা আরও বলা হয়,  ঐক্য এবং সচেতনতাই পাড়ে আমাদের এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটাতে। আমরা স্ব উদ্যোগে রমজান মাসে যেমন মানসম্মত ইফতার সরবরাহ করতে পেরেছি, কোন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হয়নি, তেমনি এখন আমাদের মাস দুয়েক সময় দেয়া হয়, তবে আমরা বিশ্বাস করি সফল ভাবেই আমরা খাবারের মান, পরিবেশ সহ সকল আনুসাঙ্গিক বিষয় সঠিক ভাবে পালন করতে পারবো এবং রাঙামাটিই হতে পারবে দেশের প্রথম নিরাপদ খাদ্য সরবরাহকারী জেলা। ’ এসময় ব্যবসায়ি নেতারা সকল রেস্তোরা মালিককে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান পরিচ্ছন্ন রাখার ও খাবারের উপকরণ ব্যবহারে মেয়াদউত্তীর্ণ পণ্য কেনা হচ্ছে কিনা,সেই বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা প্রদান করেন।

পার্বত্য অঞ্চল একটি পিছিয়ে পড়া অঞ্চল হিসাবে বাড়তি সময় দিয়ে পর্যটন বান্ধব ও স্বাস্থ্য সম্মত নিরাপদ খাবার সরবরাহে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন সভায় অংশ নেয়া রাঙামাটির সকল স্তরের রেস্তোঁরা মালিকগণ।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

তবলছড়ি কালিমন্দির পরিচালনার দায়িত্বে আশীষ-পংকজ-অরূপ

রাঙামাটির ঐতিহ্যবাহি শ্রী শ্রী রক্ষা কালিমন্দির এর নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। গত রবিবার অনুষ্ঠিত এক …

Leave a Reply