ব্রেকিংরাঙামাটি

নিজের ওয়ার্ডে সেই ‘আলোচিত ডাস্টবিন’ বসালেন প্যানেল মেয়র !

অথচ ‘ময়লা না ফেলার ঘোষণা’ মেয়রের !

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও রাঙামাটি পৌরসভার ‘ডাস্টবিন’ বিতর্কের মধ্যেই জানা গেলো,খোদ পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জামালউদ্দিন তার ওয়ার্ডের সাতটি স্থানে বসিয়েছেন সেই ‘আলোচিত ডাস্টবিন’।

করোনাকালে সবচে সক্রিয় পৌরসভার তরুন এই কাউন্সিলর বলেন, ‘আমার এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য যদি কেউ ব্যক্তিগত অর্থায়নেও কোন সহযোগিতা করতে চায়, আমি সেটা নিব। কারণ আমাকে যারা নির্বাচিত করেছে,তাদের প্রতি দায়বদ্ধতা আছে আমার।’

নিজের ওয়ার্ডের সাতটি স্থানে ( আলিফ মার্কেটের সামনে,কাঠালতলি এলাকায়,আলম ডকইয়ার্ডে,শহীদ সাংবাদিক আব্দুর রশীদ সড়কের মুখে,বনরূপা জামে মসজিদের সামনে,বনরূপা বাজারের প্রবেশমুখে এবং বনরূপা কবরস্থানের সামনে) সাতটি ডাস্টবিন গত বুধবার স্থাপন করার বিষয়টি জানিয়েছেন তিনি।

জামালউদ্দিন বলেন, জেলা পরিষদ সদস্য এবং জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মুছা মাতব্বর জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে শহরে ডাস্টবিন স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন দেখে, আমি নিজেই যোগাযোগ করে এসব ডাস্টবিন এনে নির্দিষ্টস্থানে বসিয়েছি। এর কারণে পৌরবাসি উপকৃত হবে। ডাস্টবিনগুলোর মানও বেশ ভালো। আমি জেলা পরিষদকে এই উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানাই।’

কিন্তু এসব ডাস্টবিন থেকে ‘মেয়র ময়লা ফেলবেন না’বলে যে ঘোষণা দিয়েছেন, সেই প্রসঙ্গে প্যানেল মেয়র বলেন, তিনি এটা কেনো বলেছেন আমি জানিনা। তবে ময়লা পরিষ্কার তো হতে হবে,কারণ পাবলিক যত্রতত্র ময়লা ফেললেও তো সেসব পরিষ্কার করার দায়িত্ব আমাদের। তার উপর নির্দিষ্টস্থানে ডাস্টবিন বসালে আমরাতো সেই ময়লা পরিষ্কার করতে বাধ্য। জনগণ সেই দায়িত্ব আমাদের দিয়েছে।’

তবে জেলা পরিষদের ডাস্টবিন বসানোর আগে পৌরসভাকে অবশ্যই জানানোর প্রয়োজন ছিলো বলে মনে করেন এই তরুণ জনপ্রতিনিধি। তিনি বলেন- যদি পৌরসভার সাথে আলোচনা করে বিষয়টি হতো,তবে সবচে সুন্দর হতো। এখন যেটা হয়ে গেছে, সেটার জন্য রাগ অভিমান ক্ষোভ না দেখিয়ে,ভবিষ্যতে যেনো এইরকম আর না হয়,সেটাই সবার জন্য মঙ্গলকর হবে।’ আর ডাস্টবিনগুলো যেখানে সেখানে না বসিয়ে কাউন্সিলরদের সাথে পরামর্শ করেই বসানো উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডাস্টবিন বসানো নিয়ে মেয়র আকবর ও জেলা পরিষদ সদস্য মুছা মাতব্বরের বিরোধ প্রসঙ্গে প্যানেল মেয়র জামালউদ্দিন বলেন- তারা দুজনই আমার নেতা এবং আমাদের বড় ভাই,অভিভাবক। আমি চাইব তাদের দুজনের মধ্যে কোন ভুল বোঝাবুঝি না থাকুক। যদি কোন সংকট তৈরি হয় আলোচনায় বসেই সেটার সুরাহা করতে হবে।’

তিনি বলেন, পৌর মেয়র যেমন আমার দলের,তেমনি জেলা পরিষদের যা নেতৃত্বে আছেন,তারাও আমাদের দলের। নিজেদের মধ্যে কাদাছোঁড়াছুঁড়ির সুযোগ নিবে অন্যরা। সবাইকে এটা বোঝা উচিত।’

পৌরসভার নিজের অর্থায়নে কেনা ৫০ টি ডাস্টবিনের ৪৫ টি কেনো এখনো স্টোরে পড়ে আছে,এমন প্রশ্নের জবাবে এই প্যানেল মেয়র বলেন-‘ এটা আমি জানিনা,মেয়র মহোদয় জানবেন। আমাকে বলা হয়েছে,এসব রাখা হয়েছে জরুরী প্রয়োজনে ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য। মেয়রের নির্দেশ ছাড়া এসব দেয়া যাবেনা। তবে আমি মনে করি দ্রুত এগুলো ব্যবহার করা উচিত।’

জামাল বলেন, ‘আমি সবসময় নিজের ওয়ার্ডের এবং পৌরবাসির পাশে থাকার চেষ্টা করি,তাই জেলা পরিষদ যখন ডাস্টবিন দিচ্ছে জেনেছি,আমি সাথে সাথেই যোগাযোগ করে সংগ্রহ করে নিজের ওয়ার্ডে বসিয়েছি। এটাতো অপরাধ হতে পারে না।’

প্রসঙ্গত,প্রায় সোয়া ছয়শ বর্গকিলোমিটার আয়তনের রাঙামাটি পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ডে ৯ জন কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত ৩ টি ওয়ার্ডের ৩ নারী কাউন্সিলর নিয়ে গঠিত হয় রাঙামাটি পৌরসভা, যার নেতৃত্বে থাকেন পৌর মেয়র। আসছে ডিসেম্বরেই মেয়াদপূর্ণ হতে যাওয়া রাঙামাটি পৌরসভার বর্তমান পরিষদের মেয়রসহ ১৩ জন সদস্যের মধ্যে ৯জন সদস্যই ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। বর্তমান করোনা সংকটকাটে সবচে সক্রিয় কাউন্সিলর হিসেবে ইতোমধ্যেই শহরবাসির মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন শহরের প্রাণকেন্দ্র বনরূপার নির্বাচিত তরুণ কাউন্সিলর জামালউদ্দিন।

উল্লেখ্য যে, রাঙামাটি পৌরসভার সাথে আলোচনা ব্যাতিরেকেই শহরের বিভিন্নস্থানে ৪০ টি অস্থায়ী ডাস্টবিন বসিয়েছে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ, এমন অভিযোগের পর এইসব ডাস্টবিন থেকে ময়লা না ফেলার ঘোষণা দেন পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী। এর জবাবে ‘পৌরট্যাক্স না দেয়া’ এবং ‘ময়লা পৌরসভার সামনে ফেলার’ হুমকি দিয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি ও জেলা পরিষদের প্রভাবশালী সদস্য হাজী মুছা মাতব্বর। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় হয়েছেন দুই নেতার অনুসারিরা। সিনিয়রদের বিরোধে ‘জুনিয়র’ কর্মীদের ‘ নেতিবাচক’ অংশগ্রহণকে যদিও ‘দু:খজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতারা। ‘দুই নেতার বিরোধ’ আলোচনায় মিটিয়ে নেয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

8 + 4 =

Back to top button