করোনাভাইরাস আপডেটব্রেকিংরাঙামাটিলিড

নিজের ঈদ খরচের টাকা ডিসি’র ত্রাণ তহবিলে দিলো দীঘি

করোনা ঝুঁকিতে বিশ্বব্যাপী এখন করুণ অবস্থা চলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব এখন সঙ্কটময় পরিস্থিতি অবস্থায় পড়তে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের হিসেবে, করোনার প্রভাবে এশিয়ার প্রায় আড়াই কোটির মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে চলে যাবে। বর্তমানে দেশেও করোনা ঝুঁকি এড়াতে অঘোষিত লকডাউন চলছে। এতে নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো উপার্জন করতে না পেরে খেয়ে দেয়ে দিন কাটাচ্ছে। তবে এসব নিম্নবিত্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশও রয়েছে। যার জন্য কাজ করে যাচ্ছে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা। বিভিন্ন সংস্থা তাদের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সাধারণ মানুষের জন্য। এরই মধ্যে রাঙ্গামাটির এক স্কুল শিক্ষার্থীর সাহায্য সকলকে অবাক করে দিয়েছে। কিছুদিন পরই শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। তার পরেই পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের হাত খরচের জন্য ক্ষুদে এক শিক্ষার্থী তার জমানো টাকা তুলে দিয়েছেন জেলা প্রশাসকের ত্রাণ তহবিলের। রাঙ্গামাটির লেকার্স স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফরা সাইরা দীঘি ঈদের জন্য জমানো এই টাকা তুলে দিয়েছেন জেলা প্রশাসকের হাতে।

এ বিষয়ে আফরা সাইরা দীঘি বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে দেশ এখন সঙ্কটময় দিন কাটাচ্ছে। আমাদের এলাকারও অনেকেই ভালোভাবে খেতে পারছে না। কথাগুলো শুনে আমার নিজেরও খুব খারাপ লাগে। তাই নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এবার ঈদের হাত খরচের জন্য যে টাকা সেটা কাপড় না কিনে এসব মানুষদের খাবারের জন্য দিতে পারলে নিজের অন্তত একটু হলেও ভালো লাগবে। আমার যে টাকা জমেছে, সেটা বেশি নয়, তবে সবাই যদি এভাবে একটু একটু করে এগিয়ে আসে, তবে কাউকে অন্তত ক্ষুধাপেটে থাকতে হবে না। দীঘি আরো বলেন, আমি সবাইকে অনুরোধ করবো যারা ঈদে খরচের জন্য টাকা জমাচ্ছেন কিংবা বেশি টাকা যাদের রয়েছে তারা যেন মানুষের পাশে দাঁড়ায়।

দীঘির মা ডালিয়া পারভীন বলেন, আমার মেয়ে প্রতিবছরই ঈদের হাত খরচের জন্য কিছু টাকা জমায়। গত বছরও ঈদের যে সালামি পেয়েছে আর আমাদের থেকে পাওয়া অর্থ সে জমাচ্ছিল। এবার করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষের অসহায়ত্বের কথা শুনে দীঘি নিজেই সিদ্ধান্ত নিলো সে তার জমানো টাকা নিম্নবিত্তদের সহায়তায় তুলে দিবে। আমার মেয়ে এমন কর্মকান্ডে সত্যিই আমি খুব খুশি। আমি ওকে নিয়ে গর্ববোধ করছি।

জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ ক্ষুদ্র শিক্ষার্থীর এই অনুদানে বিমোহিত হয়ে বলেন, একজন ক্ষুদ্র শিক্ষার্থী যদি এরকম উদার চিন্তা করতে পারে, তবে সমাজের প্রত্যেকেই আরো বেশি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, তার সহযোগিতা আমার কাজে গতি আরো কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিলো। আমি তার এই মানসিকতাকে স্বাগত জানাই। দশ হাজার টাকার এই অনুদান দিয়ে আমি অন্তত দশটি পরিবারের হাতে খাদ্য সহায়তা তুলে দিতে পারবো।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button