ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

নিজের অফিসও খুঁজে পাচ্ছে না স্টোর ইনচার্জ শাহাদাতকে !

চেক প্রতারণা মামলায় কারাভোগের পরও সরকারি চাকুরিতে বহাল তবিয়তে

সরকারি চাকুরির বিধিমালা অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধে কোন আসামি কারাভোগ করলে সেটি অফিসকে অবগত করতে হয় এবং মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আসামি বরখাস্ত থাকবেন। কিন্তু চেক প্রতারণা মামলায় চারদিন কারাভোগের পরও চাকরি বহাল তবিয়তে রেখে ঘুরে বেড়াচ্ছেন রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের স্টোর ইনচার্জ শাহাদাৎ হোসেন। এদিকে অফিসে উপস্থিত না হওয়ায় এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকায় কর্মকর্তারাও ‘খুঁজে পাচ্ছেন না’ তাকে!

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানিয়েছে, গত ১৪ অক্টোবর লিটন চাকমা নামের বাঘাইছড়ির স্থানীয় এক ব্যক্তির করা চেক প্রতারণার মামলায় (মামলা নং ১৮১/২০২০) আদালতে হাজিরা দিতে গেলে বিজ্ঞ আদালত আসামি শাহাদাৎ হোসেনের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। চারদিন কারাভোগের পর ১৮ অক্টোবর জেল থেকে জামিনে বের হয়ে আসেন। এদিকে মামলা সংক্রান্ত কোনো ধরনের তথ্য তিনি অফিসকে জানাননি বলে জানিয়েছে অফিস কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে অফিসে তার অনুপস্থিতির বিষয়টিও কেউ জানতে চায়নি শাহাদাৎ এর কাছ থেকে। অফিসের কেউ তার সম্পর্কে কোন তথ্যই জানেন না বলে দায় এড়িয়ে যেতে চাচ্ছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।

অভিযোগ রয়েছে, পূর্বের দিন থেকেই অনিয়মিত অফিস করেন শাহাদাৎ। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তার বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি অফিস কর্তৃপক্ষ। কারা ভোগের আগে ও পর থেকে তিনি অফিসেও যাচ্ছেন না। স্টোরের চাবি শাহাদাৎ এর কাছে থাকার কারণে জেলা অফিস থেকে ওষুধসহ বিভিন্ন মালামাল পাঠানো যাচ্ছে না। এমনকি বাঘাইছড়ি স্টোর থেকে কোন ওষুধ সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এমন অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের স্বাভাবিক চিকিৎসা সেবাও ব্যাহত হচ্ছে।

লিটন চাকমা তাঁর দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ও ধার হিসেবে তার কাছ থেকে বিশ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন শাহাদাৎ হোসেন। এ বিষয়ে লিটন চাকমা বলেন, শাহাদাৎ আমাকে চাকরি দিবে ও ধার হিসেবে বিশ লাখ টাকা নেয়। আমি যখন জানতে পারি সে প্রতারণা করছে আমার সাথে এবং চাকরি দিতে পারবে না তখন তাকে চাপ দিই। কিন্তু শাহাদাৎ টাকা আজ দিবে কাল দিবে করে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। পরে বাধ্য হয়ে আমি মামলা করি। মামলায় প্রথম দফায় আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেলে পাঠায়। কিন্তু জেল খাটা আসামি কি করে সরকারি চাকরিতে বহাল থাকে তা আমার বোধগম্য নয়। আমি এখন অর্থাভাবে অনেক কষ্টে দিনযাপন করছি।

শুধু লিটন চাকমাই নয় অর্থ প্রতারণার এমন অভিযোগে শাহাদাৎ এর বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা আদালতে চলমান আছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম বলেন, আইন অনুযায়ী, ফৌজধারী অপরাধে কোন আসামি কারাভোগ করলে উক্ত মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিধান আছে।

প্রভাব বিস্তার করতেই নিজেকে ‘নেতা’ দাবি
জানা গেছে, শাহাদাৎ হোসেন সরকারি চাকরি করেও বিভিন্ন সংগঠনের নেতা হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন; যাতে করে তিনি প্রভাব বিস্তার করতে পারে। কখনো নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড রাঙামাটি জেলার সভাপতি দাবি করেন আবার কখনো মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ রাঙামাটি জেলার সাধারণ সম্পাদক বলেও নিজের পরিচয় দেন।

এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড রাঙামাটি জেলার আহŸায়ক নূর আজাদ চৌধুরী বলেন, ‘আমি শাহাদাৎ’কে চিনি না। তবে শুনেছি সে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি পরিচয় দেয়। সন্তান কমান্ডের রাঙামাটি জেলার সে কেউ নয়। সে নিজেকে সন্তান কমান্ডের সভাপতি বলে দাবি করে, যার জন্য সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটি তার কমিটি অবৈধ বলে একটি চিঠিও দিয়েছে। প্রতারণার সুবিধার্থে হয়ত এমন সংগঠনের নাম ব্যবহার করছে সে।’

এদিকে রাঙামাটি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক শারমিন আক্তার সোমা বলেন, ‘শাহাদাৎ হোসেনের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কোনো সম্পর্ক নেই। আমি নিজে রাঙামাটি জেলা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক।’

শাহাদাৎ’কে ‘খুঁজে পাচ্ছেন না’ কর্মকর্তারাও !
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. বেবী ত্রিপুরা বলেন, আমিও বিষয়টি শুনছি। এ বিষয়ে আমাদের উপপরিচালক বিষয়টি দেখছেন। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বেগম শাহানেওয়াজ বলেন, বাঘাইছড়িতে বিভিন্ন জন থেকে টাকা-পয়সা জালিয়াতির অভিযোগের বিষয়ে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মতামত চেয়ে একটা ফাইল জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নিকট পাঠিয়েছি। তবে কোন মামলায় শাহাদাৎ জেলে গিয়েছিল সে রকম কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই। কেউ আমাদের বিষয়টি জানায়নি।

তিনি বলেন, শাহাদাৎ’কে ফোন করলে সে ফোন ধরে না। সে কোথায় থাকে তা জানিও না। জেলা অফিস থেকে মালামাল পাঠাতে চাচ্ছি তাও পাঠাতে পারছি না তার কারণে। বিরক্তের সুরে তিনি বলেন, তার কথা আর কি বলবো? তবে তার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে বিষয়ে অভিযুক্ত শাহাদাৎ হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিক বার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button