রাঙামাটিলিড

নিখিল ফিরেছেন, অন্য পরিচয়ে…

পথে পথে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত

সুহৃদ সুপান্থ
সাত সকালে রাজধানীর বাসা থেকে বেরিয়ে দুপুর গড়ানোর আগেই নিজের শহরে ফিরেছেন তিনি। গত ক’বছর ধরেই ঢাকাতেই সপরিবারে বসবাস তার। নিয়মিত আসা যাওয়া করেন রাঙামাটি ও ঢাকায়। তবে এবারের ফেরাটি অন্য আট দশবারের মতো নয়। শহরজুরে ছিলো তাকে ঘিরে নানান আয়োজন। এই প্রথম শহরে প্রবেশ করে নিজের বাসায় নয়, উঠেছেন রেস্ট হাউজে,উপস্থিত ছিলো সরকারি গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা কর্মচারিরাসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীরাও। সেখানে আড়ম্ভরপূর্ণ বরণের পর বেরিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে পুষ্পমাল্য অর্পনের পর রওনা হন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে,যেখানে আগামী দুই বছর অন্তত তার অভিভাবকত্ব এবং নেতৃত্বই চলবে। পথে পথে যেনো ফুলশয্যা পাতা,চলতি পথে গাড়ি থামিয়ে একের পর এক ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত মুজিবকোট পরিহিত নিখিলের চোখে মুখে যেনো আলোর ঝিলিক !
অথচ ছয় বছর আগে, যেদিন দ্বিতীয় মেয়াদে পার্বত্য রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে পুনর্নিয়োগ পেতে ব্যর্থ হন,তখন জীবনের অন্য চেহারাই দেখেছিলেন স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ নিখিল। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থাকাকালে যাদের জন্য অবারিত ছিলো তার হাত, তার হাত ধরেই দিন বদলেছে যাদের, সেই তাদেরকেই দেখা মিলল নতুন চেয়ারম্যান বৃষ কেতু’র পেছনে ! নিখিলকে ভুলে তারা মজেছেন বৃষ কেতুতে,পুরো ছয়টি বছর ! কী আশ্চর্য, গত ছয় বছরের রাজনীতির দু:সহ চেহারা দেখা শেষে ফের সুদিন ফিরল জীবনে, সোমবার যখন নিজের চিরচেনা শহর, জন্মভূমিতে ফিরলেন নিখিল,সেই দু:সময়ে সরে থাকা মুখগুলোই ফের তার পেছনে ! শহরবাসি অবাক বিস্ময়ে দেখলেন,রাজনীতির মাঠের দ্রুত লয়ে চেহারা পাল্টানো মুখগুলোকে,আরো একবার !
সোমবার মধ্যাহ্নে শহরের প্রবেশ পথেই মানিকছড়ি ভেদভেদী,কলেজ গেইট,দেবাশীষ নগর, হাসপাতাল মুখ, কেকে রায় সড়ক, রাজবাড়ি, কোর্ট বিল্ডিং, হ্যাপির মোড়,বনরূপা,কাঠালতলী,পুরাতন বাস স্টেশন, প্রেসক্লাব মোড়ে দাঁড়ানো দলীয় নেতাকর্মী,স্থানীয় ব্যবসায়ি,সংবাদকর্মী এবং নানান শ্রেণী পেশা ক্লাব সংগঠনের ফুলেল শুভেচ্ছা নিয়ে শহীদ মিনারে পুস্তস্তবক দিয়ে নিজের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন তিনি। পুরোটা সময়ই তাকে ঘিরে তার পাশে ছিলেন পাহাড়ী এই শহরের রাজনীতিতে বারবার চেহারা পরিবর্তন করা মুখগুলোই।
রাজনীতিবিদের জীবনজুরে ঝড় আসে,সেই ঝড়ে উল্টেপাল্টে যায় জীবন এবং রাজনীতি। কেউ ঘুরে দাঁড়ায়,কেউবা প্রতীক্ষায় থাকে বাঁক বদলের। কেউবা ধ্বসে-ক্ষয়ে বিধ্বস্ত হয়ে যায় আবার কেউবা ফিনিক্স পাখির মতো ধ্বংসস্তুপ থেকে বেরিয়ে আসে ফের জয়ের দৃপ্ত শপথে। নিখিল কি তবে ফিনিক্স পাখি ? তিনি কি ঘুরেই দাঁড়াচ্ছেন ? যদি তাই হয়,তবে আগামী দিনের পাহাড়ের রাজনীতি বহু দৃশ্যেরই অবতারণা করবে, দারুন রূপ রস গন্ধ সুধা নিয়েই।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button