পাহাড়ের রাজনীতিলিড

নিখিলকে ‘সতর্ক’ শুভ কামনা ওয়াদুদ’র

অনির্বাচিত রাজনীতিবিদ নিয়োগ ‘ভালো হয়নি’

সুহৃদ সুপান্থ

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া নিখিল কুমার চাকমাকে সতর্ক ‘শুভকামনা’ জানিয়ে বিষয়টি ‘ভালো হয়নি’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াদুদ ভূঁইয়া।

নিখিলের নিয়োগে বিষয়ে তিনি বলছেন-‘অনির্বাচিত’ আমলাদের হাত ধরে পথ চলা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি নব্বই এর দশকের শেষাংশে এসে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে প্রত্যার্পনের মধ্য দিয়ে যে গনতান্ত্রিকতা ও দায়বদ্ধতা শুরু হয়েছিলো,তাকেই বাধাগ্রস্ত করার প্রয়াস এটি এবং এ কাজটি ‘ভালো হয়নি’।

বোর্ডের ২০০২ থেকে ২০০৬ মেয়াদে,খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। নানা কারণে আলোচিত এই নেতা বর্তমানে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয়ভাবে বাঙালী জনগোষ্ঠির কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন- যদি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এই দায়িত্ব পালন করতেন,তবে তার সামাজিক,রাজনৈতিক ও জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা থাকত,যেটা বর্তমান চেয়ারম্যানের থাকবে না। কারণ তিনি নির্বাচিত নন।’ অনির্বাচিত আমলাদের মতোই তিনিও অনির্বাচিতই,যাদের জনগণের সাথে ন্যুনতম সম্পর্ক নেই,বরং নানা কারণেই বেশ দুরত্ব থাকে। অনির্বাচিত আমলা আর রাজনীতিবিদ অনেকটা একই রকম। তবুও আমলাদের তো নিজের চাকরির প্রতি অন্তত দায়বদ্ধতা থাকে কিংবা অনির্বাচিত রাজনীতিবিদের সেটা থাকেনা।’

পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কমকে ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন-‘ যিনি চেয়ারম্যান মনোনীত হলেন,তিনি আগে যে ছোট প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছিলেন চেয়ারম্যান হিসেবে,সেখানে তো তিনি সফল ছিলেন না। বরং জেলা পরিষদগুলোর বিরুদ্ধে যে নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডারবাজিসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ জনমানসে বহুল প্রচারিত,তার ভিন্ন কিছু করে তিনি দেখাতে পারেননি,তার বিরুদ্ধেও একই ধরণের অভিযোগ ছিলো। সুতরাং কোন সাফল্যের পালকের কারণে তাকে তিন পার্বত্য জেলার সবচে বড় প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব দেয়া হলো তা আমার বোধগম্য নয়।’

তবুও নিখিল কুমার চাকমা তার দুই বছরের মেয়াদে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের যে ইতিবাচক ইমেজ আছে তা ধরে রেখে নষ্ট হতে দেবেন না’ এমন আশাবাদের কথা জানিয়ে ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন-‘ জেলা পরিষদে নেতিবাচক যা যা করা সম্ভব হয়েছে এখানে ( উন্নয়ন বোর্ডে) তা সম্ভব নয়। কারণ এখানে বেশ কয়েকজন সচিব পদমর্যাদার সরকারের দায়িত্বশীল উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা আছেন,তাদেরকে ডিঙ্গিয়ে ব্যাপকভাবে অনিয়ম দুর্নীতি করা কঠিন বৈকি। এই বিষয়ে নতুন চেয়ারম্যানকেও ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক থাকতে হবে। তবে সারাদেশে যে লুটপাটতন্ত্র চলছে,তাতে উন্নয়ন বোর্ডও যদি জেলা পরিষদগুলোর মত হয়ে যায়,অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।’

ভবিষ্যতে উন্নয়ন বোর্ডে চেয়ারম্যান নিয়োগে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি প্রায়োধিকার দেয়ার আহ্বান জানিয়ে ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলছেন, তবুও আমি প্রত্যাশা করি,নতুন মনোনীত চেয়ারম্যান তিনি পার্বত্য জেলায় সুষম উন্নয়নে আন্তরিক ভূমিকা রাখবেন।’

প্রসঙ্গত, ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০০৬ সালের ২২ নভেম্বর পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন সেই সময় খাগড়াছড়ি থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত ওয়াদুদ ভূঁইয়া,যার হাত ধরেই প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ভবনটির কাজ শুরু হয়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button