ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

নাম বাদ পড়ার ভয়ে আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়ছেন না অনেকেই

রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড়ধসে কারো বাড়িঘর একেবারেই ধসে গেছে কারো বা আবার আংশিক। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের ঠাঁই হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে। তিন হাজারের অধিক লোকজন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিলেও ঈদের পর থেকে তা কমে এসে দাঁড়ায় দেড় হাজারে।

পাহাড়ধসের দেড় মাস অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত অনেকেই থেকে গেছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। বাড়িঘর হারিয়েছেন এমন অনেকেই ভাড়া বাসা কিংবা আত্মীয়-স্বজনের বাসায় সাময়িক আশ্রয় নিলেও এখনো পর্যন্ত ছয়টি আশ্রয় কেন্দ্রে দেড় হাজারের মত লোকজন অবস্থান করছেন।

শনিবার সরেজমিনে আশ্রয় কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনে গিয়ে কথা হয় ক্ষতিগ্রস্ত এসব লোকজনের সাথে। রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের নবনির্মিত ছাত্রাবাসের আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে কথা হয় আশ্রয় নেয়া লোকজনের সাথে। এতোদিন কেনই বা আশ্রয় কেন্দ্রে পড়ে আছেন। এমন প্রশ্নের জবাবে সহজ-সরল জবাব দেন ‘আশ্রয় কেন্দ্র থেকে চলে গেলে তালিকা থেকে নাম বাদ পড়বে, আর তাইতো কষ্ট হলেও আশ্রয় কেন্দ্রে থাকছি’। ষাটোর্ধ দিলোওয়ারা বেগম, সাদিয়া খাতুন, আরফা বেগম, পঞ্চাশোর্ধ নুরজাহান বেগম ও আশির্ধো আবদুল আলীর মুখে একই কথা।

শহরের মন্ত্রীপাড়া এলাকার বয়োবৃদ্ধ আবদুল আলী সস্ত্রীক পাহাড়ধসের পর আশ্রয়কেন্দ্রেই আশ্রয় নিয়েছে। তার বাসার উপর একটি গাছ ভেঙ্গে পড়েছে। এতে ঘরের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবদুল আলী আশ্রয় কেন্দ্রে থাকতে অস্বস্থিবোধ করছে। তিনি জানান, ‘এখানে হৈচৈয়ের মধ্যে ভাল লাগেনা। ভালোমত নামাজও আদায় করতে পারিনা। বাসা তেমন একটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বাসায় থাকলে ঠিকমত নামাজও পড়তে পারতাম। কিন্তু বউয়ের কথায় আশ্রয় কেন্দ্রে থাকতে হচ্ছে। বউ বলছে আশ্রয় কেন্দ্রে না থাকলে তালিকা থেকে নাম বাদ পড়বে’। একই কথা আবুল কালাম, খাদিজা বেগম, শামসুন নাহার, ও জয়নাল আবেদিনের।

কলেজ গেইট এলাকার নুরজাহান বেগম বিশ বছর ধরে ভাড়া থাকতেন মোঃ আলীর বাসায়। দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। তাই বৃদ্ধ স্বামীকে নিয়ে ওই বাসাতেই থাকতেন তিনি। পাহাড়ধসে মোঃ আলীর বাড়িঘর ভেঙ্গে গেছে। আর তখন থেকেই আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে স্বামী-স্ত্রী দুজন। নুরজাহান বেগম বলেন, আশ্রয় কেন্দ্রে আছি বলে অন্তত দু’বেলা খেতে পারছি।
আশ্রয়কেন্দ্রে এসে দিনে ও রাতের বেলায় খাবার নিয়ে যান কিন্তু রাতে আশ্রয় কেন্দ্রে থাকেননা এমন সংখ্যাও কম নয়। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত এসব লোকজন ঘরেই আছেন কিন্তু তারপরেও কেনো আশ্রয় কেন্দ্রে এসে খাবার নিয়ে যান এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, একদিন আশ্রয় কেন্দ্রে না এলে তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ যাবে। ক্ষতিপূরণ পাবেন না। তাই তারা আশ্রয় কেন্দ্রে আসেন নিয়মিত। কলেজ গেইট এলাকার রাজমিস্ত্রী নজরুলের বউ সায়মা, শিমুলতলির ছগির, রুমির একই জবাব। রুমির বোন কুলসুম জানায়, ‘আমরা পরিবারের মোট আটজন, আমার বোনের দুই ছেলে মেয়ে, আশ্রয় কেন্দ্রে প্রতিদিন এসে খাবার নিয়ে যায়। কারণ আশ্রয় কেন্দ্রে না আসলে তালিকা থেকে নাম বাদ যেতে পারে, তাই প্রতিদিন এসে খাবার নিয়ে যায়’। তাদের দাবি জেলা প্রশাসক থেকে এসে যদি কেউ আশ্রয় কেন্দ্রে না থাকলেও ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয়টি তাদের আশ^স্থ করা হয় তবে তারা ঘরে ফিরে যাবেন।

রাঙামাটি জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান বলেন, আশ্রয় কেন্দ্রে যারা অবস্থান নিয়েছেন তারা যদি মনে করেন আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে চলে গেলে তালিকা থেকে নাম বাদ পড়বে। এটা ভুল ধারনা। তালিকায় যাদের নাম রয়েছে বর্ষা মৌসুম শেষে প্রত্যেককে পুনর্বাসন করা হবে। তালিকা অনুযায়ী প্রত্যেককে সহযোগিতা করা হবে বলে জানান জেলাপ্রশাসক।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button