নীড় পাতা / পাহাড়ের রাজনীতি / নানিয়ারচর : নেতৃত্বে নিখিল অনুসারিরা,ভোটে হেরে বিদায় ত্রিদিবের !
parbatyachattagram

নানিয়ারচর আওয়ামীলীগে নয়া মেরুকরন ঘিরে নানান প্রশ্ন

নানিয়ারচর : নেতৃত্বে নিখিল অনুসারিরা,ভোটে হেরে বিদায় ত্রিদিবের !

রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের আগামী ২৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য জেলা সম্মেলনের আগেই একে একে শেষ হচ্ছে পুরো জেলার ওয়ার্ড,ইউনিয়ন,উপজেলার সম্মেলন। ইতোমধ্যেই অর্ধেকের বেশি উপজেলার সম্মেলনই শেষ হয়েছে কোন প্রকার চমক কিংবা সংঘাত সহিংসা ছাড়াই।

তবে শুক্রবার জেলার নানিয়ারচর উপজেলা সম্মেলনে ঠিকই চমকে দেয়া ফলাফল নির্বাচিত হয়েছে নতুন নেতৃত্ব। এই উপজেলায় দীর্ঘদিন আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পদে থেকে দায়িত্ব পালন করা রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ত্রিদিব কান্তি দাশ ভোটযুদ্ধে পরাজিত হয়েছেন তারই সাধারন সম্পাদক হিসেবে এতোদিন দায়িত্ব পালন করে আসা আব্দুল ওয়াব হাওলাদারের কাছে। শুধু তাই নয়, সাধারন সম্পাদক পদেও এসেছে চমক। ছাত্রলীগ-যুবলীগ হয়ে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে আসা তরুণ রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট দর্শন চাকমা ঝন্টুকে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছেন ব্যবসায়ি হিসেবেই বেশি পরিচিত এলিপন চাকমা। নানিয়ারচর আওয়ামলীগের কাউন্সিলের এই ফলাফলে চমকে গেছেন পুরো জেলার আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরাই। এনিয়ে দলটির বিভিন্নস্তরের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে পাওয়া গেছে বিচিত্র সব তথ্য।

জানা গেছে, কাউন্সিলে সভাপদি পদে ত্রিদিব কান্তি দাশ পেয়েছেন ৭৬ ভোট।অন্যদিকে বিজয়ী আব্দুল ওয়াব হাওলাদার পেয়েছে ৮৭ ভোট।ভোটের ব্যবধান ১১। অন্যদিকে সাধারন সম্পাদক পদে বিজয়ী এলিপন চাকমা পেয়েছেন ১০৫ ভোট এবং তার প্রতিদ্ব›িদ্ধ দর্শন চাকমা ঝন্টু পেয়েছেন ৫৩ ভোট। কাউন্সিলে উপস্থিত ছিলেন এমন কয়েকজন নেতাকর্মী জানিয়েছেন, জেলা পরিষদ সদস্য হিসেবে সভাপতি ত্রিদিব কান্তি দাশের নেতাকর্মীদের সাথে দুরত্ব তৈরি হওয়া,জনবান্ধব কর্মসূচী পালনে ব্যর্থতা,তার দায়িত্বকালিন সময়ে এই উপজেলায় ভোটের রাজনীতিতে নৌকার সাফল্য না পাওয়া,সাধারন সম্পাদক আব্দুল ওয়াবের সাথে বিরোধ এবং নানিয়ারচর আওয়ামীলীগের রাজনীতির ‘অদৃশ্য নিয়ন্ত্রক’ ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমার আশীর্বাদ সড়ে যাওয়ার কারণেই মূলত: নির্বাচনী যুদ্ধে হেরে পদ খোয়ালেন সিনিয়র এই আওয়ামীলীগ নেতা।

তবে উপজেলার ইউপিডিএফ নিয়ন্ত্রিত সাবেক্ষ্যং এবং ঘিলাইছড়ি ইউনিয়ন’র ‘আতিক্যা আওয়ামীলীগ’ এর ভোটেরই জয় পরাজয়ের পার্থক্য তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন কাউন্সিলরদের অনেকেই। এর পেছনে জেলা আওয়ামীলীগের হয়ে নির্বাচন পরিচালনা করাদের ভূমিকা নিয়েও তৈরি হয়েছে নানান প্রশ্ন।

তবে কি নানিয়ারচরের রাজনীতিতে শেষ হলো ত্রিদিব কান্তি দাশ অধ্যায় ?

অভিযোগ উঠেছে, সাবেক্ষ্যং এবং ঘিলাছড়ি থেকে যারা কাউন্সিলর হিসেবে অংশ নিয়েছেন তাদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও। সাবেক্ষং এ ২০১২ সালে কমিটি গঠনের পর আজ অবধি আর সম্মেলন করতে পারেনি আওয়ামীলীগ আর ঘিলাছড়ি এই সম্মেলনের আগে সম্মেলন করতে গিয়ে নেতাকর্মী অংশগ্রহণকারি মিলে সর্বমোট জমায়েত ছিলো ২৮ জন ! এদের মধ্যে বিগত কমিটির ছিলেন মাত্র ১৭ জন। অথচ উপজেলা কাউন্সিলে এই দুই ইউনিয়নের ৬২ জন কাউন্সিলর কোটায় ৫৮ জনই অংশ নিয়েছে ! আবার সাবেক্ষ্যং এর কাউন্সিলররা প্রথম অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন না,দ্বিতীয় অধিবেশনে যোগ দিয়ে ভোট দিয়েছেন এবং ঘিলাছড়ির কাউন্সিলরদের রাঙামাটি শহরের একটি স্থানে একসাথে রাখার অভিযোগ উঠেছে। সাবেক্ষং এবং ঘিলাছড়ির কাউন্সিলর নিয়ে ছিলো তীব্র বিরোধও। এনিয়ে গত ২৩ অক্টোবর দীপংকর তালুকদারের বাসায়ও স্থানীয় নেতাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও ভিন্নমত হয় বলে দাবি করেছে দায়িত্বশীল একটি সূত্র।

পরাজিত সভাপতিপ্রার্থী ত্রিদিব কান্তি দাশ বলেছেন, আমি কিছু বলতে চাইনা। অনেক কথাই বলার আছে। সাবেক্ষ্যং এবং ঘিলাছড়ির যারা কাউন্সিলর হয়ে এসে ভোট দিয়েছে,আমি তাদেরকে চিনিও না,তারা যে আওয়ামীলীগ করে সেটাও জানিনা। এখন তাদের ভোটেই যদি জয় পরাজয় নির্ধারিত হয়,তবে কিইবা আর করার আছে।’

সাধারন সম্পাদক পদে পরাজিত অ্যাডভোকেট দর্শন চাকমা ঝন্টু বলেন, টাকার কাছে হেরে গেলো ত্যাগ আর আদর্শ। দু:খ হলো যাদের ভোটে হেরেছি,তারাতো আওয়ামীলীগের কেউ নয়,ইউপিডিএফ’র লোক। এলিপন আর নিখিল বাবু’রা যাদের কাউন্সিলর করে এনেছেন তারা আওয়ামীলীগের কেউ কিনা,এটা নানিয়ারচরবাসিকে আপনারা জিজ্ঞেস করে দেখেন।

তবে বিজয়ী সভাপতি আব্দুল ওয়াব হাওলাদার সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ‘ এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ। ত্রিদিব কান্তি দাশ জেলা পরিষদ সদস্য হওয়ার পর নেতাকর্মীদের জন্য কিছুই করতে না পারায় তাদের সাথে তার দুরত্ব তৈরি হয়েছে,সেই কারণেই তিনি পরাজিত হয়েছেন।’ সাবেক্ষ্যং এবং ঘিলাছড়ির কাউন্সিলরদের বিষয়ে তিনি বলেন,সেখানে এবার আমরা সম্মেলন বা কাউন্সিল করতে পারিনি,এটা সত্য,তবে ২০১২ সালে সেখানে যে কমিটি হয়েছিলো,তারাই ভোট দিয়েছে। আর ঘিলাছড়িতেও কদিন আগে কাউন্সিল করে যে কমিটি হয়েছে তারাই ভোট দিয়েছে।’ কাউন্সিলে বা নানিয়ারচরের রাজনীতিতে নিখিল কুমার চাকমার প্রভাব প্রতিপত্তি অস্বীকার করে তিনি বলেন,‘কাউন্সিলরদের ভোটেই কমিটি হয়েছে,শুধু শুধুই একজন ব্যক্তির উপর দোষ চাপানো ঠিক নয়।’

এদিকে নানিয়ারচরের কাউন্সিল ভাবনায় ফেলেছে রাঙামাটির জেলা নেতাদেরও। নিজেদের ভবিতব্য নিয়েও শংকার পড়েছেন তারা। এর মধ্যে লংগদু,কাপ্তাই উপজেলার নেতারাও নিজেদের নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তবে নানিয়ারচরের নেতৃত্বে ওহাব ও এলিপন আসায়,জেলা রাজনীতিতে সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমার প্রভাব যে আরো কিছুটা বাড়লো,সেকথা বলাই যায়।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

তবলছড়ি কালিমন্দির পরিচালনার দায়িত্বে আশীষ-পংকজ-অরূপ

রাঙামাটির ঐতিহ্যবাহি শ্রী শ্রী রক্ষা কালিমন্দির এর নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। গত রবিবার অনুষ্ঠিত এক …

Leave a Reply