রাঙামাটিলিড

নতুন প্রেসক্লাব ছাড়লেন ৯ সাংবাদিক

পুরনো প্রেসক্লাবের হাতছানিকে দুষছেন সহকর্মীরা

সুহৃদ সুপান্থ
রাঙামাটির পুরনো প্রেসক্লাবের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে মাস ছয়েক আগে যাত্রা শুরু করা নতুন রাঙামাটি প্রেসক্লাব থেকে পদত্যাগ করেছেন সংগঠনটির ৯ জন সদস্য।

প্রায় ২৭ বছর পর রাঙামাটি প্রেসক্লাব,গত বছরের শেষার্ধে ৬ জনকে সদস্য করার পর টানাপোড়েন শুরু হয় রাঙামাটির সাংবাদিকদের মধ্যেই। এরই জেরে প্রেসক্লাবে আবেদন না করা ও ঠাঁই না পাওয়া ৩৮ জন সংবাদকর্মী মিলে গঠন করেন পৃথক আরেকটি প্রেসক্লাব,যার নামও রাখা হয় ‘রাঙামাটি প্রেসক্লাব’। শহরের নিউ কোর্ট বিল্ডিং এলাকায় তারা নিজেদের কার্যালয় স্থাপন করে সাইনবোর্ড সাঁটান। সেখানে নিয়মিতই নানান কর্মসূচী পালনের মধ্যে দিয়ে নিজেদের সক্রিয়তা প্রমাণ করছিলেন তারা। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে পদত্যাগ করলেন ৮ জন সংবাদকর্মী। একই দিন পৃথকভাবে সংগঠনটি ছেড়েছেন আরো ১ জন সদস্য। এনিয়ে এই সংগঠনে এখন সদস্য আছেন ২৯ জন।

পদত্যাগ করা সদস্যরা এক যুক্তি বিবৃতিতে জানিয়েছেন,‘ রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সদস্যভূক্তির জটিলতা নিরসনে প্রেসক্লাবের বাইরের সকল সাংবাদিক সংগঠনের সমন্বয়ে একটি ফোরামের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করলেও আমরা লক্ষ্য করছি,পৃথক আরেকটি ‘রাঙামাটি প্রেসক্লাব’ গঠনের মধ্য দিয়ে সাংবাদিকদের নিজেদের মধ্যকার কাদাছোঁড়াছুড়ি প্রকাশ্যে আসায় এনিয়ে সাধারন মানুষের মধ্যে হাস্যরস তৈরি হয়েছে,যাতে সাংবাদিকদের পেশার মর্যাদা ক্ষুন্ন হচ্ছে এবং সবার জন্য বিব্রতকর।’

বিবৃতিতে বলা হয়,সম্প্রতি পিআইবির একটি প্রশিক্ষনকে কেন্দ্র করে যেভাবে কয়েকজন সাংবাদিককে শোকজ করা হয়েছে,তা দু:খজনক।’ এই ঘটনাটিকে পেশাগত মানোন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে মন্তব্য করে নবসৃষ্ট প্রেসক্লাবকে ‘তথাকথিত প্রেসক্লাব’ দাবি করে সংগঠন ত্যাগের ঘোষণা দেন আট সাংবাদিক। পদত্যাগকারি এই আট সাংবাদিক হলেন-জিটিভি’র মিল্টন বাহাদুর, দেশটিভির বিজয় ধর,এসএসটিভির মোহাম্মদ সোলায়মান,একাত্তর টিভির উছিংসা রাখাইন কায়েস,আরটিভির ইয়াছিন রানা সোহেল,এশিয়ান টিভির আলমগীর মানিক,দৈনিক মানবকন্ঠের নুরুল আমিন এবং দৈনিক বাংলাদেশ কন্ঠের মোঃ শাহ আলম। পৃথক পদত্যাগপত্রে সংগঠনটি ছেড়েছেন যমুনা টিভির ফজলুর রহমান রাজন। একই দিনে মোট ৯ জন সাংবাদিক সংগঠনটি ছাড়লেন।

বিবৃতি দিয়ে পদত্যাগকারি সাংবাদিকদের একজন মোহাম্মদ সোলায়মান পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কমকে বলেন-‘ পুরনো প্রেসক্লাবের সদস্য অন্তর্ভূক্তি না করার প্রতিবাদে সকল সাংবাদিকদের স্বার্থ রক্ষায় যে ঐক্যবদ্ধতা তৈরি হয়েছিলো,গত কয়েকমাসে নানান বিতর্কিত কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে নিজেরাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সদস্য করার বিষয়ে মূল প্রেসক্লাবের সাথে সমন্বয় বা আলোচনা না করে,পৃথক আরেকটি প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠার হঠকারি প্রচেষ্টাতেই ব্যস্ত ছিলো কয়েকজন সদস্য। শুধু তাই নয়, তুচ্ছ কারণে মেসেঞ্জার গ্রুপ থেকে বের করে দেয়া, আপত্তি শব্দ ব্যবহার,শোকজ করা সহ নানা অসাংগঠনিক আচরণের মধ্য দিয়ে নতুন এই ক্লাব নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। তাই আমাদের যে ৮ জনকে শোকজ করা হয়েছে,আমরা একযোগে পদত্যাগ করেছি।’ সেই সাথে মূল প্রেসক্লাবের প্রতি আমি অনুরোধ করবে,পেশাদার সকল সাংবাদিক,যারা যোগ্য তাদের যেনো পর্যায়ক্রমে সদস্য হিসেবে নেয়া হয়। কারণ আমরা চাইনা সাংবাদিকদের মধ্যে বিভক্তি বা কলহ থাকুক।’

পৃথক আবেদনপত্রে পদত্যাগ করা যমুনা টিভির সাংবাদিক ফজলুর রহমান রাজন জানিয়েছেন-‘ আমি তিনটা কারণে পদত্যাগ করেছি। যেহেতু আমি রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারন সম্পাদক,একই সাথে আরেকটি ক্লাবে থাকা ভালো দেখায় না। এছাড়া সাংবাদিকদের মধ্যকার কাদাছোড়াছুড়িও ভালো লাগছে না এবং নিজের ব্যক্তিগত কারণে আমি সড়ে এসেছি। তবে যারা বিবৃতি দিয়ে পদত্যাগ করেছে,তাদের বিষয়টি তিনি কিছু জানেননা বলে জানিয়েছেন।

তবে একযোগে একই দিনে নয়জন সদস্যের পদত্যাগ করাটাকে পুরনো প্রেসক্লাবের ‘ডিভাইড এন্ড রুল পলিসি’ মন্তব্য করে নতুন প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক নন্দন দেবনাথ বলছেন-‘ এটাও আমাদের এক ধরণের বিজয়। কারণ প্রেসক্লাবের সদস্যভূক্তি না করার প্রতিবাদে আমরা পৃথক প্রেসক্লাব গঠন করে ওদের বেকায়দায় ফেলার কারণেই আজ তারা আরো সদস্য নিচ্ছে। যারা বিবৃতি দিয়েছেন,তারা প্রেসক্লাবের সদস্য হওয়ার টোপ গিলেই এটি করেছেন,হাতছানিতে মজেছেন। তবে তারা যেখানে আমাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো উচিত,সেখানে তারা আমাদের বিষয়ে অহেতুক বিতর্ক তৈরি করা অনুচিত। আমরা তাদের জন্য শুভকামনা জানাই এবং আমরাও চাই রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সদস্য করার এই ধারাবাহিতা অক্ষুন্ন থাকুক।’ বিবৃতিতে নতুন প্রেসক্লাব সম্পর্কে যেসব অভিযোগ এনেছেন আট সদস্য,সেগুলোকে ‘অহেতুক’ এবং ‘অপ্রয়োজনীয় আলাপ’ বলে মন্তব্য করেছেন নন্দন।

প্রসঙ্গত,আশির দশকে যাত্রা শুরু করা রাঙামাটি প্রেসক্লাব ১৯৯৭ সালে সর্বশেষ সদস্য নেয়ার দীর্ঘ ২৪ বছর পর মাস ছয়েক আগে নতুন করে সাতজনকে সদস্যভূক্তি করে। এর প্রতিবাদে পেশাদার সাংবাদিকসহ রাঙামাটিতে কর্মরত বাকি ৩৮ জন সাংবাদিক তাৎক্ষনিক একত্রিত হয়ে একই নামে আরেকটি প্রেসক্লাব গঠন করে। গত কয়েকমাস দুই প্রেসক্লাবের টানাপোড়েনে সৃষ্টি হয় বিব্রতকর পরিস্থিতি। বিপাকে পড়েন স্থানীয় রাজনীতিবিদ,প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি ও সাধারন মানুষও।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button