নীড় পাতা / পাহাড়ের সংবাদ / খাগড়াছড়ি / ধরা খেলেন এফসিপিএস ডিগ্রিধারী ‘ভূয়া ডাক্তার’
parbatyachattagram

ধরা খেলেন এফসিপিএস ডিগ্রিধারী ‘ভূয়া ডাক্তার’

দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সরলতাকে পুঁজি করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন সিফাত হাসান শাহিন। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে নিজেকে এমবিবিএস (ঢাকা), বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফসিপিএস (মেডিসিন) ও সিসিডি (বারডেম) মেডিসিন বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের সামনে জমিলা ফার্মেসিতে চেম্বার করে রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন তিনি। দীর্ঘ দিন প্রতারণার পর চিকিৎসকদের হাতেই ধরা খেলেন বিসিএস-এফসিপিএস ডিগ্রিধারী পরিচয় দেয়া এই ভুয়া চিকিৎসক।

বিষয়টি জানার পর শনিবার দুপুরে প্রতারক সিফাত হাসান শাহিনের চেম্বারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিভীষণ কান্তি দাশ। এ সময় তাকে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন-২০১০ এর ২৯ ধারায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। আটক সিফাত হাসান শাহিন ঢাকার কদমতলী দনিয়া এলাকার সওদাগর বাড়ির মো: জজ মিয়ার ছেলে।

জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে জমিলা ফার্মেসির চেম্বারে সিফাত হাসান শাহিনের সঙ্গে কথা বলেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমল্পেক্সের তরুণ চিকিৎসক ডা. এমরান হোসেন, ডা. নাহিদা আকতার ও ডা. শরীফুল ইসলাম। আলোচনায় তার আচরণ ও কথাবার্তায় সন্দেহ হয় তাদের। তারা রাতভর সিফাত হাসান শাহিনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পর তাকে ভুয়া হিসেবে শনাক্ত করেন। পরে শনিবার সকালে তারা দ্বিতীয়বারের মতো জমিলা ফার্মেসির চেম্বারে যান। এ সময় তারা তার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ভুয়া এমবিবিএস, বিসিএস ও এফসিপিএস ডিগ্রিধারী স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার অনুরোধ করেন।

সিফাত হাসান শাহিন ১৯৯৩ সালে এসএসসি ও ১৯৯৫ সালে এইচএসসি পাস করলেও জাতীয় পরিচয়পত্র উল্লেখিত জন্ম তারিখ অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ১৭ মার্চ ১৯৯৪। তিনি জনৈক ডা. দিলরুবা আকতারের বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নম্বর (৩৯২৬৬) নিজের দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করে আসছেন।

সিফাত হাসান শাহিন তার প্রেসক্রিপসন প্যাড ও ভিজিটিং কার্ডে নামের পাশে এমবিবিএস (ঢাকা), বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফসিপিএস (মেডিসিন) ও সিসিডি (বারডেম) ছাড়াও নিজেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

২০১২ সালে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেছেন বলে দাবি করলেও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিভীষণ কান্তি দাশের কাছে এমবিবিএস পাসের সনদ ও বিএমডিসি কর্তৃক রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেখাতে পারেননি।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিভীষণ কান্তি দাশ বলেন, অভিযানকালে সিফাত হাসান শাহিন কোনো বৈধ সনদ দেখাতে পারেননি। তিনি ভ্রাম্যমান আদালতের কাছে নিজেকে ভুয়া ডাক্তার বলে স্বীকার করেছেন। তাই বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন-২০১০ এর ২৯ ধারায় ভুয়া পদবি নাম ব্যবহারের অপরাধে তাকে এক বছরের কারাদ দেয়া হয়েছে।

অভিযানে সহযোগিতা করেন বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ময়নাল হোসেন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো: ওমর ফারুক, মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমল্পেক্সের চিকিৎসক ডা. এমরান হোসেন, ডা. নাহিদা আকতার ও ডা. শরীফুল ইসলাম ও মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. খুরশিদ আলম।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

ফোন হারিয়েছে বলে মোটর-সাইকেলে তুলে নেয় স্কুলছাত্রীকে, অতপর …

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পঞ্চম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত শহিদুল ইসলাম …

Leave a Reply