ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

দেবী বরণে প্রস্তুত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা

রাঙামাটির ৪১ মণ্ডপে হচ্ছে দুর্গোৎসব

সৈকত বাবু ও প্রান্ত রনি
কাল থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গাপূজা। এবারের পুজোতে দেবী বরণের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে পাহাড়ি জেলা রাঙামাটিতে। জেলার সব মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি, রঙ এবং সাজসজ্জার কাজ শেষ। আগামীকাল সোমবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে পুজোর আনুষ্ঠানিকতা। বিসর্জনে সাঙ্গ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই উৎসবের।

পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্যমতে, এবছর রাঙামাটির দশ উপজেলায় মোট ৪১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে সদর উপজেলার ১৪টি পূজা মণ্ডপের মধ্যে জেলা শহরেই রয়েছে ১৩টি। এছাড়া বাঘাইছড়ি উপজেলায় ৫, লংগদুতে ৩, বরকলে ২, জুরাছড়িতে ১, বিলাইছড়িতে ১, কাপ্তাইয়ে ৭, নানিয়ারচরে ১, কাউখালীতে ৪ ও রাজস্থলী উপজেলায় ৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপন করা হবে।

জেলা শহরের বাণিজ্যিক এলাকাখ্যাত হিসেবে পরিচিত রিজার্ভবাজার শ্রী শ্রী গীতাশ্রম মন্দির পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিঠুন সিংহ বলেন, পূজা উদযাপনের জন্য ইতোমধ্যে আমাদের সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। রাঙামাটি জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক স্বপন কান্তি মহাজন বলেন, ‘আমাদের সব ধরণের প্রস্তুতি শেষ। এবারের পূজায় আমরা দর্শনার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মানাতে বিশেষভাবে জোর দিচ্ছি। তাই পূজা মণ্ডপে সকলে যেন মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করে সে জন্য জোর অনুরোধ করছি।’

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রাঙামাটি জেলার সভাপতি অমর কুমার দে বলেন, ‘এবছর জেলার দশ উপজেলায় মোট ৪১টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব হবে। এরমধ্যে জেলা শহরেই ১৩টি মণ্ডপে পূজা হচ্ছে। পূজাকে ঘিরে আমরা যাবতীয় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। পূজায় কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও পুলিশ-প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়েছে।’

এদিকে, দুর্গোৎসবকে ঘিরে জেলায় থাকছে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় ও জেলা সদরে পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে বৈঠক সম্পন্ন করেছে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী।

রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তাপস রঞ্জন ঘোষ বলেন, পূজাকে ঘিরে রাঙামাটির মণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা বিধানে ৪০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। প্রতি মণ্ডপে পাঁচজন পুলিশ সদস্য সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করবেন; তন্মধ্যে একজন উপপরিদর্শক (এসআই), একজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই), তিনজন কনস্টেবল। এছাড়া দুটি মণ্ডপের জন্য পুলিশের একটি মোবাইল টিম থাকছে। এছাড়া সাদা পোশাকের পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ ও আনসার সদস্যও দায়িত্বপালন করবেন।

পূজা উপলক্ষে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে জেলার ৪১টি মণ্ডপ প্রতি দেড়টন করে খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে ২২ টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button