অরণ্যসুন্দরীলিড

দূর পাহাড়ে দ্যুতি ছড়াচ্ছে ধুপপানি ঝর্না

ঝুলন দত্ত, ধুপপানি থেকে ফিরে
পাহাড়ে বসবাসরত তঞ্চঙ্গ্যা জনগোষ্ঠীর ভাষায় ধুপ শব্দের অর্থ হলো সাদা পানি। পাহাড়ের গা ঘেঁষে কুয়াশার মতো অবিরাম ধারায় সাদা পানি প্রবাহিত হয় বলে স্থানীয়রা এর নাম রেখেছে ধুপপানি ঝর্ণা। সংগীতের সুর এবং তালের অপূর্ব সুরধ্বনির মতো এই ঝর্না হতে যেই সুর লহড়ি বেজে উঠে, মনে হয় কোন এক স্বর্গের পরি তাঁর অপূর্ব কন্ঠে গান শুনাচ্ছেন। রাঙামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ৩নং ফারুয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ধুপপানি পাড়ায় এই দৃষ্টি নন্দন স্বর্গীয় ঝর্নাটির অবস্থান।

বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর ঝর্ণাগুলোর মধ্যে অন্যতম এটি। সুবিশাল উচ্চতা, শুভ্র জলরাশি, ঝর্ণার নীচে গুহা, পথেমধ্যে উঁচু-নিচু দৃষ্টিনন্দন পাহাড় আর ছড়া, ছড়া হতে বহমান ঝিরিঝিরি পানির শব্দ, পাহাড়ি ছোট ছোট পাড়া এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনধারা, ঝর্ণার উঁচু থেকে আঁচড়ে পড়া জলরাশি দর্শনার্থীদের মূহুর্তের জন্য বিমোহিত করে দেয়। ধুপপানি ঝর্ণার নীচের গুহায় চোখ বন্ধ করে বসলে মনে হবে এই যেন অন্য একটি জগৎ। সমতল থেকে এই ঝর্ণার উচ্চতা প্রায় ১৫০ ফুট।

সম্প্রতি বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীরোত্তম তনচংগ্যাসহ একদল পর্যটক ঝর্ণার সৌন্দর্য উপভোগ করতে যান। এসময় বিলাইছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ঝর্ণাটি লোক চক্ষুর অন্তরালে ছিল। ২০০০ সালে এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী গভীর অরণ্য ধুপপানি ঝর্ণার ওপরে পাহাড়ে ধ্যান শুরু করেন। পরে স্থানীয় লোকজন মিলে ওই বৌদ্ধ ধ্যানরত সন্ন্যাসীকে সেবা করতে গেলে ওই ঝর্ণাটি জনসম্মুখে পরিচিতি লাভ করে।

বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, বিলাইছড়ি দেশের সবচেয়ে সুন্দর একটি উপজেলা। এই উপজেলায় যতগুলো ঝর্ণা রয়েছে, তা অন্য উপজেলাতে নেই। এই উপজেলায় ঝর্ণা, পাহাড়, হ্রদ ও সবুজের সমন্বয়ে নৈসর্গিক স্বর্গ বহমান রয়েছে। এখানকার পর্যটনকেন্দ্রগুলোর উন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় অধিবাসীদের জীবিকার সু-বন্দোবস্ত করা সম্ভব হবে।

৩নং ফারুয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা, ফারুয়ার ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শান্তিরঞ্জন তঞ্চঙ্গ্যা ও ধুপপানি পাড়ার কার্বারি নতুন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, সরকার যদি এই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে তাহলে এখানে আরও পর্যটকের আগমন ঘটবে। ঝর্ণা দেখতে আসা ফরিদপুরের বিশ্বজিৎ ম-ল, কাপ্তাই থানার ওসি মো. নাসির উদ্দীন, চন্দ্রঘোনা ক্রিশ্চিয়ান হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রবীর খিয়াং জানান, এই ঝর্ণা দেখতে না আসলে বুঝতে পারতাম না বিলাইছড়ি উপজেলায় এরকম একটি দৃষ্টিনন্দন ঝর্ণা আছে। প্রকৃতি এখানে যেন আপন মহিমায় সাজিয়েছে এই ঝর্ণাটিকে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button