আলোকিত পাহাড়ব্রেকিংরাঙামাটি

দুর পাহাড়ে আলো ছড়াতে ইউএনও’র ভূষণছড়া আইডিয়াল কলেজ

রাঙামাটির বরকলে

ইয়াছিন রানা সোহেল
রাঙামাটির দুর্গম উপজেলা বরকল। জেলা সদর কিংবা দেশের সাথে এই উপজেলার যোগাযোগের নেই কোন সড়ক সংযোগ। যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌ-পথ। উপজেলার সবচেয়ে জনবহুল এলাকা ভুষণছড়া। পাহাড়ে ঝুম চাষ কিংবা জলে ভাসা জমিতে আর পাহাড়ের ঢালে মৌসুমী ফলের চাষ করেই চলে এখানকার পাহাড়ি-বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের জীবন-জীবিকা। কারো কারো জীবন আবার হ্রদে মাছ শিকারের উপরই নির্ভরশীল। এখানকার লোকজনের জীবন অনেকটা নুন আনতে পানতা ফুরায় অবস্থার মত। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এখানকার অভিভাবকগণ তেমন একটা সচেতনও নয় বটে। তবে এত অভাব-অনটনের মাঝেও উপজেলার শিক্ষার্থীরা প্রাথমিকের পাঠ চুকিয়ে মাধ্যমিকেও ভর্তি হয়। এসএসসি পাশ করার পরেই দিশেহারা হয়ে পড়ে শিক্ষার্থী আর তাদের অভিভাবক। উচ্চ শিক্ষা লাভের আগ্রহ থাকা সত্তে¡ও জেলা সদরে এসে কিংবা উপজেলা সদরে এসে পড়ালেখা করার মত সামর্থ থাকেনা অনেকের। ফলে মেয়েদেরকে বাল্যবিবাহের অভিশাপের বলি হতে হয়। আর ছেলেদের হাল ধরতে হয় সংসারের। এসব বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। উপজেলার চারিদিকে অভাব আর অভাব। আর এই অভাবের মাঝেই উপজেলায় উচ্চ শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে কলেজ প্রতিষ্ঠার মত উদ্যোগে আশার আলো দেখছেন উপজেলাবাসী। বরকল উপজেলার দায়িত্ব নিয়েই এখানে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম মনজুরুল হক। ২০২০ সালের শুরুর দিকে উদ্যোগ নিলেও করোনার কারণে বাস্তবায়ন হয়নি। তবুও কাজ থেমে থাকেনি। করোনা সংক্রমন কমে আসার সাথে সাথেই স্বপ্নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাস্তবে রূপলাভ করে। মানবিক ও বাণিজ্য দুই গ্রুপে ২৬ শিক্ষার্থী ভর্তি আর পাঠদানের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করলো ভুষণছড়া আইডিয়াল কলেজ।
ভুষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ জানান, এই কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উপজেলার দুর্গম আইমাছড়া, ভুষণছড়া ও বড় হরিণার শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষা লাভের সুযোগ হল। যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্গমতার কারণে এসব ইউনিয়নের শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষা লাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। এই কলেজের মাধ্যমে সেই সুযোগ সৃষ্টি হলো। তবে কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতি আমরা বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। তাঁর সাহসী উদ্যোগের ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে।
বরকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা এসএম মনজুরুল হক বলেন, উপজেলার অধিকাংশ লোকজন অত্যন্ত দরিদ্র। ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা করানোর ইচ্ছে থাকলেও অভাবের কারণে তা হয়ে উঠেনা। এখানকার লোকজনের আর্থ সামাজিক ও সার্বিক অবস্থা চিন্তা করে এখানে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার চিন্তা করলাম। নানা সমস্যা ও সংকট থাকা সত্তে¡ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য বই এবং শিক্ষা সামগ্রীও ফ্রি দেয়া হয়েছে। আপাতত অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শুরু করেছি। আশা করছি শীঘ্রি স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।
বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে কলেজের কার্যক্রম শুরু হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পায়রা উড়িয়ে এর উদ্বোধন করেন। ভূষণছড়া বাজার সংলগ্ন কলেজের অস্থায়ী ক্যাম্পাস প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠানে বরকল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিধান চাকমা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ, ভূষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবদুস সবুর, বরকল উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন মহারাজ, উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি সিদ্দিক বেপারী, এছাড়া ইউপি সদস্যবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button