রাঙামাটিলিড

দুর্যোগে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে হবে, অন্যথায় ব্যবস্থা: জেলা প্রশাসক

শুভ্র মিশু ॥
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেছেন, পাহাড়ের পাদদেশে যারা বসবাস করছে, দুর্যোগকালীন সময়ে তাদেরকে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে হবে। এজন্য পৌর এলাকায় ২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিপাতের পরও কেউ যদি স্বেচ্ছায় আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে না চায়, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নেয়া হবে। কোনওভাবেই প্রাণহানি বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হোক আমরা সেটা চাই না। কেউ যদি নির্দেশনা অমান্য করে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ারও হুঁশিয়ারি দেন জেলা প্রশাসক। কয়েকদিন ধরে পাহাড়ে বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধস ঝুঁকি থাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক জরুরি সভায় এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। রবিবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, দুর্যোগকালীন এই সময়টাতে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের ছুটি বাতিল করা হলো। আপনারা কেউ কর্মস্থল ছেড়ে ছুটিতে যাবেন না। ছুটিতে গেলে নিজ দায়িত্বে যাবেন, তার দায়িত্ব আপনাকেই নিতে হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কোন ক্রটি রাখা যাবে না।

সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আরও উপস্থিতি ছিলেন সিভিল সার্জন ডাঃ বিপাশ খীসা, পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মামুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তাপস রঞ্জন ঘোষসহ জেলার সড়ক, পানি, শিক্ষা, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাঙামাটির প্রবীণ সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে বলেন, আমাদের দুর্যোগ মোকাবেলায় আগের রির্পোটগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন, তাহলেই আমরা সহজে দুর্যোগ মোকাবেলা করতে পারবো এবং দীর্ঘ মেয়াদী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবো।

এতে রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহে আরেফিন জানান, জেলায় যেসব ঝূঁকিপূর্ণ সড়ক রয়েছে তার গুরুত্ব অনুসারে অকেগুলোর সংস্কার কাজ শুরু করেছি এবং অনেকগুলো শেষ করেছি, বাকিগুলো বর্ষা মৌসুমের পড়ে ধরা কারণ এই মৌসুমে কাজ ধরলে হয়তো রাস্তার আরো বেশি ক্ষতি হতে পারে। তবে আগামী বর্ষার আগে আমরা সবগুলো ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার করতে পারবো বলে মনে করি। জেলার ১৬টি বেইলি ব্রিজ রয়েছে সেগুলো বর্তমানে ভালো আছে। এছাড়াও বর্ষায় অতিবৃষ্টিতে কোন সড়কে মাটি পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেলে সেক্ষেত্রে যাতে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা সম্ভব হয় সে জন্য জেলার বিভিন্ন স্থানে যন্ত্রপাতি ইতিমধ্যে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। বর্ষামৌসুমে দুর্যোগ মোকাবেলা আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তাপস রঞ্জন ঘোষ বলেন, আমরা সার্র্বিকভাবে প্রস্তুত আছি দুর্যোগ মোকাবেলায়, এখন আমাদের সকলের সচেতন হতে হবে যাতে এই বর্ষা মৌসুমের পাহাড় ধসে কারো যেন প্রাণহানি না হয়। আমাদের প্রতিটি থানা ফাঁড়িতে আশ্রয়কেন্দ্রের তালিকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে যাতে তারা পাহাড়ধসের শঙ্কা দেখা দিলে সেখানে জনসাধারণকে পাঠিয়ে দিতে পারে।

রাঙামাটির পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী জানান, বর্ষার এই মৌসুমটাতে যদি পাহাড় ধস হয় সে ক্ষেত্রে পৌর কর্তৃপক্ষ যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুত আছে, ইতিমধ্যে আমরা প্রস্তুতি সভাও করেছি।

রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা জানান, যদি বর্ষার অতিবৃষ্টিতে কোন দুর্যোগ হয়, সে জন্য আমরা প্রতিটি ইউনিয়নে মেডিকেল টিম প্রস্তুত রেখেছি এবং ওষুধ ও অন্যান্য সরঞ্জাম মজুদ রেখেছি দুর্যোগকালীন সময়ে ব্যবহারের জন্য।

এছাড়াও সভায় জেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসাররা যেসব বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে সেসব বিদ্যালয় আধঘন্টার ঘোষণায় খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি রাখার কথাও জানান।

সভায় রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিতি ছিলেন, ফায়ার সার্ভিস, স্কাউটসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। এছাড়া সভায় ভূমিকম্প হলে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর প্রস্তুতি হিসেবে জেলার ঝুঁকিপূর্ণ ভবণের তালিকা তৈরির জন্য কমিটি গঠন করা হয়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button