খাগড়াছড়িব্রেকিংলিড

দুর্যোগের শঙ্কায় প্রস্তুতি খাগড়াছড়িতে

খাগড়াছড়িতে টানা বষর্ণে স্থবির হয়ে পরেছে জনজীবন। প্রবল বর্ষণে জেলার চেঙ্গি, মাইনী, ফেনী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যার আশঙ্কায় দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে নিচু এলাকায় প্লাবিত হওয়ায় খাগড়াছড়ি সদরের ৭০ থেকে ৮০টি পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছেন। পুরো জেলায় ৪৫টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

গত তিন দিনে খাগড়াছড়িতে প্রায় ১৭২ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বর্ষণে গত দুই দিনে বেশ কয়েকটি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকালে শহরের মোহাম্মদপুর এলাকা আরসিসি সীমানা প্রাচীর ধসে পড়ে। মঙ্গলবার শালবাগান এলাকায় বেশ কয়েকটি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে কোনো হতাহত হয়নি।

মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামছুন্নাহার, সদর থানার ওসি মো. রশিদ, পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. জাফর আহম্মেদসহ প্রশাসনের সম্মিলিত একটি টিম শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এসময় তাঁরা ঝুকিঁপূর্ণ এলাকায় বসবাসরতদের আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানান। এসময় ঝুঁকিতে বসবাসরত ৩০টি পরিবারকে বিকালের মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দেন।

এদিকে টানা বৃষ্টিতে মহালছড়ি উপজেলার চোংড়াছড়ি এলাকায় সড়ক ডুবে যাওয়ায় খাগড়াছড়ির সাথে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আশ্রয়কেন্দ্র্র খাবার মজুদ রেখেছি। প্রত্যেকটা সরকারি বিভাগ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে সমন্বয় রেখে কাজ করছি। ঝুঁকিতে বসবাসরতের সরে যেতে মাইকিং এর পাশাপাশি সরেজমিন গিয়ে বলা হচ্ছে। এরপরও তাঁরা না সরলে জানমালের নিরাপত্তার কথা ভেবে আমরা বল প্রয়োগ করবো।’

এদিকে, অতিবৃষ্টিতে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় জরুরী সভা করেছে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন। এছাড়া পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিং অব্যাহত রেখেছে প্রশাসন। জেলা শহরের বিভিন্ন ঝুকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসকসহ সরকারি কর্মকর্তারা।

প্রসঙ্গত, খাগড়াছড়ি বিশেষ করে শহরের কলাবাগান, নেন্সিবাজার, মোল্লাাপাড়া, কৈবল্যপিঠ, আঠার পরিবার, শালবন ও মোহাম্মদপুরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ের ঢালে ঝুঁকি নিয়ে বাস করছে সহ¯্রাধিক পরিবার। বিগত বছরগুলোতে পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button