আলোকিত পাহাড়ব্রেকিংরাঙামাটি

দুর্গম বিলাইছড়িতে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল

বিলাইছড়ি উপজেলা। রাঙামাটি থেকে যোগাযোগ একমাত্র নৌপথে। বিলাইছড়ি থেকে রাঙামাটি সদরে আসতে প্রায় তিন ঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে হয়। পাহাড়ি এই অঞ্চলটি দুর্গম ও সড়ক পথ না থাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া তেমন একটা লাগেনি বললেই চলে। স্বাস্থ্যসেবা বলতে কিছুই ছিল না। ৩১ শয্যা বিশিষ্ট একটি হাসপাতাল থাকলেও চিকিৎসক ও সরঞ্জামের অভাবে সেটিও তেমন কাজে আসেনি। চিকিৎসা দিতেও হিমশিম খেতে হতো চিকিৎসদেরও।
অবশেষে স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর বিলাইছড়িবাসী একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল পেতে চলেছে। বর্তমানে হাসপাতালটিতে আধুনিক সরঞ্জামসহ ৫০ শয্যায় উন্নীত করার পর এখন স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে স্বপ্ন দেখছে উপজেলাবাসী।
বৃহস্পতিবার রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন। এতে দীর্ঘদিন পর পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল পেয়ে খুশি উপজেলাবাসীও।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, সিভিল সার্জন ডা: বিপাশ খীসা, জোন কমান্ডার লে. কর্নেল তানবীর মাহমুদ (পাশা), নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহসীন, উপজেলা চেয়ারম্যান বীরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা প্রমুখ।
উষামং নামের এলাকার একজন স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানায় এবং হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হলেও এখনো চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়নি। তাই এটি দ্রুত চালুর বিষয়ে কর্তৃপক্ষে দৃষ্টি আর্কষণ করবো।
রুবেল চৌধুরী বলেন, ৩১ শয্যা বিশিষ্ট একটি হাসপাতালে যে কয়জন চিকিৎস ছিলো তাদের আবাসন ব্যবস্থা না থাকার অজুহাতে কেউ এখানে থাকতে চাইতেন না। বর্তমানে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করাসহ চিকিৎসকদের আবাসন ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার ফলে চিকিৎসা সেবা থেকে এই উপজেলা মানুষ আর বঞ্চিত হবে না আশা করছি।
বিলাইছড়ি উপজেলা পরিষদের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জয় সেন তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, বিলাইছড়ি একটি প্রত্যন্ত উপজেলা, আগে এখানকার সাধারণ মানুষ উন্নত চিকিৎসা সেবার জন্য জেলা শহরের সদর হাসপাতালে যেত হতো, এটি অনেকের পক্ষে সম্ভব হতো না। বর্তমানে হাসপাতালটি আধুনিক সরঞ্জামসহ ৫০ শয্যায় উন্নীত করায় এখানকার মানুষের স্বাস্থ্য সেবার জন্য আর অন্য কোথাও যেতে হবেনা।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারি প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, একটা হাসপাতালে যেসব সুবিধা থাকা প্রয়োজন তার সবকিছুই এখানে রাখা হয়েছে। এটি নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ১৬ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা।
রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা বলেন, আসবাবপত্র আগেই চলে এসেছে, কিন্তু পুরাতন হাসপাতালের কারণে কোন আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা সম্ভব ছিল হচ্ছিলো না। বর্তমান ভবনে এক্সরে, ইসিজিসহ আরো বেশ কিছু আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা সম্ভব হবে।’
তিনি আরো বলেন, দুর্গম এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তিতে যে ঘাটতি ছিল তা আর থাকবে না। তবে দুর্গম একটি উপজেলা হিসেবে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকার পরও একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল তৈরির বিষয়ে সচেষ্ট ছিল স্বাস্থ্য বিভাগ।
রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার বলেন, স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলায় ৫০ শয্যা হাসপাতল নির্মাণ করা হবে। হাসপাতালগুলো ৫০ শয্যায় উন্নীত করায় যেসব শূণ্য পদ সৃষ্টি হয়েছে সেই পদে লোক নিয়োগের ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ রাখব আমি।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button