রাঙামাটিলিড

দুর্গম পাহাড়ি পথকে চ্যালেঞ্জ পাঁচ নারীর

জিয়াউল জিয়া ॥
সাজেক থেকে থানচি পাহাড়ি ৩০০ কিলোমিটার পথে চলছে তিন দিনব্যাপী মাউন্টেন সাইকেলিং প্রতিযোগিতায় দুর্গম পাহাড়ি পথকে পাঁচ নারীর চ্যালেঞ্জ। প্রতিযোগিতায় ১০০ প্রতিযোগীর মধ্যে সবার নজর কেড়েছে পাঁচ সাহসী নারী সাইক্লিস্ট। যারা ইতোমধ্যে দুর্গম সাজেক থেকে ১৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রাঙামাটি পৌঁছে মঙ্গলবার সকালে আবারও রাঙামাটি থেকে ৯০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বান্দরবান যাচ্ছে। পাহাড়ের উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথে পুরুষ সাইক্লিস্টদের পাশাপাশি নারীদের এমন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু ট্যুর ডি সিএইচটি এমটিবি চ্যালেঞ্জ ২০২০’ নামে এই প্রতিযোগিতা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।সাজেক থেকে থানচি পাহাড়ি ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিন দিনব্যাপী পাহাড়ে চলছে বঙ্গবন্ধু ট্যুর ডি সিএইচটি সাইকেলিং প্রতিযোগিতা। সোমবার সকালে দুর্গম সাজেক থেকে ১৩০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে রাঙামাটি পৌঁছে মঙ্গলবার সকালে আবারো বান্দরবানের পথে রওয়ানা দেয় প্রতিযোগীরা।

চট্টগ্রাম থেকে আসা প্রতিযোগী শিউলি শবনম জানান, একটা ছেলে শৈশব থেকে যেভাবে বেড়ে উঠে মেয়ে সেভাবে বেড়ে উঠতে পারে না। আমাদের সমাজ ব্যবস্থার কারণে সেটা সম্ভব হয় না। প্রথম দিকে সাইকেলিং এর জন্য পরিবার বা সামাজিকভাবে সাপোর্টটা পাওয়া যায়নি। আজ এখানে আসার পিছনেটা সহজ ছিল না। অনেক মূল্য দিয়েই এখানে আসা।

নিশাদ আনজুমান সানজিদ বলেন, মেয়েদের এবং ছেলেদের জন্য আলাদা সাইকেলিং এর ব্যবস্থা করা গেলে আরও ভালো হতো। ২০১৭ সালে আমি একমাত্র মেয়ে সিএইচটি সাইকেলিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলাম আজ ৫জন। ভবিষ্যতে অংশগ্রহণকারী নারীর অংশ বাড়বে বলে আশা রাখি।

ঢাকা থেকে অংশ নেয়া সাদিয়া সিদ্দিক বলেন, ঢাকায় থাকার কারণে পাহাড়ে সাইকেল চালানোর অভিজ্ঞত কম, তারপরও সাহস করেই এসেছি। গতকালের চেয়ে আজকের পথটা কিছু সহজ, চেষ্টা করবো যতদ্রুত নির্দিষ্ট সময়ে রেসটা শেষ করা। আগামীকাল বান্দরবান থেকে থানচি আরও কঠিন পথ। সব মিয়ে দারুণ এক অভিজ্ঞতা।

ঢাকা থেকে অংশ নেয়া আরেক প্রতিযোগী রুমি রায়হান বলেন, আমাদের দেশের মেয়েরা এমনিতে সুযোগ সুবিধা কম, বাসা থেকে সব সময় বের হতে অনেক বাধা পর বের হওয়া যায়। সামাজিক কারণেও প্রথম দিকে পরিবার থেকেও বাধা ছিল। একটা ছেলে যদি পারে মেয়ে কেন পারবে না, সাবাই তো মানুষ। মানুষ হিসেবে সাবাইকে বিবেচনা নিতে হবে।

দুর্গম পাহাড়ি পথ জয় করার চ্যালেঞ্জে পুরুষদের পাশাপাশি সবার নজর কেড়েছে পাঁচ তরুণীর রেসে অংশগ্রহণ। যে পথে মোটর সাইকেল কিংবা অন্যান্য যান চলাচল করা এখনো বিপদজনক, সে পথে পাঁচ নারী সাইকেলে বন্ধুর পথের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। আর এসব সাহসী নারীর এমন কর্মকান্ডে নিজেরাই যেমন প্রশংসিত হচ্ছেন তেমনি সামনের দিনগুলিতে নারীদের জন্য আরো অংশগ্রহণ নিশ্চিতেরও দাবি জানান তারা।

পাহাড়ি পথে নারীদের এমন অংশগ্রহণকে সাধুবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য আরো সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির কথা জানিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সচিব, মো. সফিকুল আহম্মদ বলেন, বিশে^ কোথাও ছেলে মেয়ে একসাথে প্রতিযোগিতা হয় না। আগামীবার যদি এমন কোন উদ্যোগ নেয়া হয় ছেলে এবং মেয়েদের জন্য আলাদা করার চিন্তা থাকবে।

শেষ দিনে থানচির সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আয়োজিত তিন দিনের এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সাত লক্ষ টাকার পুরস্কার প্রদান করা হবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button