রাঙামাটি

দুরখেয়া গ্রামে চাকমা ভাষার নাটক ‘গুন্ডনি’ মঞ্চস্থ

স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাঙামাটিতে মঞ্চস্থ হল চাকমা ভাষার নাটক ‘গুন্ডনি’ বা দুর্ধর্ষ প্রতিবাদী নারী। শুক্রবার রাতে জেলা সদরের বন্দুকভাঙ্গা ইউনিয়নের দুরখেয়া গ্রামে সামাজিক একটি বিবাহ অনুষ্ঠান উপলক্ষে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মঞ্চস্থ নাটকটি উপভোগ করেছেন, স্থানীয় গ্রামের নারী-পুরুষ।

নাটকটির ভাষা চাকমা। কাহিনী সার্বজনীন। এর প্রেক্ষাপট গড়ে উঠেছে বিদ্যমান নানা অপরাধ কর্মকান্ডের বিপক্ষে প্রতিবাদী ভূমিকা ঘিরে। নাট্যকার বলেন, নাটকটির কাহিনী সম্পূর্ণ কাল্পনিক। এর উদ্দেশ্য অপরাধের বিরুদ্ধে। আর লক্ষ্য হচ্ছে- মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন- ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার মানসে। মানুষরুপী অসুর বিনাশন এবং অপরাধ দমনের মধ্য দিয়ে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে দুঃসাহসিক পটভূমি ঘিরে গড়ে ওঠা নাটকটির কাহিনী নিছকই দর্শকদের মনোরঞ্জন যোগানো।

নাটকটির কাহিনী সংক্ষেপ হচ্ছে- একদিন এক ধনীর বাড়িতে লুট করতে যায় কুখ্যাত দস্যু বনমালি। পরদিন বনমালির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিতে যায় ধনী লোকটি। ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে প্রকাশ্যে খুন করে বনমালি। খুনের প্রতিবাদ করতে যায় গ্রামের এক স্কুল মাস্টার। এতে মাস্টার ও তার স্ত্রীকে হত্যা করে বনমালি। পালিয়ে বাঁচে মাস্টারের ছোট মেয়ে হেমা। কিন্তু বনমালির থাবা থেকে রেহাই পায় না বড় বোন লাভা। পরে লাভার মুমুর্ষ দেহ উদ্ধার করে তাকে চিকিৎসায় ছাড়িয়ে তোলে আরেক ডাকাত সর্দার কনক ও তার দল। লাভা যোগ দেয় তাদের দলে। ঝাঁপিয়ে পড়ে শত্রুর ওপর। খ্যাতি পায় ভয়ঙ্কর দস্যুরাণী ‘গুন্ডনি’ নামে। অন্যদিকে লাভার ছোট বোন হেমার আশ্রয় জোটে এসপি মহিরের কাছে। হেমার চাকরি হয় পুলিশের এসআইয়ে।

গুন্ডনিকে গ্রেফতারে অভিযানে নামে এসপি মহির। সঙ্গে এসআই হেমা। কিন্তু এসপি মহির আটকা পড়ে গুন্ডনির জালে।….পরে পুলিশ অফিসার মহির আর দস্যুরাণী গুন্ডনির মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেম-ভালোবাসা। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে গুন্ডনিকে আত্মসমর্পণের প্রস্তাব দেয় এসপি। রাজি হয় গুন্ডনি। কিন্তু গুন্ডনির আত্মসমর্পণকে ঘিরে তাৎক্ষণিক বিপরীত দিকে মোড় নেয় নাটকীয় ঘটনার। সর্বশেষ বাবা, মা হত্যার প্রতিশোধ নিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে গুন্ডনি (লাভা) ও তার দল। এভাবে গড়ে উঠেছে নাটকটির কাহিনী। নাটকের নাম ভূমিকায় লাভা চরিত্রে অভিনয় করে সুইটি চাকমা। এ ছাড়া বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন- নাট্যকার সুশীল প্রসাদ চাকমা, মনিষা চাকমা, এলিনা চাকমা, সচিব চাকমা নবীন, সুজন চাকমা, মিলন চাকমা, শান্তিদেব দেওয়ান ও রেশমি চাকমা।

নাট্যরুপ, পরিচালনা ও নির্দেশনায় ছিলেন, নাট্যকার সুশীল প্রসাদ চাকমা। পরিবেশনায় রাঙামাটি কালচারাল ইন্সটিটিউশন (আরসিআই) এবং প্রযোজনা করেন, দুরখেয়া গ্রামের কারবারি ও পার্বত্য শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের সভাপতি প্রগতি খীসা।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button