ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

দুই লাশ নিয়ে টানাটানি !

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত দুই ব্যক্তিকে নিজেদের কর্মী বলেছে দাবি করছে রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগ ও ইউনাইটেড পিপল্স ডোমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক)।

এ ঘটনায় দুই সংগঠনই হত্যাকান্ডের জন্য সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (জেএসএস) দায়ী করেছে। তবে জেএসএসের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত সোমবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের কারিগর পাড়া মাচিং মারমার দোকানে পাশে ফরেস্ট অফিসের সামনে এ হত্যাকান্ড চালায় মুখোশ পড়া কয়েকজন দুর্বৃত্ত। স্থানীয়রা বলছেন, নিহত মংসিনু মারমা পূর্বে জনসংহতি সমিতির জেএসএস) রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে তিনি জেএসএস ত্যাগ করেন। অন্যদিকে, একই সাথে গুলিতে নিহত মো. জাহিদ হোসেন আওয়ামী লীগের কর্মী।

সোমবার বিকেলে ডাবল মার্ডারের ঘটনায় রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নিহত দুই জনকে নিজেদের কর্মী বলে দাবি করেছে জেলা আওয়ামী লীগ।

জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক রফিক আহম্মদ তালুকদারের পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সোমবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে চন্দ্রঘোনা থানাধীন কারিগর পাড়ায় দোকানে বসা অবস্থায় আওয়ামী লীগ কর্মী মংসিনু মারমা ও ছাত্রলীগ কর্মী জাহিদকে জেএসএস (সন্তু) গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে।’

তিনি বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাঙামাটি পার্বত্য জেলা শাখার সম্মানিত সভাপতি জননেতা দীপংকর তালুকদার এমপি এহেন নির্মম হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা জানায় এবং অবৈধ অস্ত্রধারী খুনী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের জোর দাবি জানান। পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানকে আরও গতিশীল করার জোর দাবি জানান।’

অন্যদিকে, মঙ্গলবার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে ইউনাইটেড পিপল্স ডোমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক) নিহত মংসুইনু মারমাকে নিজেদের পার্টির সক্রিয়কর্মী দাবি করেছেন।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মিটন চাকমার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জেএসএস (সন্তু লারমা) গ্রুপ সাংগঠনিক ভাবে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন ও দিশাহারা হয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু করেছে। সোমবার বিকাল টারটার দিকে রাইখালী কারিগর পাড়ায় জেএসএস (সন্তু লারমা) গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসী চাইথ্যোয়াই মারমা ও বাচ্চু তঞ্চঙ্গ্যার নেতৃত্বে হীনস্বার্থ অসৎ উদ্দেশ্যে আমাদের ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) পার্টির সক্রিয়কর্মী মংসিনু মারমা ও মোঃ জাহিদ হোসেনকে (২৫) হত্যা করে পালিয়ে যায়।’

তিনি বিবৃতিতে এ ঘটনাকে ‘ন্যাক্কার জনক’ মন্তব্য করে হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে হত্যাকারীদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে চন্দ্রঘোনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আফরাফ উদ্দিন বলেন, ‘নিহতদের দলীয় পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে জানাব।’

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button