খাগড়াছড়িলিড

দুই বছর পর খাগড়াছড়ি আওয়ামীলীগের কমিটি অনুমোদন

ঠাঁই মেলেনি রফিকের, কুজেনপুত্রসহ তিন সাবেক সভাপতি পুত্র কমিটিতে

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
অবশেষে সম্মেলনের পৌনে ২ বছর পর খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ। ২০১৯ সালের ২৪ নভেম্বর জেলা সম্মেলন হলেও এতদিনে ২০১৯-২০২২ সালের জন্য কমিটির অনুমোদন দিলো দলটি। সদস্য হিসেবে প্রস্তাব করার পরও কমিটিতে জায়গা হয়নি বিগত পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া রফিকুল আলমের। তবে কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমা।

অনুমোদিত জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী জানিয়েছেন, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম দফায় পূর্নাঙ্গ জেলা কমিটির তালিকা কেন্দ্রে জমা দেয়া হলেও তখন অনুমোদন দেয়া হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে ফের কমিটি জমা দেয়া হলে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশক্রমে সেই কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি। নবীন প্রবীনের সংমিশ্রনে কমিটি অত্যন্ত ভারসাম্যমূলক হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এক্ষেত্রে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি অন্যান্য জেষ্ঠ নেতাদের পরামর্শ নিয়েছেন।

এদিকে জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক জেলা সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলমের নেতৃত্বে পৃথক একটি কমিটির প্রস্তাবনা কেন্দ্রে জমা দেয়া হলেও তা আমলে নেয়নি কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ। যেখানে অনেক বিতর্কিত লোকদের কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছিল। পরপর দু‘বার দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হওয়া রফিকুল আলমকেও বিতর্কিত সেই কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করা হয়। মূলত: সেই কারণেই তাকে দলের কোন পদ তো নয়;ই কার্যকরি সদস্য পর্যন্ত রাখেনি দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় সারাদেশে এমন অনেককেই দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।
রফিকুল আলম হলেন জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলম ও নতুন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলমের মেঝো ভাই। বিগত দুই পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া রফিকুল আলমের সাথে আওয়ামীলীগের বিরোধ ছিল তুঙ্গে।

মূখ্যত: জেলা সম্মেলনে নির্বাচিত সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি ও সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরীর দেয়া কমিটির তালিকা অনুযায়ী ৭৫ সদস্য বিশিষ্ট পূর্নাঙ্গ জেলা কমিটির অনুমোদন পাওয়া গেলো। একই সঙ্গে জাতীয় কমিটির সদস্য হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা রণ বিক্রম ত্রিপুরা এবং ২১ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
জেলা কমিটিতে মংক্যচিং চৌধুরী, সামছুল হক, তপন কান্তি দে কে পদোন্নতি দিয়ে সহ-সভাপতি করা হয়েছে। ফের জেষ্ঠ সহ-সভাপতি হয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা রণ বিক্রম ত্রিপুরা। চাইথোঅং মারমা, কংজরী চৌধুরী, কল্যান মিত্র বড়ুয়া, ম্রাগ্য মারমা, এড. মহিউদ্দিন কবির বাবু ও সমীর দত্ত চাকমা আগের মত সহ-সভাপতি পদেই আছেন। সহ-সভাপতি বীর কিশোর চাকমা অটল ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলমকে উপদেষ্টা কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছে।

কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ জাব্বার, অ্যাডভোকেট আশুতোষ চাকমা, মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু, সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলম। কমিটিতে অভিষেকেই সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পেয়েছেন পার্থ ত্রিপুরা জুয়েল এবং বন ও পরিবেশ সম্পাদক শওকত উল ইসলাম। নতুনভাবে পদ পেয়েছেন কৃষি বিষয়ক শুভমঙ্গল চাকমা, দপ্তর চন্দন দে, উপ-দপ্তর নুরুল আজম, ধর্ম বিষয়ক নুর হোসেন চৌধুরী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খোকনেশ্বর ত্রিপুরা, শিক্ষা ও মানব সম্পদ অধ্যাপক নিলোৎপল খীসা, উপ প্রচারে কাজী রফিকুল ইসলাম মিন্টু। আগের পদেই রয়েছেন কোষাধ্যক্ষে গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী, আইন বিষয়ক এড. রতন কুমার দে, তথ্য ও গবেষনায় রনজিৎ কুমার দে, সাংস্কৃতিকে শিব শংকর দেব, ত্রান ও সমাজ কল্যানে সালেহ আহমদ, মহিলা বিষয়ক শতরূপা চাকমা, প্রচার সম্পাদক ক্যজরী মারমা, শিল্প ও বানিজ্য অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা (এস অনন্ত), মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক শফিউল আলম চৌধুরী, স্বাস্থ্য বিষয়ক রূপম বড়ুয়া, শ্রম বিষয়ক কামাল পাটওয়ারী। তবে উপ দপ্তর থেকে জুয়েল চাকমাকে যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক দেয়া হয়েছে। বাদ পড়েছেন ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হোসেন আহমদ চৌধুরী।

কমিটিতে সবচেয়ে বড় চমক কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি’র ছেলে ভারতেশ^র ত্রিপুরা এবং তিন সাবেক জেলা সভাপতির ছেলেদের কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভূক্তি হওয়া।

এছাড়াও নতুনদের মধ্য হতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান শানে আলম, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি‘র ছেলে ভারতেশ্বর ত্রিপুরা ওরফে বাতু, জেলা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম দোস্ত মোহাম্মদ চৌধুরীর ছেলে আফতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক সভাপতি যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা ছেলে অপূর্ব ত্রিপুরা, মরহুম নুরনবী চৌধুরীর ছেলে শামীম চৌধুরী, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কৈলাস ত্রিপুরা, এড. নুরুল্লাহ হিরো, মনির আহম্মদ, জসিম উদ্দিন, উমেষ চাকমা, বাহার মিয়া, সতিশ চাকমা, জয়নাথ দেব, মো: শফিকুল ইসলাম, তাপস কুমার ত্রিপুরা, অনন্ত ত্রিপুরা, বরেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, আব্দুর রাজ্জাক।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button