ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

দুই বছর পরও বল্লি থেরাপি !

দুই বছর আগে রাঙামাটিতে পাহাড়ধসে সড়কপথের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সে সময় সড়ক বিভাগের ৭টি সড়ক অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ৭টি সড়কের ১৪৫টি স্থানে পাহাড় ধস হয়, ৩টি স্থানে রাস্তা একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, ১১৩টি স্থানে সড়কের পাশের অংশ ভেঙ্গে পড়ে যার কারণে ভারী যান চলাচলের জন্য অনুপযোগি হয়ে পড়েছিল। এসব সড়ক সাময়িকভাবে সংস্কার করে যোগাযোগ সচল রাখার জন্য বল্লি(গাছের চিকন খুঁটি) দিয়ে বড় বড় ফাটল সাময়িকভাবে ধরে রাখা হয়। এজন্য ব্যয় হয় ১৪ কোটি টাকা। কিন্তু বছর না যেতেই সেসব বল্লির বেশিরভাগই ধসে পড়ে। স্থায়ীভাবে সংস্কার কাজ শুরু না হওয়ায় দুই বছর পর আবারো একই সড়ক বল্লি দিয়ে ধস ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে সড়ক বিভাগ।

রাঙামাটি সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে সড়কের ব্যাপক ধসের পর সাময়িকভাবে সড়ক সচল রাখার জন্য ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার কার্যক্রম চালানো হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি সড়ক ধস ঠেকাতে বল্লি দিয়ে তাতে মাটির বস্তা ফেলে সাময়িকভাবে সড়ক ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়। তখন কাজের মান নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেন। এছাড়া এসব কাজে নয়-ছয়েরও অভিযোগ উঠে। বল্লিগুলোর স্থায়িত্ব কাল ছয় মাস পার হয়ে গেলেও গত দুই বছরে স্থায়ীভাবে সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু না হওয়ায় বল্লিগুলো বেশিরভাগ নষ্ট হয়ে পড়েছে। এতে আবারো সড়কগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এদিকে বর্ষা শুরু হওয়ায় আবারো সড়কগুলো ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থায়ীভাবে সড়ক সংস্কারের জন্য গত বছর মন্ত্রণালয়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকার একটি ডিপিপি পাঠানো হলেও গত এক বছরই এটি চিঠি চালাচালিতেই সময় পার করেছে বলে জানা গেছে।

রাঙামাটি বাস মালিক সমিতির সভাপতি মাইনুদ্দীন সেলিম আবারো বল্লি দিয়ে সড়ক সংস্কারে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুই বছর পূর্বে আমাদেরকে সড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও দুই বছর পরও দেখতে পাচ্ছি আবারো বল্লি দিয়ে সড়ক সংস্কার করা হচ্ছে। বিষয়টি দুঃখজনক। তিনি বলেন, বল্লি দিয়ে সড়ক বিপর্যয় সম্ভব না। বরঞ্চ এতে আরো ঝুঁকি বাড়ে। তিনি দ্রুত স্থায়ীভাবে সড়ক সংস্কারের দাবি জানান।

খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী যিনি রাঙামাটি সড়ক বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল জানান, রাঙামাটি সড়কে স্থায়ী মেরামতে মন্ত্রণালয়ে যে ডিপিপি জমা দেওয়া হয়েছে, সেটি দীর্ঘদিন চিঠি চালাচালির পর গত মাসে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাশ হয়েছে। তিনি জানান, প্রায় ২৫০ কেটি টাকার এই প্রকল্পটি এখন একনেকে পাশ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। যা সহসাই পাশ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এটি পাশ হলে আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে রাঙামাটি সড়ক ধস ঠেকাতে স্থায়ীভাবে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, যেহেতু এখন বর্ষা মৌসুম। তাই ঝুঁকিপূর্ণ কিছু এলাকায় বল্লি দিয়ে সড়ক সংস্কার করা হচ্ছে। বছরে সাধারণত যে সংস্কার কাজগুলো আমরা করি, সেটার আওতায় সাময়িকভাবে বল্লির কাজ করা হচ্ছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button