ক্যাম্পাস ঘুড়িরাঙামাটিলিড

দুই দশক পূর্তিতে ২০০১ ব্যাচের বর্ণিল আয়োজন

রাঙামাটিতে

ইয়াছিন রানা সোহেল
মাধ্যমিকের পাঠ চুকিয়ে একসাথে একই কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ সব বন্ধুদের নানা কারণে হয়ে উঠেনা। পরিবারের চাহিদা কিংবা বাবার বদলি জনিত কারনেও ইচ্ছে থাকা সত্তেও একই কলেজে পড়ার সুযোগ হয়ে উঠেনি অনেকের। ২০০১ সালে মাধ্যমিক পাশ করার পরে অনেকেই জীবন-জীবিকার তাগিদে নানা পেশায় জড়িয়ে পড়ে। মেয়ে বন্ধুদের অনেকেই সংসার জীবনে আবদ্ধ হয়ে যায়। ফলে কেউ শহরে কেউবা শহর থেকে দুর অনেক দুরেই স্বামী সংসার নিয়েই জীবন কাটাচ্ছে।
জীবনের মাঝামাঝি সময়ে এসে ক্যারিয়ার, সংসার কত কিছুই না মাথায় চেপে আছে। জীবিকার কঠিন সময়ে কিংবা সংসারের শত ব্যস্ততার মাঝেও কৈশরের বন্ধুদের কথা বড্ড মনে পড়ে। আর তাইতো সময় গড়ায়, দিন ফুরায় তবুও স্মৃতিরা অমলিন হয়ে থাকে মনের মনি কোটায়। স্মৃতিগুলো যেন পুরনো হয়না, মুছেও যায় না। স্মৃতির তাড়নায় শত ব্যস্ততাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে একই প্লাটফরমে বারবার জড়ো হতে একাট্টা সবাই। অনলাইন-অফলাইনের প্রচারনা আর আড্ডায় বাড়তে থাকে বন্ধুর সংখ্যাও। ২০১৬ সালে প্রথমবারের মত রাঙামাটির সকল বন্ধু মিলিত হলেও দিন দিন এর পরিসর বাড়তে থাকে।
সময় বড্ড স্বার্থপর, সে তার নিয়মেই চলে। একবিংশ শতাব্দীর প্রথম ব্যাচটি দেখতে দেখতে মাধ্যমিক পাশ করার দুই দশকে পা দিয়েছে। আর ঘটা করেই বন্ধুরা আয়োজন করে দুই দশক পূর্তি উৎসব। আয়োজনকে সফল ও সার্থক করতে বন্ধু নিজাউদ্দিন সোহাইলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সকলে জড়ো হয়ে চলে আড্ডা আর পরিকল্পনা। বন্ধু সালাউদ্দিন, বেলাল, রাসেল, তারেক, হেলাল, মাসুদ রানা, ইসমাইল, ইয়াছিন, সোহেল, নিশু, শংকর, জুয়েল, আজগর, ইমু, ববি দে, লেলিন চাকমা, নোবেল চাকমা, ও বান্ধবী আরজুর মেধা শ্রমে চলে আয়োজনের নিরন্তর প্রচেষ্টা। অনলাইন-অফলাইনে চলে রেজিস্ট্রেশন। ইমা, জলি, শামীমা, মন্টি, পপি, শিমুল ত্রিপুরা, শরিকা দেওয়ান মেয়ে বন্ধু অনেকেই যুক্ত হয়। সাথে তাদের স্বামী সন্তানদেরও যুক্ত করা হয় অনুষ্ঠানে। পার্বত্য জেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বন্ধুরা অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে। রাঙামাটির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটকেই মিলনমেলার স্থান হিসেবে বেছে নেয়া হয়। প্রাঙ্গণকে সাজাতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে বন্ধু সরফুদ্দিন, নুর মুহাম্মদ, রাজিব, পুতুল, দেবাশীষ, মোরশেদ, পারভেজসহ অন্য বন্ধুরা। গভীর রাত পর্যন্ত মনের মাধুরী দিয়ে সাজিয়ে তোলে পুরো প্রাঙ্গণ। দুর-দুরান্ত থেকে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আর বন্ধুদের সাথে আনন্দে মেতে উঠতে সকলে এসে হাজির হয় রাঙামাটিতে।
নির্ধারিত সময়ে সকলে সমস্বরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয় দুই দশক পূর্তির আনুষ্ঠানিকতা। এরপর চলে মেয়েদের জন্য বালিশ খেলা, ঝুড়িতে বল নিক্ষেপ, ছেলেদের বেলুন ফুটানো, হাড়ি ভাঙার মনমুগ্ধকর সব ইভেন্ট। দুপুরের খাবারের পরেই বের করা হয় বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল র‌্যালী। বন্ধুদের ভুভুজেলা বাঁশির সুরে পুরো শহরে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি করে। শহর প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারে গিয়ে গ্রুপ ফটোসেশন। এরপর আবারো ফিরে আসা অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে। সন্ধ্যা নামার আগেই ফুল হাতে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন-৮৯ ব্যাচ, ৯২ ব্যাচ, ৯৪ ব্যাচ, ৯৫ ব্যাচ ও ৯৬ ব্যাচের অগ্রজ ভাই-বোনেরা। বন্ধুত্বের এমন বিরল মেলবন্ধন অটুট থাকার শুভাশিষও জানায় তাঁরা। তাঁদের সাথে চা-য়ের আড্ডায় উঠে আসে শহরকে ভালবাসার, ভালবেসে সকলে পাশাপাশি থাকার নানা আবেগময়ী কথা। অনুষ্ঠানের ফাঁকে কিছুটা সময় বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে আসেন ব্যাচের বন্ধু মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দত্ত ও রাঙামাটিতে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তাপস রঞ্জন ঘোষ। সন্ধ্যা নামার পরপরই সুরের মুর্ছনায় নেচে উঠে সকল বন্ধু। স্টেজে চলছে গান আর স্টেজের সামনে বন্ধুদের উন্মাতাল নৃত্যে যেন ফিরে গেল কৈশরের দুরন্তপনায়। বাধভাঙ্গা এমন উচ্ছ্বাস চলুক অনন্ত সময় ধরে; কিন্তু সময় যে বড্ড স্বার্থপর। সে তার নিয়মেই চলে। সময় থামিয়ে দিল উল্লাসের সে মধুর ক্ষণ। এবার যে ফিরে যেতে হবে; মন না চাইলেও যেতে হবে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফিরে গেলো সকলে। তবে যোগাযোগতো থাকছেই অনলাইন-মুঠোফোন আর অফলাইনে। ফের মিলবো বন্ধুরা কোন এক শুভ ক্ষণে। আবার আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠবে একবিংশ শতাব্দীর প্রথম ব্যাচের রাঙামাটির বন্ধুরা।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button