নীড় পাতা / ব্রেকিং / দীপেন দেওয়ানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ
parbatyachattagram

ভূমি নিয়ে বিরোধের জেরে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন ডা: দেওয়ান পরিবারের

দীপেন দেওয়ানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

রাঙামাটি জেলা শহরের কলেজ গেইট এলাকার ১৭১ নং দাগের ৫৮ শতাংশ জায়গার মালিকানা নিয়ে দীর্ঘ বহু বছর ধরে চলে আসছে দুই পক্ষের মামলা মোকদ্দমা। উভয় পক্ষের এ বিরোধকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনা সাংবাদিকদের অবহিত করার জন্য সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রয়াত ডা. এ কে দেওয়ানের পুত্র অদ্বিত দেওয়ান ও তার পরিবার। সোমবার সকালে শহরের কলেজ গেইট এলাকাস্থ একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে ডা. একে দেওয়ানের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার কনিষ্ঠ পুত্র অদ্বিত দেওয়ান। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘১৯৭৮ সালে সুবিমল দেওয়ান রাঙাপানি মৌজার ডা. এ.কে. দেওয়ানের জমির পাশর্^স্থ ১ দশমিক ৬৪ একর অস্থায়ী বন্দোবস্তি করার জন্য জেলা প্রশাসনের বরাবর আবেদন করেন। পরবর্তীতে তিনি আমিন ও কানুংগোর যোগসাজশে ১৯৬৯/৭০ সালে মিস কেচ নং ৫৭(ডি) এর বরাত ডা. এ.কে. দেওয়ানের নামে অস্থায়ী বন্দোবস্তিকৃত ৫৮ শতাংশ জমিসহ (১.৬৪+০.৫৮), ২ দশমিক ২২ একর জমি তার নামে স্থায়ী বন্দোবস্তী হিসেবে রেকর্ড করিয়ে নেয়। পরবর্তীতে ডা. একে দেওয়ান জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করলে তিনি উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে পুনরায় ৫৮ শতাংশ জমি ডা. একে দেওয়ানের নামে রেকর্ডভুক্ত করেন। কিন্তু তার পরেও সুবিমল দেওয়ান বিভিন্নভাবে আমার বাবাকে নাজেহাল ও হয়রানি করে যাচ্ছিলো। পরবর্তীতে এ মামলা হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। যার প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ভূমি আপীল বোর্ডের (ফুল বোর্ড) রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৩ সালে একটি রীট পিটিশন করেন। ২০১৫ সালে এ পিটিশন শুনানি শেষে সুবিমল দেওয়ানের দায়েরকৃত রীট পিটিশনটি মেরিট না থাকায় খারিজ করেন। পরে সুবিমল দেওয়ার উচ্চতর আদালতে আপিল করেননি। তাই হাইকোর্ট ৩০ দিনের মধ্যে উচ্চতর আদালতে আপিল না করায় আইনের দৃষ্টিতে তার আদালতে যাওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই।’

তিনি আরো জানান, ‘ সুবিমল দেওয়ানের পুত্র কেন্দ্রীয় বিএনপির উপ-ধর্ম বিষয়ক সম্পদক দীপেন দেওয়ান বিগত এক বছর যাবৎ এ জমিতে ডা. এ.কে. দেওয়ান ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার দোকান বা ঘর নির্মাণ করলেই তা তার সন্ত্রাসী জনবল দিয়ে ভেঙে ফেলে। এ নিয়ে থানায় মামলাও করা হয়েছিলো ডা. এ.কে. দেওয়ানের পরিবারের পক্ষ থেকে। পরবর্তীতে এ মামলায় বর্তমানে দীপেন দেওয়ান জামিনে আছেন। থানা থেকে ইতিমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে কোর্ট চার্জসীট দাখিল করা হয়েছে। যা শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। উভয়ের এ বিরোধীতার কারণে এবং দীপেন দেওয়ান ভুল তথ্য কোর্টে দিয়ে বিভ্রান্ত করে কোর্টে ১৪৪ ধারা জারির আবেদনও করেন। অথচ প্রতিবারেই শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গের কোনো কারন না থাকা সত্ত্বেও, শুধুমাত্র চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে আমাদের নির্মাণ কাজে বারবার বাধা প্রদান করেছেন তিনি। এ জমিতে যদি কোনো প্রকার স্থাপনা করতে চাই তাহলে তাকে চাঁদা দিতে হবে বলে তিনি আমাদের কাছে বারবার জানান। তার এ চাঁদা দাবির মুখে পড়ে আমরা আমাদের পৈত্রিক জমিতে কোনো স্থাপনা করতে পারছি না। তাই বিএনপি নেতা দীপেন দেওয়ানের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধে এবং তার সন্ত্রাসী জনবলের মিথ্যাচার, আমার পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং মানহানিকর বক্তব্য সম্পর্কে সজাগ থাকার জন্য অনুরোধ করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ডা. একে দেওয়ানের মেয়ের জামাই অনিমেষ চাকমা, মেয়ে অপরাজিতা দেওয়ান, ডা. একে দেওয়ানের ভাইয়ের ছেলে সুমিত দেওয়ান, সৌরভ দেওয়ান সহ পরিবারের সদস্যরা।

এর আগে একই ঘটনার নিজের পারিবারিক সম্পত্তি রক্ষায় সংবাদ সম্মেলন করে সড়ক অবরোধের হুমকি দিয়েছিলেন দীপেন দেওয়ান। জেলা বিএনপির সাবেক এই সভাপতি সর্বশেষ দলীয় কাউন্সিলে সভাপতির পদ হারান। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহধর্ম বিষয়ক সম্পাদক পদে আছেন,তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাঙামাটি জেলা বিএনপির কর্মসূচীগুলোকে রাজপথে বা দলীয় কার্যালয়ে দেখা যায়নি সাবেক যুগ্ম জেলা জজের চাকুরি ছেড়ে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেয়া এই নেতাকে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বান্দরবান শহর আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে অমল-সামশুল

বান্দরবান শহর আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে অমল কান্তি দাশ সভাপতি, সম্পাদক পদে সামশুল …

Leave a Reply