নীড় পাতা / ব্রেকিং / দীপংকরে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামীলীগ,মনিস্বপনে চাঙ্গা বিএনপি

দীপংকরে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামীলীগ,মনিস্বপনে চাঙ্গা বিএনপি

হঠাৎ’ই যেনো আড়মোড়া ভেঙ্গে জেগে উঠেছে রাঙামাটি বিএনপি। সম্ভাব্য তিন প্রার্থী দীপেন,মনীষ আর মনিস্বপনের দৌঁড়ঝাপ,নেতাকর্মীদের দ্বিধাবিভক্তি,উদ্বেগ,উৎকন্ঠার দিনরাত পার করে অবশেষে ধানের শীষের মনোনয়ন মনিস্বপন পাওয়ার পর যেনো হাফ ছেড়ে বাঁচা বিএনপির নেতাকর্মীরা আড়মোড়া ভেঙ্গে জেগে উঠেছে।

সকাল থেকে সন্ধ্যা,গভীর রাত অবধি রাঙামাটি শহরের প্রাণকেন্দ্র কাঠালতলিতে জেলা বিএনপি কার্যালয়,চত্বর,সংলগ্ন এলাকার চায়ের দোকানগুলো এখন সকাল বিকাল মুখর নেতাকর্মীদের ভীড়ে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানান গ্রুপিং দ্বন্ধে বিভক্ত আর সরকারি দলের মামলা-হামলায় বিপর্যন্ত দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে এমন চাঙ্গাভাব দেখা যায়নি আর। মূলতঃ তিন দেওয়ানের তুমুল প্রতিদ্বন্ধিতার পর মনিস্বপন দেওয়ান মনোনয়ন পাওয়ার পরই যেনো নড়েচড়ে বসেছে নেতাকর্মীরা। মনিস্বপন প্রার্থী হওয়ায়,তার বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা অন্য দেওয়ানদের চেয়েও বেশি মনে করছেন নেতাকর্মীরা। ফলে চাঙ্গাভাবটা বেশ দৃশ্যমানই। দীপেন দেওয়ান ও তার কিছু অনুসারি,‘অভিমানে’ কিংবা ‘ব্যর্থতায়’ মনোনয়ন না পাওয়ার বেদনা এখনো ভুলতে পারেননি,ফলে এখনো অফিসমুখি নন তারা। মনিস্বপনের প্রেসব্রিফিংয়ে আসার আমন্ত্রনে তাই সাড়া দেননি দীপেন,যদিও দুদিন আগে নিজ বাসায় নেতাকর্মীদের সাথে এক বৈঠকে দলের জন্য কাজ করতে সবাইকে আহ্বান জানিয়েছিলে তিনি। কিন্তু বাস্তবতা হলো তার অনুসারি দলের বিচ্ছিন্ন এই অংশটি এখনো সক্রিয় হয়নি,গুটিকয় এরা বাদে গ্রুপিং ভুলে মাঠে নেমে পড়েছে পুরো বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা। রাঙামাটি বিএনপি নিকট অতীতের যেকোন কোন সময়ের দৃশ্যত বেশ চাঙ্গা এবং প্রানবন্ত। শহরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ‘তবলছড়ি’তে মনিস্বপনের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী সভায় ব্যাপক মানুষের উপস্থিতিই যেনো অদৃশ্য কোন সুন্দরের ইঙ্গিত দিয়ে গেলো !

বিপরীতে ইউনিয়ন থেকে জেলা কিংবা দুর গ্রাম থেকে শহর,সবখানেই নিজেদের মধ্যে যতই বিভেদ কিংবা বিরোধ অথবা মতদ্বৈততাই থাকুক না কেনো,দাদা দীপংকরের ব্যাপারে বরাবরই একাট্টা রাঙামাটি আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। জীবনবাজি রেখে দাদাকে জয়ী করতে সচেষ্ট নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যেই পাহাড়ের নয়নাভিরাম পর্যটনকেন্দ্র সাজেক থেকে শুরু করেছে নির্বাচনী প্রচারণা। দুর পাহাড় কিংবা চকচকে শহর,সর্বত্রই চষে বেড়াচ্ছে দলটির নেতাকর্মী সমর্থক শুভ্যানুধ্যায়িরা,শুধুমাত্র দাদা দীপংকরকে বিজয়ী করতে। বিগত ৫ বছর দল ক্ষমতায় থেকেও দীপংকর সংসদ সদস্য না থাকায় ক্ষমতার ‘ভরকেন্দ্র’কে নিজেদের মতো করে উপভোগ করতে পারেনি দলটি। সারাদেশে ভূমিধস বিজয়ের মধ্যে রাঙামাটিতে পরাজয়ের শোক,গ্লানি এবং কষ্টকে ভুলতে এবার মরিয়া দলটির নেতাকর্মীরা জয়ের জন্য মরিয়া এখন। এই মরিয়া প্রচেষ্টার কারণে রাতদিন তুমুল প্রচারনায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। দলের ওয়ার্ড কমিটি থেকে জেলা কমিটি পর্যন্ত সবাই আন্তরিক কর্মপ্রয়াসে ব্যস্ত। ইতোমধ্যেই গঠিত হওয়া নির্বাচন পরিচালনা কমিটিগুলোও সক্রিয় হতে শুরু করেছে। শহরজুড়ে ব্যাপক পোস্টারিং আর অফলাইনে ও অনলাইনে শুরু হয়েছে জোর প্রচারনা। এ যেনো আত্মরক্ষার জন্য মরিয়া ও প্রানান্ত প্রচেষ্টা।
আওয়ামীলীগ আর বিএনপির এই দ্বৈরথকে বেশ উপভোগ করছেন রাঙামাটিবাসি। শহরের চায়ের দোকান থেকে আড্ডা কিংবা অফিস পাড়া সর্বত্রই এখন জোর আলোচনা দেশের প্রধান দুই দল আর তাদের প্রার্থী নিয়েই। তবে এই দুই দল নিজেদের ভোটে কতটুকুই বা পারবেন আঞ্চলিক দলগুলোর সংঘবদ্ধ প্রয়াসকে রুখে দিয়ে বিজয়ী হওয়ার দৌড়ে কতটা সফল হবেন কিংবা আদৌ হবেন কিনা,সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।

আরো দেখুন

আত্মীয়-স্বজনের ঘরেই ঠাঁই পেল অগ্নিদুর্গতরা

মাসুম, বয়স ৮ বছর। সকাল বেলার নাস্তা সেরে ঘর থেকে বের হয়েছিলো বন্ধুদের সাথে খেলতে। …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + twelve =