পাহাড়ের রাজনীতিব্রেকিংরাঙামাটিলিড

দীপংকরের সাথে লড়াই হবে কার ?

আয়তনে দেশের সবচে বড় জেলা রাঙামাটির সংসদীয় আসন একটিই। এই আসনটিতে ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৪ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ৫ টি জাতীয় সংসদ নিবার্চনের প্রতিটিতেই আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন দীপংকর তালুকদার। তার বিকল্প কোন প্রার্থী এখনো নেই ক্ষমতাসীন দলটিতে।

বিপরীতে বিএনপি ১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রত্যেক নির্বাচনেই নতুন নতুন প্রার্থী নিয়ে হাজির হয়েছে। কোন একজন প্রার্থীকেও দুইবার নির্বাচনে মাঠে নামাতে পারেনি দলটি। শুধু তাই নয়,কখনো ভাড়া করে আনা প্রার্থী,কখনো ঘরের বধু কিংবা অন্য দল থেকে উড়িয়ে আনা ব্যক্তিকেও প্রার্থী করা দলটি ২০০১ সালে মাত্র একবারই জয়ের মুখ দেখেছে এবং যার মাধ্যমে জয়ের মুখ দেখেছিলো সেই মনিস্বপন দেওয়ান নির্বাচনে আগে উড়ে আসলেও পরের নির্বাচনের আগেই আবার উড়ে গিয়েছেন বিএনপি ছেড়ে এলডিপিতে। ফলে এবারের নির্বাচনেও বিএনপিকে নতুন প্রার্থী নিয়েই মাঠে নামতে হবে।

দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপির ‘ভয়,আতংক এবং চ্যালেঞ্জর নাম পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলো। বর্তমানের চারধারায় বিভক্ত আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে রাঙামাটিতে সবচে প্রভাবশালী দল সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি। দলটি ২০০১ সালে নির্বাচন বর্জন করলেও ২০০৮ সালে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তৃতীয় স্থান লাভ করে এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনেই সারাদেশে আওয়ামীলীগের ভূমিধস বিজয়ের মধ্যেই রাঙামাটিতে নৌকার হেভিওয়েট প্রার্থী দীপংকর তালুকদারকে পরাজিত করে চমক সৃষ্টি করে। ধারণা করা হচ্ছে, এবারও দলটির প্রার্থী সেই ঊষাতন তালুকদারই এবং ভোটের মাঠে এবারেও বেশ শক্ত প্রতিদ্বন্ধি তিনিই।

আওয়ামীলীগ : পার্বত্য রাঙামাটির আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে দীপংকর তালুকদারই শেষ কথা। তাকে ঘিরেই আতর্তিত হয় এই জেলায় দলটির সামগ্রিক রাজনীতি। ১৯৯১ সাল থেকেই তাই তিনিই দলটির একক প্রার্থী। গত তিনদশকে তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন ভিন্ন এক উচ্চতায়,ফলে তার বিরুদ্ধে এই জেলায় প্রার্থী হবেন কিংবা দলীয় মনোনয়ন চাইবেন এমন ‘সাহস কিংবা ভাবনা’ও উঁকি দেয়না দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে। ইতোমধ্যেই জেলা আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে সর্বসম্মমভাবেই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হয়েছে কেন্দ্রকেও। আর আগামী নির্বাচনের জন্য যেকজন প্রার্থীর নাম আলোচনায় আছে,তাদের মধ্যে একমাত্র দীপংকর তালুকদারই চষে বেড়াচ্ছেন মাঠে ঘাটে সর্বত্র। সর্বশেষ নির্বাচনে পরাজিত হলেও তিনি সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড তদারকি ও বাস্তবায়নে রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও কোন না কোন কর্মসূচীতে যোগ দিচ্ছেন তিনি।
রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হাজী মো: মুছা মাতব্বর বলেন, ‘ আমাদের দাদা’ই আমাদের একমাত্র প্রার্থী। তার কোন বিকল্প নেই,প্রয়োজনও নেই। যেদিন তিনি স্বইচ্ছায় নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়াবেন সেদিনই আমরা অন্য প্রার্থী নিয়ে ভাববো।’ আগামী নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা শতভাগ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পাহাড়ের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আমাদের দাবি থেকে আমরা এখনো সরিনি এবং আমরা বিশ্বাস করি,যদি নির্বাচনের আগেই এইসব অবৈধ অস্ত্রধারিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া যায় এবং অস্ত্রের প্রভাবমুক্ত নির্বাচন হয়,তবে আমরাই নির্বাচিত হব। একই সাথে অবৈধ বিপক্ষে দাঁড়িয়ে কিভাবে বিজয়ী হতে হবে সেই কৌশলও নির্ধারন করছি আমরা।’

নিজের জয়ের ব্যাপারে ‘অত্যন্ত আশাবাদী’ দীপংকর তালুকদার বলেছেন, ‘ ২০১৪ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে রাঙামাটির ২০১ টি আসনের মধ্যে ৫৩ টি কেন্দ্রে জনসংহতি সমিতি অস্ত্রের মুখে জোর করে ৯৬ থেকে ৯৯ শতাংশ ভোট নিয়েছে। বাকি ১৪৮ টি কেন্দ্রে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। কিন্তু এই ৫৩ টি কেন্দ্রের ‘ভোট ডাকাতি’ ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করে দিয়েছে। এবার যদি তারা এই ভোট ডাকাতি করতে না পারে, নির্বাচন কমিশন যদি এটা নিয়ন্ত্রন করতে পারে,তবে আমিই নির্বাচিত হব। কারণ ঊষাতন তালুকদার নির্বাচিত হয়ে পাঁচ বছরে একটি ইটও স্থাপন করতে পারেনি কোথাও। বিপরীতে আমি সেই নির্বাচনে পরাজয়ের পরও জনগণের পাশেই ছিলাম,আছিও। সুতরাং নির্বাচন যদি ‘অবাধ ও সুষ্ঠু এবং সাধারন মানুষ যদি ভয়হীন পরিবেশে ভোট দিতে পারে,তবে আমি জয়ের ব্যাপারে ‘অত্যন্ত আশাবাদী’।

পাঁচবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনবার বিজয়ী হয়েছেন দীপংকর তালুকদার। প্রথমবার ১৯৯১ সালে প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিজে বিজয়ী হলেও তার দল আওয়ামীলীগ ছিলো বিরোধী দলে,ফলে দৃশ্যত কিছুই করার ছিলোনা তার। ১৯৯৬ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি পার্বত শান্তিচুক্তি সাক্ষরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আভ্যন্তরিণ উদ্বাস্তু বিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন এবং ২০০৮ সালে ফের বিজয়ী হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন ও ২০১৪ সালে নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালিন সরকারের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও একথা সত্যি যে, অভিমান ভুলে গত পাঁচ বছরে রাঙামাটির আনাচে কানাচে দৌড়ে বেড়ানো এবং রাজনীতি ও উন্নয়নের কাজে সবচে সক্রিয় নেতা হিসেবে ছিলেন তিনিই।

বিএনপি : পার্বত্য জেলা রাঙামাটির রাজনীতির এক বিস্ময়কর দল বিএনপি। সারাদেশের দাপুটে ও বিশাল সমর্থক নির্ভর এ দলটি গত তিনদশকে পার্বত্য এই জেলায় এমন কোন নেতৃত্ব নির্ধারন করতে পারেনি,যাকে গণমানুষের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া যায়। প্রতিটি নির্বাচনেই নতুন নতুন প্রার্থী হাজির করা দলটি এবারের নির্বাচনেও যদি অংশ নেয়,তবে নতুন কোন প্রার্থী নিয়ে হাজির হচ্ছেন এটা নিশ্চিত বলা হয়। ১৯৯১ সালে নাজিমউদ্দিন, ১৯৯৬ সালে পারিজাত কুসুম চাকমা,২০০১ সালে মনিস্বপন দেওয়ান,২০০৮ সালে মৈত্রী চাকমাকে প্রার্থী করা বিএনপিতে এবার মনোনয়ন দৌড়ে আছেন মনীষ দেওয়ান,দীপেন দেওয়ান এবং মো: শাহ আলম। এদের মধ্যে মনীষ দেওয়ান ও দীপেন দেওয়ান কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা এবং গত ১২ বছরে রাজনীতিতে এসেছেন। আর মো: শাহ আলম ছাত্রদল ও বিএনপির নানান দায়িত্ব পালন শেষে বর্তমানে জেলা বিএনপির সভাপতি। সম্ভাব্য এই তিন প্রার্থীর নাম সর্বত্রই আলোচনা হলেও রাঙামাটি বিএনপির পৃথক দুটি ধারাও দৃশ্যমান আছে। এদের মধ্যে মনীষ এবং শাহ আলম একই ধারার সমর্থনপুষ্ট আর দীপেন দেওয়ান বিদ্রোহী একটি ধারার সমর্থনেই এগোচ্ছেন।
রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি মো: শাহ আলম ,সাধারন সম্পাদক দীপন তালুকদার দীপু এবং সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট সাইফুল ইসলাম পনির বলেছেন, আমরা নির্বাচনে অংশ নিবো কিনা জানিনা। আমরা বেগম জিয়াকে ছাড়া কোন নির্বাচনেই যাবনা। তবে শেষাবধি যদি আমরা নির্বাচনে যাই,তবে তৃণমূলের সিদ্ধান্তেই আমাদের প্রার্থী চূড়ান্ত হবেন। তাই এখনো নিশ্চিত নয় কে আমাদের প্রার্থী হচ্ছেন।’

তবে রাঙামাটি বিএনপির বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, মনোনয়ন চাইবেন অনেক নেতাই। শেষাবধি চূড়ান্তভাবে বিবেচিত হবেন কেন্দ্রীয় নেতা মনীষ দেওয়ান,দীপেন দেওয়ান এবং জেলা সভাপতি মো: শাহ আলমই। এদের যেকোন একজনই হবেন দলটির প্রার্থী।
রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি হাজী মো: শাহ আলম বলেছেন, আমরা যদি নির্বাচনে অংশ নেই,তবে অনেকেই হয়তো মনোনয়ন চাইবে কিন্তু আমরা অতীতের মতো উড়ে এসে জুড়ে বসা প্রার্থীদের আর বিবেচনায় নিবোনা। যাদের ত্যাগ আছে,তৃণমূল থেকে উঠে এসেছেন,তাদেরকেই আমরা দলীয় মনোনয়ন দিতে চেষ্টা করব। ‘বারবার প্রার্থী পরিবর্তনের কারণে ভোটারদের উপর প্রভাব পড়ে’ এমন বক্তব্য স্বীকার করে তিনি বলেন, এবার আর তেমনটা হবেনা বলেই আমরা আশাবাদী। তিনি বলেন ‘ যদি আমার দল নির্বাচনে অংশ নেয়,তবে আমিও দলীয় মনোনয়ন চাইব। আমরা যারা বিএনপি দিয়ে রাজনীতি শুরু,তাদের মূল্যায়ন করার সময় এসেছে। তৃণমূলের মতামত ছাড়া আর কেউ প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। আর পার্বত্য রাজনীতির ভোটের হিসেবের নানান বিশ্লেষনে আমি প্রার্থী হলে দলের জয়ের সুযোগ থাকবে বেশি।’

অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলনকারি,মুক্তিযোদ্ধা,সাবেক সেনা কর্মকর্তা এবং বর্তমানে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ উপজাতীয় বিষয়ক সম্পাদক লে.কর্ণেল (অব.) মণীষ দেওয়ান বলেছেন, যদি বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়,তবে আমি দলীয় মনোনয়ন পেলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী এবং আমার বিশ্বাস রাঙামাটি বিএনপি ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সমর্থনে আমিই কেন্দ্রীয় বিএনপির মনোনয়ন পাব।’

এই দুইজন ছাড়াও নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন ২০০৬ সালের নির্বাচনের আগে সরকারি চাকুরি ছেড়ে বিএনপিতে আসা সাবেক যুগ্ম জেলা জজ দীপেন দেওয়ানও। তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের আইনের ফাঁকে আটকা পরায়,দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয় তার স্ত্রী স্কুল শিক্ষিকা মৈত্রী চাকমাকে। নির্বাচনে তিনি বিশাল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন নৌকার প্রার্থী দীপংকরের কাছে । ২০১০ সালে দলীয় সভাপতি হন দীপেন দেওয়ান। কিন্তু ২০১৬ সালে পরবর্তী কাউন্সিলে হাজী মো: শাহ আলমের কাছে পরাজিত হন তিনি। বিএনপির বিদ্রোহী একটি অংশকে নিয়ে সক্রিয় দীপেন দেওয়ানের অনুসারিরাও তার মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।

দীপেন দেওয়ানের অনুসারি ও সাবেক পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম ভূট্টো বলেন,যদি বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়,তবে দলীয় মনোনয়ন পাবেন দীপেন দেওয়ানই। এবং তিনি মনোনয়ন পেলেই এই আসনে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হবে। কেন্দ্রীয় বিএনপিও তার প্রতি সংবেদনশীল। তবে আমিও মনোনয়ন চাইব।’

রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট সাইফুল ইসলাম পনির বলেছেন, নিকট অতীতে তৃণমূল বিএনপি যাদের প্রত্যাখ্যান করেছে,তারা দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন না এটা নিশ্চিত এবং তৃণমূলে বিচ্ছিন্ন কিন্তু কেন্দ্রে যোগাযোগ করে মনোনয়ন পাওয়ার দিনও শেষ। যদি বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয় এবং জিততে চায়,তবে তৃণমূলের সুপারিশেই প্রার্থী মনোনয়ন দিতে হবে।’

ফ্যাক্টর যখন আঞ্চলিক রাজনীতি : পার্বত্য রাঙামাটিতে নির্বাচনী যুদ্ধ কিংবা স্থানীয় রাজনীতি,সবকিছুতেই আঞ্চলিক দলগুলোর প্রভাব অপরিসীম। ভোটের মাঠে নতুন এই দলগুলো সর্বশেষ দুটি নির্বাচনে বেশ বেকায়দায় ফেলেছে জাতীয় দলগুলোকে। এবারও এর ব্যতিক্রম হবেনা। কখনো পৃথক পৃথক প্রার্থী দিয়ে,কখনো ‘না’ ভোট দিয়ে আবার কখনো কখনো ভোটের মাঠে ‘শূণ্য’ ভোট দিয়ে বা ‘৯৯ শতাংশ’ ভোট দিয়ে চমক সৃষ্টি করা দলগুলোর প্রভাব অস্বীকার করতে পারেননা জাতীয় দলের প্রার্থীরাও। ফলে দৃশ্যত সশস্ত্র দলগুলোর ‘ব্যাপক ও আগ্রাসী’ দাপটে নির্বাচনী মাঠে কোনঠাসা হয়ে থাকে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি।

২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামীলীগের প্রার্থী পেয়েছিলেন ১,১৫ হাজার ১২ ভোট। পরাজিত বিএনপির ভোট ছিলো ৫৬ হাজার ৪২৯ ভোট। কিন্তু আঞ্চলিক দল জনসংহতি সমিতির ভোট ছিলো ৫১ হাজার ৮৩৩। আরেক আঞ্চলিক দল ইউপিডিএফ এর ‘না ভোট’ ছিলো ৩২ হাজার ৬৮ ! ঠিক পাঁচ বছর পর ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠিকই বিজয় ছিনিয়ে নেয় আঞ্চলিক দল জনসংহতি সমিতি,যাদের বাক্সে ভোট পড়ে ৯৬ হাজার ২৩৭। পরাজিত নৌকার ৭৭ হাজার ৩৮৫ ভোটের পাশাপাশি আরেক আঞ্চলিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা)র প্রাপ্ত ভোট ছিলো ২৪ হাজার ৩৭০,ইউপিডিএফ এর সচিব চাকমা ১২২৫,সমঅধিকার আন্দোলনের আবছার আলী ৫ হাজার ৩৯৫ ভোট পান।
জনসংহতি সমিতি ছাড়াও রাঙামাটিতে এখন সক্রিয় আরো তিন আঞ্চলিক দল ইউপিডিএফ,জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা) এবং ইউপিডিএফ(গনতান্ত্রিক)। এই চারটি দলের সম্পর্কের ‘মাত্রা ও হৃদ্যতা’ও বেশাখী মেঘের মতো,ক্ষণে ক্ষণে বদলায়। আপাতত বিশ্লেষনে এককালের প্রবল দুই প্রতিপক্ষ সন্তু লারমার জনসংহতি সমিতি ও প্রসীত খীসার ‘ইউপিডিএফ’ এখন ‘ভাই-ভাই’। আসন্ন নির্বাচনে প্রভাবশালী এই দুটি দল একসাথেই লড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে আঞ্চলিক দলের প্রভাব ও বলয় আরো বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। এই দলদুটির একক প্রার্থী হতে পারেন বর্তমান সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদারই। তবে এই দুটি দল থেকে বেরিয়ে গিয়ে নতুন দল হওয়া জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা) ও ইউপিডিএফ (গনতান্ত্রিক) ও বসে নেই। রাঙামাটির নানিয়ারচর ও বাঘাইছড়িতে দৃশ্যমান প্রভাব বলয় তৈরি এই দুটি দলও নিজেদের শীর্ষ দুই নেতা এডভোকেট শক্তিমান চাকমা ও তপন জ্যোতি চাকমা বর্মা হত্যার বদলা নিতে চাইবে আসন্ন নির্বাচনে পুরনো সতীর্থদের ‘উচিত শিক্ষা’ দিয়ে। সেইক্ষেত্রে এই দল দুটি নিজেরা প্রার্থী দিবে নাকি প্রতিপক্ষের ভোটারদের কেন্দ্রের কাছে ঘেঁষতে দেবেন না নাকি অন্য কোন প্রার্থীর ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করবেন,তা এখনো পরিষ্কার নয়। ফলে এদের ভূমিকা কি হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ভূমিকা যে থাকবে এটা নিশ্চিত বলা যায়।

সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির দায়িত্বশীল একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন,আমরা এখনই নির্বাচন নিয়ে কোন কথা বলব না,সময় আসুক। আমরা আদৌ নির্বাচনে অংশ নিবো কিনা সেটাও ভাবছি। কারণ পাহাড়ে নির্বাচনের পরিবেশ আছে কিনা সেটাও এটিও আমাদের বিবেচনায় আছে। সময় আসুক,সময়ে সব পরিষ্কার হবে।’

অন্যদিকে সুধাসিন্ধু-পেলে’র নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি ( এমএনলারমা)’র মুখপাত্র প্রশান্ত চাকমা বলেছেন, পাহাড়ে যেহেতু থাকি,রাজনীতিও যেহেতু করি,জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও তো ভাবনা থাকবে স্বাভাবিক। তবে এখনই কিছু বলছি না। শুধু এটা নিশ্চিত থাকেন, প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ,ভূমিকা আমাদের একটা থাকবেই।’

আপাতত সরাসরি মুখ খুলতে নারাজ আঞ্চলিক দলগুলোর ‘ইতিবাচক ও নেতিবাচক’ ‘ভূমিকা’ই নির্ধারন করবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কে হবেন এই আসনের বিজয়ী প্রার্থী। সে হিসেবে বিবেচনায় নিয়েই নিজেদের ছঁক কষছেন নৌকা,ধানের শীষের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও। ফলে আঁকাবাঁকা সবুজ পাহাড়ের মতোই নানান বাঁকে হোঁচট খাওয়া পাহাড়ের নির্বাচন রাজনীতিতে জয়ের ছক আঁকা বেশ কঠিনই বৈকি। তবে ভোটের যুদ্ধে,পার্বত্য এই জেলার সবচে ঋদ্ধ্য মানুষ হিসেবেই বিবেচিত দীপংকর তালুকদার নাকি অন্য কেউ শেষ হাসি হাসবেন সেটা বলে দিবে ভোটের দিনের বিকেলের অস্তগামি সূর্যই। যে ভোটযুদ্ধে নেতা নির্বাচনে অংশ নিবেন এই জেলার ৪ লক্ষ ১৭ হাজার মানুষ।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

12 + six =

Back to top button