খাগড়াছড়িব্রেকিং

দীঘিনালায় প্রতিদিন ঢুকছে শতাধিক গার্মেন্টসকর্মী,এলাকাজুড়ে আতংক

করোনা ভাইরাসের কারণে ঝূঁকিপূর্ন সময়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। প্রত্যেক এলাকার মানুষ রয়েছে ঘরবন্দি, বিশ্ব পরিস্থিতির সংবাদে সকলের মনে বিরাজ করছে অজানা আতংক। এমনি সময়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম থেকে প্রতিদিন শতাধিক গার্মেন্টসকর্মী দীঘিনালায় ফিরছেন। যে কারণে এলাকার মানুষের মাঝে বেড়েছে উদ্বেগ উৎকন্ঠা। আর এদের খোঁজ রাখতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশের, অনেককে আবার খোঁজেও পাচ্ছেনা পুলিশ।
এমনি এক অবস্থায় কোন কোন এলাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কোয়ারেন্টিন বানিয়ে সেখানে কিছু আগতদের রাখা হয়েছে। তবে প্রতিদিন শতাধীক গার্মেন্টসকর্মী দীঘিনালায় প্রবেশ করলেও উপজেলার ৫টি বিদ্যালয়ে কোয়ারেন্টিনে মাত্র ২৮জন থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এর বাহিরে কিছু লোক হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার দাবী করলেও অনেককে আবার পুলিশ খোঁজেও হদিস পাচ্ছেনা।
শনিবার সকাল থেকে দীঘিনালার প্রবেশ পথ জামতলি বাঙ্গালী পাড়ায় কাজ করেছেন রেডক্রিসেন্টের যুব সংগঠন যুব রেডক্রিসেন্ট। সে দলে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা কার্যালয়ের ফিল্ড অর্গানাইজার দীদারুল আলম রাফি। তারা সেখানে ঢাকা, চট্টগ্রাম থেকে আগতদের জীবানুনাশক ব্যাবহার করিয়ে ডাটা এন্ট্রি করেছেন।
রাফি জানান, শনিবার দীঘিনালায় ঢুকেছে চট্টগ্রাম থেকে ১১৬জন, গাজিপুর থেকে ৪জন, ফেনী থেকে ২জন এবং কুমিল্লা থেকে ২জন। এবং রবিবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত দীঘিনালায় ঢুকেছে চট্টগ্রাম থেকে ৯৭জন, ঢাকা থেকে ৪জন এবং গাজীপুর থেকে ১জন। যাদের অধিকাংশরাই গার্মেন্টসকর্মী আর কয়েকজন শ্রমিক। এর বাহিরে রাঙ্গামাটি থেকেও এসেছেন বেশ কিছু লোক।
অপরদিকে হটাৎ প্রতিদিন এতো গার্মেন্টসকর্মী দীঘিনালায় আসার ব্যাপারে সমালোচনার ঝড় বইছে যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। কেউ কেউ লিখছেন যেখানে গাড়ি চলাচল বন্ধ এবং ২/৩জন একসাথে হওয়া নিষেধ সেসময়ে এত গার্মেন্টসকর্মী এত দুরের পথ পাড়ি দিয়ে আসলো কিভাবে। অনেকেই এই আগতরা দীঘিনালার জন্য রীতিমতো হুমকি বলেও মন্তব্য করছেন।
বোয়ালখালি (সদর) ইউপি চেয়ারম্যান চয়ন বিকাশ চাকমা জানান, তাঁর ইউনিয়নের পোমাং পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোয়ারেন্টিনে ৩জনকে রাখা হয়েছিল পরে তারা মোনঘরে (জুম চাষের জন্য পাহাড়ে তৈরি করা ঘর) চলে গেছেন। এছাড়া তেবাবংছড়া এলাকায় কয়েকজন এসেছেন শুনে তেবাংছড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাদেরকে থাকার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তবে তারা এখনো বিদ্যালয়ে আসেননি।
দীঘিনালা ইউপি চেয়ারম্যান প্রজ্ঞানজ্যোতি চাকমা জানান, সে ইউনিয়নের তিনটি বিদ্যালয়ে ১৯জন কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। বানছড়া আনন্দময় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৪জন, উদালবাগান উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪জন এবং ৯নম্বর ওয়ার্ডের হেডম্যানপাড়ায় চেয়ারম্যান পাড়াকেন্দ্রে ১জন।
বাবুছড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান জানান, বাবুছড়া আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬জন কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন।
দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম চন্দ্র দেব জানান, সম্প্রতি সময়ে যারা দীঘিনালায় ঢুকছেন তারা হোম কোয়ারেন্টিন নীতিমালা মানছেন কিনা সে ব্যাপারে পুলিশ নজরদারি করছে; তবে ভূল ঠিকানা দেওয়ার কারণে অনেককে খোঁজেও পাওয়া যাচ্ছেনা। ওসি আরো জানান, এসময়টাতে হঠাৎ প্রতিদিন শতাধিক লোক চলে আসাতে তাদের খোঁজ করতে গিয়ে পুলিশকেও বেগ পেতে হচ্ছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

9 − one =

Back to top button