করোনাভাইরাস আপডেটখাগড়াছড়িব্রেকিংলিড

দীঘিনালার গ্রামে হামের প্রকোপ : হাসপাতালে ভর্তি আরো ২০ শিশু

খাগড়াছড়ির দীঘিনালার প্রত্যন্ত গ্রামে হামে আক্রান্ত হয়ে শনিবার এক শিশু মৃত্যুর পর রবিবার অপর এক শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আক্রান্ত ছিল আরো প্রায় অর্ধশতাধিক শিশু। সোমবার সকালে একই এলাকা থেকে আরো ৮শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকালে একই এলাকা থেকে আরো ১২ শিশুকে ভর্তি করা হয়। এ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ২১ জনে দাড়ালো।
হামে আক্রান্ত ওই প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে রোগী পরিবহনের জন্য গাড়ি ভাড়া এবং হাসপাতালে রোগীর সাথে থাকা স্বজনদের জন্য দীঘিনালা সেনাজোনের পক্ষ্য থেকে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জোনের মেডিক্যাল অফিসার ক্যাপ্টেন আহসান হাবিব নোমান।
অপরদিকে হাম আক্রান্ত গ্রামে গিয়ে মঙ্গলবার থেকে প্রতি ঘরে তল্লাশি করে আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যাবস্থা করা হবে এবং এসব এলাকাকে টিকার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ তনয় তালুকদার।
সোমবার সকালে হাসপাতালে ভর্তিকৃতরা হলো অলেন্দ্র ত্রিপুরা (১৫), কমপেন ত্রিপুরা (৬), কসেল ত্রিপুরা (৭), ধীমন ত্রিপুরা (৭), খঞ্জন ত্রিপুরা (৭), মেরীনা ত্রিপুরা (৫) ও তপেন ত্রিপুরা (৮)। এছাড়া একই এলাকার ধনুচান ত্রিপুরা (১২) ভর্তি হয়েছে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে।
একইদিন বিকালে হাসপাতালে ভর্তি করা আরো ১২জনকে।
এর আগে রবিবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় পান্থই ত্রিপুরাকে (৯)। এর আগের দিন শনিবার বিকালে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় ধ্বনিকা ত্রিপুরা (৯)। এ খবর পাওয়ার পর রবিবার সকাল থেকে সে এলাকায় গিয়ে চিকিৎসা সেবা দেয় উপজেলা হাসপাতালের মেডিক্যাল টিম। সেদিন সেখানে ২৩জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পুরো ঘটনাটি উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের ত্রিপুরা অধ্যুষিত দূর্গম রথিচন্দ্র কার্বারী পাড়াতে। সে পাড়ায় মাত্র ৮৪ পরিবারের বসবাস। তবে রথিচন্দ্র কার্বারী পাড়ার পার্শ্ববর্তি রেমন পাড়া এবং জেরক পাড়াতেও হামের প্রকোপ দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
ভাইবোনছড়ায় বহু আক্রান্ত
এদিকে জেলা সদরের ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে অজ্ঞাত রোগ ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবী করেছেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পরিমল ত্রিপুরা। তিনি জানান, ইউনিয়নের নবকুমার কার্বারিপাড়া, শ্যামবাড়িপাড়া, আলমনিপাড়া, রবিধন পাড়া, সুধন্যকার্বারি পাড়া, ভেজাচন্দ্র কার্বারিপাড়ায় অর্ধশতাধিক শিশু অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তাদের অনেকেরই জ¦র, কাশি ও শরীরে লাল লাল দাগ দেখা যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে খাগড়াছড়ি সিভিল সার্জন নুপুর কান্তি দাশ জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে দুটি মেডিকেল টীম ঐসব গ্রামে কাজ করছে। পৃথক মেডিকেল টীমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডা. মিল্টন ত্রিপুরা ও ডা. অর্নব ত্রিপুরা।
সিভিল সার্জন বলেন, ‘এই কয়দিনে মেডিকেল টীমের সদস্যরা ৮৭জন শিশুর চিকিৎসা দিয়েছেন। এরমধ্যে শুধুমাত্র ২/৩জন শিশুর মধ্যে হামের লক্ষন ধরা পড়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসায় সেরে উঠছে। এসব এলাকায় চিন্তিত হবার মতো কিছু ঘটেনি।’
তবে সিভিল সার্জন ডা. নুপুর কান্তি দাশ জানান, অপুষ্টির কারণে শিশুরা মূলত: অসুস্থ হচ্ছে। এছাড়া গ্রামবাসীর মধ্যে কুসংস্কার আর হাসপাতাল বা চিকিৎসকদের কাছে আনতে অনিহা প্রকাশই বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button
Close