ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

দিন ছয়েক আগেও ‘নির্জিব’ ‘ম্যারম্যারে’ ভোটের মাঠ !

রাঙামাটি পৌরসভা নির্বাচন-২০২১

সুহৃদ সুপান্থ
ভোটের বাকি ছয়দিন,অথচ এখনো কি নিষ্প্রাণ নির্জিব সব ! রাঙামাটি পৌরনির্বাচনের ভোটের মাঠ এখনো মূলত: জাগিয়ে রেখেছেন কাউন্সিলর প্রার্থীরাই। মেয়র প্রার্থী হিসেবে পাঁচজন আছেন বটে, তবে যেদিকে দুচোখ যায়, কাউন্সিলর প্রার্থীদের পোস্টার ! মেয়র পদে শুধুই নৌকার প্রার্থীর পোস্টার,বেশ কিছু জায়গায় আছে ধানের শীষের পোস্টারও,বাকি তিন প্রার্থী ? তাদের পোস্টারও চোখে পড়ে কোথাও কোথাও,কিন্তু বাস্তবতা হলো,তারা আছেন তাদের মতোই,যেনো না থাকাটাই বড় বেশি জানান দিচ্ছে তাদের থাকাটাকে !

পুরো শহরের অলিগলি ছেয়ে গেছে নৌকার পোস্টারে,নির্বাচনী অফিসও চোখে পড়ছে দেদার,প্রচার প্রচারনায় যোজন যোজন এগিয়ে টানা দুই মেয়াদে নির্বাচনের স্বপ্ন চোখে নিয়ে শহর দাপিয়ে বেড়ানো মেয়র আকবর ও তার কর্মী সমর্থকরা। দিনান্তের শুরু বা শেষ,প্রচারনার রণকৌশলে ঠিকই মাত করে দিচ্ছেন তিনি। প্রানান্ত চেষ্টায় মাঠে নামিয়েছেন ‘অভিমানী’ নেতাকর্মীদেরও। সাথে আছে তার ‘নিজস্ব মানুষ’জন। উপরে কিংবা ভেতরে,পৃথক পৃথক রণকৌশল নিয়ে যোদ্ধার পুরো সাঝে মাঠেই আছেন আকবর,মোঘল বাদশার মতো করেই ! জনরায়কে নিজ পক্ষে নিয়ে জিততে চান,থাকতে চান আরো পৌর মেয়র পদে। সেই চেষ্টায় কোথাও কোন খুঁত রাখছেন না। ‘প্ল্যান-এ’ কিংবা ‘বি’ সবই প্রস্তুত তার। দৃশ্যত পাশেই আছেন বরাবরের মতোই দীপংকর তালুকদার,মুছা মাতব্বরসহ পুরো আওয়ামীলীগ,মাঠের প্রচারে,ড্রইংরুমের পরামর্শে কিংবা কৌশল নির্ধারনেও। আর অগ্রজ জাকির ‘ছায়াবৃক্ষ’ হয়ে সামলাচ্ছেন তার নির্বাচনের সবদিক !

বিপরীতে বুক টান করে মাঠে নামা ধানের শীষের মামুন নিজের সর্বস্ব দিয়েই চেষ্টা করছেন রুখে দাঁড়াতে,হেলায় পাওয়া সুযোগ ষোলআনা কাজে লাগাতে। মাঠে তার অনুসারি দলের নেতাকর্মীরাও আছেন,সবভাবে,সবখানে। কিন্তু কোথায় যেনো ঠিক চেনা সুরে বাজছে না সঙ্গীত ! বিজয়ী হওয়ার জন্য যে প্রত্যয় কিংবা আত্মবিশ্বাস,তা চোখে পড়ছে না মামুনের নেতাকর্মীদের চলনে বলনে কাজে কিংবা কথায়। বরং আড়ালে আবঢালে ‘খুনঁসুটি’ আর ‘কথাচালাচালি’তেই ব্যস্ত তার রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের অনেকেই ! সকাল থেকে মধ্যরাত,শহরের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত চষে বেড়াচ্ছেন মামুন। সাথে আছেন পৌর বিএনপি,জেলা বিএনপি,ছাত্রদল,যুবদলসহ অনেকেই। তবে ঠিক যেভাবে থাকার কথা,সেখানে চোখে পড়ছেনা দলটির অনেক সিনিয়র ও প্রভাবশালী নেতাকে। কেউ কেউ আছেন বটে,কিন্তু কেনো আছেন,সেটা নিয়ে ‘গবেষনা’ও হতে পারে ! বাতাসে খবর রটছে,এই দলের অনেকেই পা দিয়ে আছেন ওদলের নৌকায়। নির্বাচনকালিন সময়ের এসব খবরের সত্যতাই বা কে খোঁজে ! তবে ভোটের রাজনীতিতে বরাবরই কূশলী মামুন, এর আগে যতবারই জিতেছেন কিংবা হেরেছেন,সবই বিভিন্ন সামাজিক,সাংস্কৃতিক,ক্রীড়া কিংবা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে। এবার তার কঠিন পরীক্ষা সরাসরি ভোটে,যেখানে জনগণ সরাসরি ভোটে বেছে নিবেন নগরপিতা। যে যুদ্ধে জেতার সুযোগ কিংবা সম্ভাবনা,সবার জীবনে সবসময় আসে নাহ্। এটা মামুনও জানেন। তাই জীবনের প্রথম সুযোগটাই কাজে লাগাতে সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আকবর আর মামুনের সাথে টেক্কা দিয়ে মেয়র হওয়ার দৌড়ে আছেন জাতীয় পার্টির প্রজেস,বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মান্নান আর আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী হয়ে দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া অমর কুমার দে। এরা ভোটের মাঠে কতটা আলোড়ন তৈরি করতে পারবেন কিংবা পেরেছেন কিনা তা বোঝা যাবে ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায়,যখন ইভিএম মেশিনে কাস্ট হওয়া ভোটগুলোর কাউন্টিং শুরু হবে,দিনমানের ভোটগ্রহণ শেষে।

আপাতত বলাই যায়,ভোটের সাতদিন আগেও ঠিক ‘ভোটভোট’ আমেজ নেই মেয়র পদে। কাউন্সিলরদের তুমুল প্রচারনা আর টেনশনের মধ্যে মেয়র পদ যেনো নিষ্প্রাণ,নির্জিব কিংবা ঠিক চুপচাপ ! কিন্তু কি কারণ ? অনেকের সাথে কথা বলতেই ভেসে এলো চাঁছাচোলা উত্তরের আঁচ- ‘কি লাভ’, ‘কিইবা আর হবে’ ‘বেহুদা শত্রু হওয়ার দরকার কি!’ এমন ভাবনাই সম্ভবত ছড়িয়ে পড়েছে পুরো শহরেই। ফলে মেয়র নিয়ে কেউই আর তেমন কিছু ভাবছেন নাহ্,বলছেন নাহ্,সবার ভাবনাজুরে খানিকটা আছেন কাউন্সিলররাই। মেয়র পদের ভোট নিয়ে যেনো উৎসাহহীন উদ্যাপনের মানসিক প্রস্তুতিই সেড়ে নিচ্ছেন সবাই ! নাকি নীরবে সিদ্ধান্ত জানানোর নীরব প্রস্তুতি নীরবেই সেড়ে নিচ্ছেন,কে জানে !

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button