ব্রেকিংরাঙামাটি

দশভূজার আগমণে মণ্ডপে মণ্ডপে শাঁখের ধ্বনি

নজরুল ইসলাম লাভলু
নীল-সাদা আকাশ, ভোরের আবছা কুয়াশা, শ্বেতশুভ্র কাশফুলের দোলা, বাতাসে শিউলী ফুলের ঘ্রাণ। প্রকৃতির এই শোভনীয় রূপের মোহনীয় সজ্জা জানান দিচ্ছে শরতের আগমনী বার্তা। সঙ্গে নিয়ে এসেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। দুষ্টের বিনাশ ও সৃষ্টের পালন করতে বছর ঘুরে আবারও দুর্গতিনাশিনী দশভূজা ‘দুর্গা’ এসেছে তাঁর ভক্তদের মাঝে। সকল অপেক্ষার পালা শেষ। রাঙামাটির ৪১টি পূজা মণ্ডপে সকল প্রস্তুতি শেষে মহাষষ্ঠীতে দুর্গতিনাশিনী দশভূজা দেবীর বোধন।

আগামীকাল (মঙ্গলবার) মহাসপ্তমীর দিন মহাধুমধামে শুরু হবে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গাপূজা। ঢাকের বোল, কাঁসর ঘণ্টা, শাঁখের ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠবে পূজা মণ্ডপগুলো। বছর ঘুরে দেবীর আগমনী বার্তায় উৎসবের আমেজ এখন হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে।

এদিকে রাঙামাটি জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এবছর রাঙামাটির দশ উপজেলায় মোট ৪১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরমধ্যে সদর উপজেলার ১৪টি পূজা মণ্ডপের মধ্যে জেলা শহরেই রয়েছে ১৩টি। এছাড়া বাঘাইছড়ি উপজেলায় ৫, লংগদুতে ৩, বরকলে ২, জুরাছড়িতে ১, বিলাইছড়িতে ১, কাপ্তাইয়ে ৭, নানিয়ারচরে ১, কাউখালীতে ৪ ও রাজস্থলী উপজেলায় ৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপন করা হচ্ছে।

কাপ্তাই উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপক কুমার ভট্টাচার্য্য জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও কাপ্তাইয়ের ৭টি পূজা মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা। শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে প্রতিটি মণ্ডপে প্রস্তুতি শেষ। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় কাপ্তাইয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেবী দুর্গার পূজা। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাপ্তাইয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাব্যক্ত করেন। এছাড়া শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে কাপ্তাইবাসীসহ সকলকে তিনি শারদীয় শুভেচ্ছা জানান।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রাঙামাটি জেলার সভাপতি অমর কুমার দে বলেন, এবছর রাঙামাটির দশ উপজেলায় মোট ৪১টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব হচ্ছে। এর মধ্যে জেলা শহরেই ১৩টি মণ্ডপে পূজা হচ্ছে। পূজায় কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ-প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের মনিটরিং টিমের পক্ষ থেকে মণ্ডপ পরিদর্শন করা হবে।

রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তাপস রঞ্জন ঘোষ বলেন, পূজাকে ঘিরে রাঙামাটির মণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা বিধানে ৪০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতি মণ্ডপে পাঁচজন পুলিশ সদস্য সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া দুটি মণ্ডপের জন্য পুলিশের একটি মোবাইল টিম রয়েছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button