পর্বতকন্যাপ্রকৃতিপুরাণরিপোর্টার্স ডায়রি

দক্ষিন ভারতঃ বৈচিত্র্যের অভিরূপ……

 তানিয়া এ্যানি

এ্যাকশন নির্ভর চিত্রগল্প কিংবা কাহিনীর ভেতর কাহিনী নায়কের মারদাঙ্গা চরিত্র একই সাথে রোমান্টিসিজম , সুন্দরী নায়িকার অভিনয় দক্ষতা একই সাথে সাহসী পদচারনা এমন অসংখ্য বিষয়ের সামষ্টিক চিত্র হয়ে আমাদের সামনে ভেসে আসে যে সিনেমা অঞ্চল তার নাম সাউথ ইন্ডিয়ান মুভিস, টলিউড। সমস্ত ইন্ডিয়ার মুভি ইন্ডাস্ট্রির ৫০% রেভিনিউ-ই আসে এই মুভি ইন্ডাস্ট্রি থেকে। তামিল, তেলেগু, মালাইলাম, কানাডা এবং টুলু ফিল্মের সমন্বয় এই দক্ষিন ভারতীয় সিনেমা জগত। ভারতবর্ষের এই অঞ্চল মুলত নিজেদের স্বতন্ত্র্য এবং বৈচিত্র্যপুর্ন সিনেমার জন্যই আমাদের কাছে বিশেষ পরিচিত হলেও বাস্তবেও এই অঞলের যাপন জনসাধারন এবং সংস্কৃতিতে রয়েছে নানা বৈচিত্র্য।

অনেকটা তাদের সিনেমা জগতের মতই।সমাজের নানা শ্রেনী পেশার লোকজনের জীবন ধারন খাবার দাবার সংস্কৃতিতে যেমন রয়েছে বৈচিত্র্য একইসাথে নিজ ধর্ম নিজ ভাষা নিজ সংস্কৃতির প্রতি রয়েছে অগাধ ভালোবাসা শ্রদ্ধা। দক্ষিন এশিয়ার বৃহত্তম এবং বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম রাষ্ট্র ভারতবর্ষের ২৮টি অঙ্গ রাজ্যের অন্ধ্রাপ্রদেশ, কার্নাটাকা, কেরালা, তামিলনাড়ু এবং তেলেঙ্গানা রাজ্য সাউথ ইন্ডিয়ার অংশ হিসেবে ধরা হয়। আন্দামান নিকোবার দ্বীপ, লাকসা দ্বীপ এবং পান্ডূচেরীও এই অঞ্চলের অধিভূক্ত। পূর্বে বঙ্গোপসাগর পশ্চিমে আরব সাগর এবং দক্ষিনে ভারত মহাসাগর বেষ্টিত এই অঞ্চলের জীবনাচারনও প্রায় সমুদ্র নির্ভর।

সমৃদ্ধ জীব বৈচিত্র্য সমুদ্রসৈকত বনাঞ্চল স্থাপত্যকলার অপূর্ব নিদর্শন দক্ষিনভারত।হাইটেক সিটি বেঙ্গালর কিনবা ব্যাকওয়াটারে নৌকাবিহারে রাত্রিযাপনের কেরালা, স্থাপত্য শিল্পের অপূর্ব নিদর্শন ইউনেস্কো হেরিটেজ সাইট হাম্পি, ফরাসী উপনিবেশের নিদর্শন নিয়ে এখনো টিকে থাকা পান্ডূচেরী কি নেই এই অঞ্চলে! কানাডা তামিল তেলেগু মালায়লাম টুলু ভাষাভাষির এই অঞ্চলে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে মুসলিম আধিক্যও তুলনামূলক বেশি। পর্যটন সমৃদ্ধ এই অঞ্চলের মানুষের জীবনাচারন সংস্কৃতি খাদ্যভাসও ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে ভিন্ন।সংস্কৃতিবৈচিত্র্য তে ভরপুর ভারতের এই অংশেই উৎপত্তি নাচের নানা ধারার।ভারতনাট্যম, কথাকলি, কুচিপুডি, মোহিনীঅট্টম ব্যাপক পরিচিত এইসব নৃত্যের ধারক বাহক এই দক্ষিন ভারতই। বিশ্বের নানা অঞ্চলের সংস্কৃতিপ্রেমী লোকজনের আনাগোনাও বেশী তাই এই অঞ্চলে।ধর্মীয় উৎসব আয়োজনেও বেশ সরব এই অঞ্চল,তবে নানা ভাষাভাষির আয়োজনও ভিন্ন।

অনাম,পংগল,মাইসুর দসারা, গনেশ চতুর্থী নানাধরনের উৎসব আয়োজন বেশ ঘটা করেই পালন করা হয় ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন স্টেটে। ইডলি, দোসা, সাম্বার, রাগী বলই মূলত এই অঞ্চলের প্রধান খাবার।অধিকাংশই মূলত ভেজিটেরিয়ান। দিন ভেদে কখনো সখনো নন ভেজের আধিপত্যও দেখা যায়। নানা উৎসব আয়োজনে ফুলের ব্যবহার লক্ষনীয়। ভারতের অন্যান্য প্রান্তের চেয়ে সবচেয়ে বেশি বিমানবন্দর রয়েছে এখানে। দক্ষিন ভারতের রাজ্যগুলোর সাথে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে এবং সর্বোপরি অন্যান্য দেশের সাথেও এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ উন্নত। দক্ষিন ভারতের মূল প্রবেশপথ ধরা হয় চেন্নাইকে।

যদিও হাইদ্রাবাদ, বেঙ্গালর, কোচি, তিরুবনন্তপুরমেও রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। পর্যটন স্পট হিসেবে বাংলাদেশ থেকে দক্ষিন ভারতের দূরত্ব খানিকটা বেশি হলেও দক্ষিন ভারত নিরাশ করবেনা কোন পর্যটককে।সমুদ্র বনাঞ্চল পাহাড় স্থাপত্য ঐতিহ্য সংস্কৃতি সব মিলিয়েই মুগ্ধ করবে এই অঞ্চল। নিজ ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতি ভাষাকে ভালোবেসেই সাথে নিয়েই একটা জাতীর সামগ্রিক উন্নয়নের পরীক্ষিত অবয়ব দক্ষিন ভারত………

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button