খাগড়াছড়িলিড

তিন কোটি টাকার মাদ্রাসা ভবন নির্মাণে অনিয়ম !

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায়

জাকির হোসেন, দীঘিনালা
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মাদ্রাসার নির্মানাধীন চারতলা ভবনের নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে গিয়ে সত্যতাও পেয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহ বলেছেন, ’সরেজমিনে তদন্তের সময় স্থানীয় লোক এবং নির্মান শ্রমিকদের সাথে কথা বলে অভিযোগের অনেক বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে। বাকিটা ল্যাব টেষ্টের পর জানা যাবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে ২ কোটি ৯৭ লাখ ৬২হাজার ৯৩৫টাকা ৪৬ পয়সা নির্মান ব্যায় ধরে উপজেলার রসিক নগর দাখিল মাদ্রাসার চারতলা ভবন নির্মানের দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজটি পায় চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স (প্রাঃ) লিঃ। মূলত এ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেরা কাজ না করে কাজ করাচ্ছে দীঘিনালার আরেক ঠিকাদার মোঃ আঃ কাইয়ুমকে দিয়ে। কাজের সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একজন প্রকৌশলি উপস্থিত থাকার বিধান থাকলেও এ কাজে কোন প্রকৌশলী উপস্থিত ছিলনা। ইতিমধ্যে দ্বিতীয়তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজও সম্পন্ন হয়েছে।

২৪ জানুয়ারী জেলা পরিষদের মাসিক সভায় এ ভবন নির্মানে অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপিত হয়। যা সভার রেজুলেশনে অন্তর্ভূক্তি করা হয়েছে। সে রেজুলেশনের ১৬ ক্রমিকে নির্বাহী প্রকৌশলি, শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ এবং নির্বাহী প্রকৌশলি খাগড়ছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদকে চি‎হ্নিত করে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘দীঘিনালা রসিক নগর দাখিল মাদ্রাসার ছাদ ঢালাইয়ের কাজের মান খুবই নিম্ন মানের ছিল। ছাদ ঢালাইয়ের কাজটি কোন পর্যায়ের নিম্ন মানের হয়েছে তা সরজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় তিনি সরেজমিনে তদন্ত করেছেন। তদন্তে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, নির্মান কাজের শুরুতে ঠিকাদারের প্রধান রাজমিস্ত্রি কাজ ছেড়ে চালে গেছেন। চলে যাওয়ার কারণ হিসেবে সেই মিন্ত্রী জানিয়েছেন, ভবনটির কাজে নির্ধারিত সিমেন্ট হতে ১ হাজার বস্তা সিমেন্ট কম ব্যবহার করতে বলেছিলেন ঠিকাদার। এ ধরনের দুর্নীতি করার অপরাগতা প্রকাশ করেই কাজ ছেড়ে চলে যান সে সময়ের প্রধান মিস্ত্রি আফজাল হোসেন।

নির্মাণ কাজে কিছু স্থানীয় বালুর সাথে সিলেটের বালুর মিশ্রনে ২.২ গ্রেডের বালু ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও সম্পূর্ন কাজেই স্থানীয় বালু ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। কাজের শুরুতে সিলেটের কিছু বালু এনে স্তুপ করে রাখা হলেও তা আদৌ ব্যবহার হয়নি। এছাড়া কার্যাদেশ অনুযায়ী ভবনের নিচের অংশে (ভিটাতে) দেড়ফুট সেন্ট ফিলিং (বালু দিয়ে ভরাট) ধরা থাকলেও সেটিও ভরাট করা হয়েছে মাটি দিয়ে। এ বিষয়ে কাজের দায়িত্বে থাকা কাইয়ুম মাটি দিয়ে ভরাটের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘পরবর্তীতে মাটি তলে ফেলে দিয়ে বালু দিয়ে ভরাট করে দেওয়া হবে।’
এছাড়া বড় অভিযোগটি হল, ছাদ ঢালাইয়ে সিমেন্ট+বালু+কংক্রিটের সংমিশ্রনের নিয়ম হল ১+১.৫+৩ (১টুকরি সিমেন্ট+দেড় টুকরি বালু+৩টুকরি কংক্রিট)। কিন্তু করা হয়েছে ১+৩+৬ (১টুকরি সিমেন্ট+ ৩টুকরি বালু+ ৬টুকরি কংক্রিট) যার কারণে ভনটির স্থায়িত্বকাল ঝূঁকিপূর্ন হয়েছে। অবশ্য এ বিষয়ে সত্যতা নিরুপনের জন্য ল্যাব টেষ্টের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী রজনী কুমার চাকমা জানান, অভিযোগের প্রক্ষিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঢালাইয়ে সংমিশ্রনের অভিযোগের বিষয়টি ল্যাব টেষ্টের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ঠিকাদার মো. আব্দুল কাইয়ুম জানান, তিনি ঠিকাদারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। আর অনিয়মের অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা বলে দাবি করেছেন মিঃ কাইয়ুম।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button