করোনাভাইরাস আপডেটখোলা জানালারাঙামাটিলিড

তিনটি ব্যায়ামের মাধ্যমে নিজেরাই ভেন্টিলেটরের কাজ করতে পারি

বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত থেকে আমরা জানতে পারি যে, করোনা ভাইরাসের প্রধান আক্রমণস্থল ফুসফুস বা লাঞ্চ। আমরা জানি যে, মানব শরীরে দুটি লাঞ্চ থাকে যা মানব শরীরের অক্সিজেন সরবরাহ করে। এই অক্সিজেনের সাহায্যে শরীরের প্রত্যেক অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সক্রিয় থাকে। লাঞ্চ থেকে অক্সিজেন হৃদপিন্ডে এসে রক্তকে পরিশোধিত করে এবং অক্সিজেন মিশ্রিত রক্ত ধমণী ও কৌশিক জালিকার মাধ্যমে শরীরের কোষ এবং রন্দ্রে রন্দ্রে পৌঁছে শরীরকে উজ্জীবিত ও প্রাণবন্ত রাখে। এই অক্সিজেন সরবরাহ কোন কারণে বাধাগ্রস্থ হলে শ্বাসকষ্টের উপক্রম দেখা দেয়।
কিছু কিছু কারণে এই শ্বাসকষ্ট হতে পারে। তখন আমরা রোগীকে সুস্থ করার জন্য প্রাণান্ত চেষ্টা করি। হয় মেডিসিন দেই নতুবা কৃত্রিমভাবে অক্সিজেনের সরবরাহ করি। অথবা ভেন্টিলেটরের মাধ্যমে রোগীকে সুস্থ করে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করি। প্রশ্ন হল, এই করোনা পরিস্থিতিতে এত অক্সিজেন সিলিন্ডার বা ভেন্টিলেটর কোথায় পাব? তাই আমরা যদি অক্সিজেন সিলিন্ডার বা ভেন্টিলেটরের কাজটা নিজে নিজেই করতে পারি সে ক্ষেত্রে প্রত্যেক রোগীই এক একটা অক্সিজেন সিলিন্ডার বা ভেন্টিলেটরের কাজ করতে পারেন। আমরা বৈজ্ঞানিক ব্যাখা অনুযায়ী জানতে পারি, করোনা ভাইরাস সাধারণত চারদিন পর্যন্ত গলার মধ্যেই অবস্থান করে। পর্যায়ক্রমে এই ভাইরাস লাঞ্চে আসে এবং শ্বসণ যন্ত্রের প্রক্রিয়াকে ব্যহত করে। শ্বসনযন্ত্রে আক্রমণের সাথে সাথে শ্বাস কষ্টের উপশম দেখা দেয়। ঠিক তখন থেকেই আমরা কর্মপরিকল্পনা শুরু করতে পারি। যখন থেকে রোগী শ্বাসকষ্ট অনুভব করবে, তা হল শ্বাস কষ্টের প্রাথমিক পর্যায়। এই সময় রোগী অতটা দুর্বল হবে না। এই সময় থেকেই রোগী তার নিজের জন্য, নিজে বেঁেচ থাকার জন্য জীবাণুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারে।
কয়েকটি ব্যায়ামের মাধ্যমে তা শুরু করা যায়। করোনা রোগীদের শ্বাস কষ্টের লক্ষণ দেখা মাত্রই এই ব্যায়ামগুলো অনুসরণ করতে হবে। কোন ক্রমেই বুকের মধ্যে শ্লেমা জমতে দেয়া যাবে না। জমতে থাকা এই শ্লেমা বা আঠালো পদার্থগুলি এলবোলাই বা শ্বাসনালীতে শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি-প্রকৃতি ব্যাহত করে। নিম্নলিখিত এই তিনটি ব্যায়ামের মাধ্যমে লাঞ্চ এবং শ্বাসনালীকে পরিষ্কার করা যায়।
প্রথম ব্যায়াম: এই ব্যায়ামটি হলো খুব জোরে লাঞ্চ এর উপর চাপ সৃষ্টি করে ভিতর থেকে জমে থাকা শ্লেমা বের করে আনতে হবে।
দ্বিতীয় ব্যায়াম: নিশ্বাস এবং প্রশ্বাসের মাধ্যমে এই ব্যায়াম অভ্যাস করা যায়। গভীরভাবে নিশ্বাস নিতে হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত নেয়া যায় এবং ধীরে ধীরে এই নিশ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ছাড়তে হবে। এই ব্যায়ামটি ২০-২৫ বার অভ্যাস করতে হবে।
তৃতীয় ব্যায়াম: গভীর নিশ্বাস নিয়ে ১ মিনিট পর্যন্ত দম বন্ধ করে রাখতে হবে। পুনরায় ধীরে ধীরে দম ছাড়তে হবে। এই ব্যায়ামটি কমপক্ষে ২০ বার অভ্যাস করতে হবে।
প্রথম ব্যায়ামের মাধ্যমে বুকের ভেতর বা লাঞ্চে জমে থাকা শ্লেমা বা আঠালো পদার্থগুলি পরিষ্কার করতে হবে। দ্বিতীয় ব্যায়ামের মাধ্যমে লাঞ্চের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন সরবরাহ করাতে হবে এবং তৃতীয় ব্যায়ামের মাধ্যমে সেই অক্সিজেন শরীরের রন্দ্রে রন্দ্রে প্রবেশ করাতে হবে। আধা ঘন্টা হতে এক ঘন্টা পর্যন্ত এই ব্যায়ামগুলি অভ্যাস করতে হবে। প্রতিদিন দুই বার এই ব্যায়ামগুলি করতে হবে। প্রতিবার ব্যায়াম করার পাশাপাশি লাঞ্চ দুটিকে আরো শক্তিশালী করার জন্য আমরা কম্বিনেশন স্টেরোয়েড ব্যবহার করতে পারি। ব্যায়ামের মাধ্যমে লাঞ্চে পরিষ্কার করে স্টেরোয়েড নিলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। জমে থাকা শ্লেমা পরিষ্কার হয়ে গেলে, সেখানে স্টেরোয়েড শতভাগ কাজ করে। এই স্টেরোয়েড জমতে থাকা শ্লেমা এবং আঠালো পদার্থগুলিকে লাঞ্চ থেকে সরিয়ে দেয় এবং পুনরায় জমতে থাকা থেকে বিরত রাখে। অনেকটা স্পেশাল ফোর্স এর মত কাজ করে এবং শ্বসন যন্ত্রের প্রক্রিয়াকে সচল রাখে। ব্যায়াম এবং স্টেরোয়েডের সমন্বয়ে লাঞ্চকে পরিষ্কার করে শ্বসন যন্ত্রকে সচল রাখা যায়। শ্বসন যন্ত্র সচল থাকলে হৃদপিন্ডের রক্ত চলাচল প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। রক্ত চলাচল সচল থাকলে কিডনির ফাংসানও ঠিক থাকবে। এতে করে রোগী সুস্থ অনুভব করবেন। এক্ষেত্রে আমরা তিনটি পদ্ধতিতে স্টেরোয়েড ব্যবহার করতে পারি। ইনহেলেশন এবং ইনজেকশন ও খাবার ট্যাবলেটের মাধ্যমে।
আমরা এখানে ইনহেলেশনের মাধ্যমে স্টেরোয়েড নিব। কারণ ইনহেলেশন স্টেরোয়েডের তেমন কোনো পার্শ¦প্রতিক্রিয়া থাকে না। এই স্টেরোয়েড দ্রæত গতিতে লাঞ্চে পৌঁছে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। স্টেরোয়েড দিনে দুইবার ব্যবহার করা যায়, ১২ ঘন্টা পর পর দুই পাপ করে। করোনা রোগীর ক্ষেত্রে ডাক্তার রোগের তীব্রতা বুঝে ডোজ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সাথে প্রয়োজন হলে এন্টিবায়েটিক ব্যবহার করা যেতে পারে যেমন- অএ। কফের কালার যতক্ষণ পর্যন্ত হলুদ হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত এন্টিবায়েটিক প্রয়োজন নেই। করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রে এন্টিবায়েটিক ব্যবহার করা যেতে পারে। সাথে এন্টিএলার্জিক ও সিভিট দেওয়া যেতে পারে। এন্টিএলার্জিক যে কোন এলার্জেনকে প্রতিহত করবে। সি-ভিট শরীরকে উজ্জীবিত ও প্রাণবন্ত রাখবে। এছাড়াও ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর পর ১ কাপ বা আধা গøাস করে পানি পান করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। পানি পান করলে জমতে থাকা শ্লেমা বা আঠালো পদার্থগুলি ঘনিভূত হতে পারে না। তাই কাশির মাধ্যমে সহজেই শ্লেমা পরিষ্কার করা যায় এবং বায়ু চলাচলের পথ সুগম হয়।
উপরে উল্লেখিত তিনটি ব্যায়ামের মাধ্যমে আমরা বাহির থেকে লাঞ্চে অক্সিজেন সরবরাহ অব্যাহত রাখতে পারি। এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে যোকোনো রোগীই তার শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি একজন সুস্থ মানুষের মত সচল রাখতে পারেন। বিশেষ করে ভেন্টিলেশন প্রক্রিয়া নিজেই চালু রেখে, বাহির থেকে বিশুদ্ধ অক্সিজেনযুক্ত বাতাস সঞ্চালন করাতে পারেন। তখন রোগীর কৃত্রিম অক্সিজেন সিলিন্ডার বা ভেন্টিলেটরের কোন প্রয়োজন পড়ে না। এভাবে আমরা যে কোন জীবাণু বা এলার্জেনের বিরুদ্ধে (Not Only Corona Virus) যুদ্ধ ঘোষণা করে লাঞ্চকে পূর্বের কার্যকর অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। করোনার ভেকসিন বা প্রতিষেধক আবিষ্কারের পূর্ব পর্যন্ত এভাবেই অদৃশ্য শত্রæ করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে।

লেখক : মন্তোষ সূত্রধর, সাবেক ল্যাবটেক- এমএসএফ হল্যান্ড

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button
Close