করোনাভাইরাস আপডেটব্রেকিংরাঙামাটিলিড

তালাবদ্ধ পর্যটন স্পটগুলোতে শুধুই শূণ্যতা

রাঙামাটি জেলার বিপুল সংখ্যক মানুষের অন্যতম আয়ের পথ পর্যটন খাত। যেসব পর্যটন স্পট প্রতিদিন শত শত মানুষের পদচারণায় মুখর থাকতো, এখন করোনার প্রভাবে সেসব পর্যটন স্পট তালাবদ্ধ হয়ে পড়ে আছে গত ১৮ মার্চের পর থেকে।
১৮ মার্চ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাঙামাটিতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে বন্ধ করে দেয়া হয় সব পর্যটন স্পট। তারপর দিনই রাঙামাটিতে অবস্থান করা সকল পর্যটক রাঙামাটি ছাড়ে, তখন থেকে সব আবাসিক হোটেলও বন্ধ। অন্য বছরগুলোতে এই সময়টাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা জাতিগোষ্ঠির ভিন্ন ভিন্ন আয়োজনের সাথে পহেলা বৈশাখ পালনে রাঙামাটিতে অবস্থান করে হাজারো পর্যটক। যা এবার করোনা মহামারি কারণে সম্ভব হয়নি।
রাঙামাটি পার্কে মুজিবর্ষে শিশুদের জন্য যোগ করা হয় রেলগাড়ি। কিন্তু সে রেলগাড়ি বসানোর কাজ শেষ করে সকলের জন্য উন্মুক্ত করার আগেই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বন্ধ করে দেয়া হয় অন্য সকল পর্যটন স্পর্টের মতো পার্কটিও। পার্কের সামনের গেইটে সেঁটে দেয়া হয়েছে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পার্কটি বন্ধ থাকার নোটিশ। মরণব্যাধি করোনার সংক্রমণ নির্মুল হওয়ার পরই হয়তো চালু হবে আবার শিশুদের বিনোদন কেন্দ্রটি। তখনই নতুন সংস্থাপন করা রেলগাড়িটিতে চড়বে শিশুরা। ইতিমধ্যে নতুন যোগ হওয়া খেলনাগুলো যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অন্য খেলনাগুলো আবারো শিশুদের আনাগোনায় মুখর হওয়ার প্রতিক্ষায় স্থির দাড়িয়ে আছে।
একইভাবে পর্যটকের পদচারণায় দুলছে না ‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ খ্যাত পর্যটন ঝুলন্ত ব্রিজ। সম্প্রতি পর্যটকদের জন্য জনপ্রিয় হয়ে ওঠা নানা সুবিধা সংবলিত পলওয়েল পার্কটিও পর্যটকের আনাগোনার অভাবে পড়ে রয়েছে নিষ্প্রাণ হয়ে।
আসামবস্তী রাঙামাটি-কাপ্তাই সড়কটিতেও নেই তারুণের আনাগোনা। যেখানে প্রতিদিন বিকেলে প্রকৃতির নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে আনাগোনা থাকতো শত তারুণের। যার কারণে এক এক করে যে সড়কটিতে গড়ে উঠে বেশ কয়েকটি পর্যটন স্পট। সেসব পর্যটন স্পটও তালাবদ্ধ। কাপ্তাই লেকের মাঝ পথে ছোট ছোট দ্বীপে গড়ে ওঠা পর্যটন স্পটগুলোর মালিক কর্মচারীরা প্রহর গুণছে মহামারি শেষে কখন আবার পর্যটকের আনাগোনা শুরু হবে তার।
শুধু পর্যটন স্পট নয় পর্যটক সহায়ক গাইডিং সেবা দেয়া চেঙ্গী ট্যুরিজম’র মতো প্রতিষ্ঠান গুলোর কর্তাব্যাক্তিরা চাবি হাতে প্রহর গুণছে কখন খুলবে অফিসের তালা, আবারো পযর্টকের আনাগোনায় মুখর হবে রাঙামাটি। জেলার পর্যটক গাইডরা অতিবাহিত করছে আয়বিহীন বেকার সময়।
চেঙ্গী ট্যুরিজমের ব্যবস্থাপন কাজে নিয়োজিতরা জানান, আশা করেছিলাম এই বছর পহেলা বৈশাখে প্রচুর পর্যটক আসবে রাঙামাটিতে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে তা হলো না। তবে সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় করোনা জয় করে আশা করি সামনের বছর বিপুল সংখ্যক পর্যটক আসবে। আমরা এই বছরের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবো।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button