রাঙামাটিলিড

তবে কি নিখিল কুমার চাকমা’ই হচ্ছেন চেয়ারম্যান ?

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড

অরণ্য ইমতিয়াজ

রাজনৈতিক ক্ষমতার বিচারে অতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়তো নয়, কিন্তু পাহাড়ে উন্নয়নে ‘পাইওনিয়ার’ ভূমিকার জন্য বরাবরই প্রভাবশালি প্রতিষ্ঠান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি,খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবানের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্যই ১৯৭৬ সালে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় রাঙামাটিতে। বর্তমানে এই অঞ্চলের সবচে নয়নাভিরাম অফিস ভবন হিসেবে বিবেচিত, এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরুর পর কয়েক দশক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চরের জিওসি’রাই চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

তবে ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে প্রথমবারের মতো বেসামরিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকেই মনোনয়ন দেওয়া হয় চেয়ারম্যানের। সেই সময় খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত, দলটির সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়াকে চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়ন দেয় দলটি। নানান কারণে অকারণে আলোচিত এই নেতার আমলেই পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বর্তমান ভবনটি নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য বীর বাহাদুরকে চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়।

পরে ২০১৪ সালে বীর বাহাদুর পার্বত্য মন্ত্রী হিসেবে মনোনীত হলে উন্নয়ন বোর্ডে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় সাবেক পার্বত্য সচিত নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরাকে। প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন এই কর্মকর্তাকে টানা দুই মেয়াদে নিয়োগ দেয়া পর গত ১৮ মার্চ শেষ হয় তার মেয়াদ।

এরপর থেকেই গত প্রায় তিনমাস ধরেই শূণ্য পড়ে আছে চেয়ারম্যান পদটি। এরই মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে আশীষ কুমার বড়ুয়াকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে,যিনি নিজের চাকুরির মেয়াদের শেষান্তেই আছেন।

পুরো পাহাড়জুড়ে এখন জল্পনা কল্পনা চলছে,কে হচ্ছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের পরবর্তী চেয়ারম্যান।
আলোচনায় আছেন খাগড়াছড়ির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমা, সাবেক সচিব সুদত্ত চাকমা,রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমার নাম। এরা ছাড়াও খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার নাম শোনা যাচ্ছে এই পদে মনোনীত হওয়াদের সম্ভাব্য তালিকায়।

আলোচনায় যাদের নাম শোনা যাচ্ছে,তাদের মধ্যে স্পষ্টতই এগিয়ে থাকার কথা শোনা যাচ্ছে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি নিখিল কুমার চাকমার নাম।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুরের অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত এবং স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের কাছে ‘নিকটজন’ হিসেবে পরিচিত নিখিল এই দৌড়ে বেশ এগিয়েই আছেন অন্যদের চেয়ে। রাঙামাটির রাজনীতিতে আওয়ামীলীগের যে ক’জন নেতার সাথে পার্বত্য মন্ত্রীর ‘ভীষণ সখ্যতা’ রাজনৈতিক কর্মীদের আলোচনায় থাকে বরাবরই,তাদের মধ্যে পৌর মেয়র আকবর এবং নিখিল কুমার চাকমা অন্যতম।


পার্বত্য মন্ত্রনালয়,প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ আওয়ামীলীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র চেয়ারম্যান হওয়ার দৌড়ে নিখিল কুমার চাকমার এগিয়ে থাকার তথ্যই জানাচ্ছে,অনেকটাই ‘নিশ্চিত-নির্ভার’ হয়েই। সূত্রগুলোর দাবি,ইতোমধ্যেই এই সংক্রান্ত প্রস্তাবনাও প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছেছে,পার্বত্য মন্ত্রনালয় থেকে।
কিন্তু বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি, সম্ভব হয়নি ক্রস চেক করাও।নাম প্রকাশ করে বক্তব্য দিতেও রাজি হয়নি সূত্রগুলো।

এই বিষয়ে আরো তথ্য পেতে পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুরের সাথে যোগাযোগ করেও সাড়া মেলেনি।

তবে রাজনীতির কূশলী ও বাকপটু খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত নিখিল কুমার চাকমাও দিলেন কৌশলী উত্তর। বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করা নিখিল কুমার চাকমা পাহাড় টোয়েন্টিফোর ডট কমকে জানিয়েছেন, ‘আকাশে চাঁদ উঠলে সবাই দেখবে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যাকে যোগ্য এবং দায়িত্ববান মনে করবেন,তাকেই নিয়োগ দিবেন এই পদে।’
‘আমিও আপনাদের মতো নানাজনের সাথে আমার নামও শুনছি,তবে আমি সত্যিই কিছু জানিনা,কোথায় কি হচ্ছে। তবে নেত্রী দায়িত্ব দিলে অবশ্যই সেটি পালন করতে পারব।’

নিখিল কুমার চাকমার কথায়ও ধোঁয়াশা কাটল না পুরোপুরি। তবে খুব অল্প সময়েই যে আকাশের চাঁদ উঠতে যাচ্ছে,সেটা নিশ্চিত হওয়া গেলো নানান সূত্রেই। আর যদি নিখিল কুমার চাকমা’ই শেষাবধি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হোন,তবে তিনিই হবেন প্রতিষ্ঠানটির প্রথম রাজনৈতিক চেয়ারম্যান,যিনি জনপ্রতিনিধি না হয়েও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হবেন। আর এই ‘ছোট্ট সুযোগ’টিই নিতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন খাগড়াছড়ির সংরক্ষিত সংসদ সদস্য বাসন্তী !

এখন দেখার পালা, আওয়ামীলীগ সরকারের সর্বশেষ মেয়াদেই বান্দরবান থেকে পার্বত্য মন্ত্রী হওয়ায় এই জনপদের বাকি দুটি জেলার মধ্যেই লড়াইটা সীমিত হয়ে গেছে চেয়ারম্যান প্রশ্নে। এখন দেখার পালা,এই লড়াইয়ে শেষাবধি কে জয়ী হয়,রাঙামাটি নাকি খাগড়াছড়ি ? নিখিল নাকি বাসন্তী ??

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button