করোনাভাইরাস আপডেটখোলা জানালাব্রেকিংলিড

তবুও জীবন যাচ্ছে কেটে…

জীবন কি আসলেই কেটে যাচ্ছে নাকি কেবলই সময়টুকুর বয়ে যাওয়া!
সবকিছুরই নিয়ম থাকে নীতি থাকে।সকালে জোর করে ঘুম থেকে উঠা কিনবা দিন ভর সীমাহীন ব্যস্ততা। ব্যস্ততার ভিড়ে অনলাইন অফলাইনে বাতচিত থাকবে,আড্ডা থাকবে। ক্লান্ত শরীরে ঘরে ফেরা থাকবে কিনবা ক্লান্ত শ্রান্ত হয়েই আড্ডা তারপর ঘর। তারপর নিজস্ব রাত নিজস্ব খুঁনসুঁটি। মায়ের হাতের রান্না কিংবা নিজের করা রান্না। দের রাত জেগে কখনো মুভি কখনো প্রিয়জনের সাথে বাতচিত অথবা কিছু পারিবারিক সময়। ফের সকালে আবার ছুট যে যার নিয়মে। এই রুটিনটাই আমাদের প্রিয় এই রুটিনেই আমরা বাঁচি। যত সময়ের সঙ্কট হোক যতই ক্লান্ত হইনা কেন এই নিয়মেই আমাদের বসবাস এই নিয়মেই প্রেম।

জ্যাম রোদ ঘাম কিংবা বৃষ্টি শেষে কাদা মাখা দুর্গন্ধের রাস্তা। আমাদের তাতেই বেঁচে থাকা।সপ্তাহান্তে একটা শুক্রবারের অপেক্ষা,প্রিয়জনের ঘরে ফেরার অপেক্ষা কিনবা উৎসবের আয়োজনে ঘরে ফেরার তাড়া।ঘন্টার পর ঘন্টা কিনবা শেষ রাত থেকে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা একটা টিকেটের।ফাঁকা রাজধানী আর জমজমাট মফস্বল কিংবা গ্রাম। আমাদের এই ব্যতিব্যস্ত জীবন বন্দি এই রাশভারি বন্দিযাপনে। আমাদের সে বেলা ডুবে গেছে অকাল অনলে!
সময়টাকে উদযাপন করুন ভালো থাকুন সৃজনশীল কাজ করুন কিন্তু কতক্ষন ! একই জায়গায় বন্দি থেকে চিন্তার দৌড় আসলে আর কতদূর গড়ায় ! খুব আগ্রহ আমেজ নিয়ে কাজে ঝাপিয়ে পড়া ছেলেটা মেয়েটাও এতদিনে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছে,প্রিয় মুখ প্রিয় বন্ধুদের আড্ডা এসব ছাড়া ঠিক বেঁচে থাকা যাচ্ছেনা। ভার্চুয়াল জীবনটাও বিরক্তিকর হয়ে উঠে উঠছে। ভালোর চেয়ে মন্দটাকে টেনে হেঁচড়ে বের করে মেতে উঠছি আদিম সমালোচনায়। এভাবে ঠিক বাঁচা যায় নাৃৃএটাকে ঠিক বেঁচে আছি বলা যায়না।ভার্জুয়াল যোগাযোগ কিংবা মুঠোফোনের আড্ডাটা ঠিক সেই স্বাদটা দেয়না। যে মেয়েটা জানতো আমিতো একাই বাঁচি আমার আর কি। সেও কি বিরক্ত হচ্ছে না এই বাধ্য সময়ে! আমাদের বেঁচে থাকার জন্য আকাশ চাই সবুজ চাই জল রোদ্দুরের খেলা চাই এই দীর্ঘ সময়ের বন্দিদশা কিনবা আকাশ সবুজের বিরতি খুব করে বুঝিয়ে যাচ্ছে সে হিসেব।আমার কাউকে লাগেনা আমি একাই একশ আমিরাও নিশ্চয় ঠিক টের পেয়ে যাচ্ছে একা আসলে কেউ বাঁচতে পারেনা,আমার প্রতিদিনকার রুটিন হাজারটা কাজের ফিরিস্তি কিনবা পথে কিনবা রেস্টুরেন্টে দেখা মানুষ কিনবা অপরিচিত জন অথবা টুপ করে নেমে আসা সূর্য আমরা এইসব নিয়েই মূলত বাঁচি।সবটা নিয়েই জীবন।

অথচ কোনদিন হয়তো ভাবিই নি এইযে পথে যেতে যেতে যে রিকশাওয়ালা চাচার ঘামে ভেজা ছেড়া শার্টের দিকে তাকিয়ে আছি যে আমি, কোন না কোনভাবে সেটা আমার মস্তিষ্কে যেয়ে লাগছে আমাকে ভাবাচ্ছে আমাকে বাঁচাচ্ছে।অথচ বেঁচে থাকার জন্য কখনো সেই রিকশাওয়ালা চাচার কাছে কৃতজ্ঞ হয়েছিলাম! কিনবা পাড়ার মোড়ের টুনির মা,যাকে কেবল শীতকালেই দেখা যায়।খালা ভাপা আর চিতইয়ের সারি নিয়ে বসতো।হাঁড় কাঁপুনে শীতে খালার গরম গরম চিতই পিঠা সাথে ভর্তা। সেই স্বাদের নেশায় শীতের অপেক্ষায় থাকা,শীত চলে যাওয়ার আফসোস তৈরি হওয়া!এটা কি বেঁচে থাকা নয়!খালা বিক্রি করছে আমি টাকা দিয়ে খাচ্ছি ব্যাপারটা কেবল এটুকুই মনেহয় হয়তো।এইযে আজকাল আস্ত রাতের পর রাত জেগে থাকি ফেসবুক স্ক্রল করি কিংবা ইন্টারনেট দুনিয়া দিনশেষে কেবল বিরক্তি আর বিরক্তি!নতুন কিছু ঠিক আর আসছে না ঘটছে না।সৃষ্টিহীন উল্লাসে ঠিক জমেনা হৃদয় আবার কিছু সৃষ্টি তুলে দিতে হয় প্রাত্যহিক জীবন এবং প্রকৃতির হাতে। চলতে চলতে সৃষ্টিতে বাঁচি চলতে চলতে বাঁচায়।

বেঁচে থাকা ভাবনা কিংবা শ্বাস নেয়ায় আমাদের চারপাশের প্রত্যেকটা সম্পর্ক খুব জরুরী।গাছ পালা আকাশ জল কিনবা ব্যস্ততা অফিসে বসের ঝাড়ি কিংবা টিচারের রাগী চোখ কোনটাই উপেক্ষা করতে পারিনা আমরা।আচ্ছা,বেঁচে গেলে সম্পর্কগুলোয় শান দিতে পারবোতো! আমাদের মনে থাকবে আমরা এক টুকরো আকাশের জন্য হাসফাস করছিলাম!আমাদের কি মনে থাকবে আমরা এই বর্ষায় জারুল সোনালু কৃঞ্চচূড়া ছুঁতে মরিয়া হয়ে যাচ্ছিলাম।আমরা কি এই হাসফাস করতে করতে টের পেয়েছি আমি কি কখনো সোনালুর গাছ লাগিয়ে ছিলাম,ঘরে অথবা বাহিরে! ভাবনাহীন এই সময়ে মাথা কাজ না করা বেলায় আমরা অন্তত একবার কৃতজ্ঞ হই সে সম্পর্কগুলোর প্রতি যাদের জন্য মূলত আমরা বাঁচি,আপাত হয়তো কখনো ভাবিইনা তারাই আমাদের বাঁচায়।একটা সবুজ গাছ কিংবা একজন টুনির মা।পারিপার্শ্বিক উপাদান কিংবা ব্যস্ততা।

আমাদের সেই ব্যস্ত সময় চাই আমাদের সেই দম ফেলতে না পারার ব্যস্ততা চাই সমস্ত ব্যস্ততা দৌঁড়ঝাপে আমরা ঠিকই দম নিয়ে নিবো অথচ এই অফুরন্ত সময়ে দম আটকে যায়ৃৃঅথচ এই দুঃসহ সময়ই আমাদের শিখিয়ে যায় কোন কিছুই ঠিক অবধারিত নয়,আমার সমস্ত জীবনের নিয়ন্ত্রন কেবল আমার হাতে ঠিক তাই নয় আমার চারপাশের প্রতিটা নিয়ামক আমাদের প্রভাবিত করে সে মানুষ হোক কিনবা প্রকৃতি।কিন্তু ফলাফল প্রশমিত রাখার ক্ষেত্রে নিয়ামক ঠিক রাখার দায়িত্ব আমাদের।অনেকটা রসায়নবিদ্যার লাশাতেলিয়নীতির মতই।নিজস্ব সুন্দর সাম্যবস্থা।

আমরা আসলে একা বাঁচি না আসলে একা বাঁচা যায় না,ফুল পাখি রোদ জ্যাম ভীড় ব্যস্ততা আমাদের সব চাই বাঁচতে। এই অসুন্দর বেঁচে থাকা যদি আমাদের সত্যিই জানায় শ্বাস নেয়াই বেঁচে থাকা নয় তবে হয়তো আমরা পারি একটুখানি সতর্ক হতে ,অনেকখানি বেঁচে থাকার নেশায় এই একটুখানি আটকে থাকায় বাঁচতেৃৃপৃথিবী সুস্থ হয়ে যাক আমরা ফের রোদ জ্যাম ভীড় ঠেলে চা খেতে বের হবো,সমস্ত দিনের ক্লান্ত নিয়ে জমিয়ে আড্ডা দিয়ে তবেই ঘরে ফিরবো। ডুবি ডুবি সূর্যের আলোয় মন খারাপের বাহানা করে ঠিকই নতুন স্বপ্ন বুনে নিবো,ফের বাঁচার নেশায় এই যাত্রায় না হয় সতর্ক হই। জানি,জানাই।

লেখক : দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রাম’র ফিচার এডিটর। স্কলার,মাস কমিউনিকেশন ও জার্নালিজম,ব্যাঙ্গালোর ইউনিভার্সিটি

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button