ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

তফসিলের আগেই ভোটের উঞ্চতা রাঙামাটি পৌরসভায় !

আজ রবিবার ঘোষিত হতে পারে তফসিল

তফসিল ঘোষণা হয়নি এখনো। হবে, হবে, এমন আভাসেই ভোটের মৌতাত দেশজুড়ে। জাতীয় নির্বাচনের পরই সম্ভবত দেশের সবচে বেশি প্রভাব ফেলা প্রেস্টিজিয়াস নির্বাচন ভাবা হয় পৌর নির্বাচনকে। সেই নির্বাচনকে ঘিরে নীরব প্রস্তুতি চলছে পাহাড়েও। পাহাড়ের রাজধানী খ্যাত রাঙামাটি শহরজুড়ে যেনো এখন আগাম ভোটের উঞ্চতা। শীত পুরো নামার আগেই এখন এ শহরে ভোটের উঞ্চতা টের পাচ্ছেন পৌর নাগরিকরা।
বর্তমান মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী যেমন আবার মনোনয়ন পেতে দৌড়াচ্ছেন,চালাচ্ছেন জোর প্রচেষ্টা,তেমনি সাবেক মেয়র এবং পরপর দুইবার দৃশ্যত দলীয় প্রার্থীকে ছাড় দেয়া বা সেক্রিফাইস করা হাবিবুর রহমানও এবার মরনপণ চেষ্টাই করছে দলীয় সমর্থনে প্রার্থী হতে। চুপটি করে বসে নেই ক্ষমতাসীন দলের পৌর কমিটির নেতারা। সভাপতি সোলায়মান চৌধুরীর নাম প্রতিবারের নির্বাচনেই আলোচিত হয়,কিন্তু অজানা কারণ বারবারই শেষ মুহুর্তে পিছিয়ে যান বা যেতে বাধ্য হওয়া এই নেতা এবার প্রানান্ত চেষ্টাই করছেন।
দলীয় মনোনয়ন পেতে চান পরিবহন মালিক নেতা মঈনুদ্দিন সেলিমও,রিজার্ভবাজার থেকে দীর্ঘদিন মেয়র হতে না পাওয়ার বেদনা ভোলাতে বেশ সক্রিয়ভাবেই মাঠে আছে তরুন এই আওয়ামীলীগ নেতা। আওয়ামীলীগের মনোনয়ন চাইছেন তেল ব্যবসায়ি মনিরুজ্জামান রানাও। শোনা যাচ্ছে,প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা মাহবুবুর রহমানের পুত্র মেহেদী মাহবুবের নামও। মনোনয়ন চাইবেন আগেও একবার প্রার্থী হয়ে পরাজিত হওয়ার সিনিয়র আওয়ামীলীগ নেতা ও জেলার যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মতিন। আলোচনায় আছেন তরুণ আওয়ামীলীগ নেতা ও ব্যবসায়ি নেতা আবু সৈয়দও। শেষাবধি এদের মধ্য থেকে কার কপাল খোলে সেটাই এখন দেখার বিষয়।
অন্যদিকে বিএনপিতে প্রার্থী শূণ্যতা না থাকলেও প্রার্থী নিয়ে যূথবদ্ধতার বড়ই অভাব চলছে। মনোনয়ন চাইছেন সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম ভূট্টো, সদর থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ পৌর বিএনপির সভাপতি শফিউল আজম, জেলা যুবদল সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাকিল,সাধারন সম্পাদক আবু সাদাত মো: সায়েম। এদের মধ্যে সম্ভাবনার দৌড়ে কে যে সবার চেয়ে এগিয়ে বোঝা মুশকিল। দৃশ্যত জেলা বিএনপি বর্তমানে ঐক্যবদ্ধ হলেও ভেতরে ভেতরে চলা তুষের আগুণের দায় এবার সম্ভবত বইতে হবে দলটিকে। প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় আছে,তাদের যেকোন একজন প্রার্থী করা হলে বাকিরা একযোগে হাতে হাত ধরে মাঠে কাজ করবেন, এমন বিশ^াস ে নেই দলটির শীর্ষ থেকে তৃণমূলে। এনিয়ে বেশ দ্বিধায় নেতারা। শীর্ষ নেতৃত্বের ঘুম হারাম তাই প্রার্থী বাছাইয়ে। কেন্দ্র থেকে পাঁচ নেতার ফোরামে প্রার্থী বাছাইয়ের নির্দেশনা দেয়া হলেও এই পাঁচ নেতার চার ধরণের মতামত এই প্রক্রিয়াকে আরো জটিলতর করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ গত কয়েকবছরে দলটির আত্মঘাতি আর ভ্রাতৃবিরোধের যে ‘অপরাজনীতি’ ডানা মেলে ডালপালা ছড়িয়েছে তাই এখন বুমেরাং হয়ে ফিরে আসছে। তবে আশার কথা হলো, আপাতত জেলায় দলটির জেলা ও পৌর কমিটির তিনজন করে ছয়জন শীর্ষ নেতা যদি সবাইকে আস্থায় নিয়ে কোন একজন প্রার্থীর পক্ষে যূথবদ্ধ অবস্থান নেন,তবে বিএনপির একক প্রার্থী ক্ষমতাসীন ঘুম হারাম করবে নিশ্চিত।

প্রধান দুটি দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপক নড়াচড়ার মধ্যেও চুপচাপ পাহাড়ের প্রভাবশালী আঞ্চলিক দল জনসংহতি সমিতি। সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন এই দলটি,এবার পৌর নির্বাচনে কোন প্রার্থী দিবে কিনা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে পাহাড়ের রাজনীতি সম্পর্কে যারা খোঁজখবর রাখেন,তারা বলছেন, বর্তমানের চলমান রাজনীতিতে যে ঘনীভূত সংকট দৃশ্যমান,তাতে এই নির্বাচনে দলটির সমর্থিক কোন প্রার্থী মাঠে দেখা না যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। যদি সেইরকমই হয়,তবে দলটির সমর্থিত পাহাড়ী ভোটাররা আদৌ কেন্দ্রে যাবেন কিনা কিংবা গেলেও কোন প্রার্থীর দিকে সম্মিলিত অবস্থান নেন ‘নীরব ইশারা’য় তার উপরও নির্ভর করছে ভোটের ও জয়ের নানান হিসেব নিকেশ।
এই তিনটি পৃথক ধারার প্রার্থীর বাইরে অন্য আর কেউ প্রার্থী হবেন কিনা,তা এখনো স্পষ্ট বা দৃশ্যমান নয়। তেমন কারো নড়াচড়াও চোখে পড়ছে না। আর যদি এমন কেউ মাঠে নামেনও,তাতে খুব একটা লাভ হবে বলেও মনে হয়না। তিনি হয়ত ভোটে দাঁড়াবেন, প্রচার প্রচারণা চালাবেন,ভোটের দিন নিজের প্রতিকে নিজে ভোট দিবেন ও নিজের কিছু সমর্থকের ভোটও পাবেন,কিন্তু ভোটের দিনের শেষ বিকেলে মন খারাপ করেই ঘরে বসে থাকা ছাড়া আর কোন সম্ভাবনাই নেই ‘দলীয় মার্কা’র নির্বাচনে তার।
সুতরাং ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের প্রার্থী হচ্ছেন কে,বিএনপি কি শেষ পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী দিতে পারছে কিনা, পাহাড়ী সংগঠনের সমর্থিত কোন প্রার্থী মাঠে আদৌ থাকবে কিনা, এই তিন আলোচনাতেই আপাত ঘুরপাক খাচ্ছে ভরা শীতের আগেই আগাম উঞ্চতা ছড়ানো তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা !

এদিকে প্রথম ধাপের পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল আজ রবিবার ঘোষণা হতে পারে। এ সংক্রান্ত ফাইল নির্বাচন কমিশনে উপস্থাপন করা হয়েছে। অনুমোদন হলেই তফসিল ঘোষণা হবে। অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ করতে পারলে রবিবার তফসিল হবে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে এর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।  নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, পৌরসভা নির্বাচনের সবকিছু কমিশনে উপস্থাপন করা হয়েছে। কমিশন অনুমোদন দিলে রবিবার এ নির্বাচনের তফসিল হবে।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, বতর্মানে দেশে পৌরসভার সংখ্যা ৩২৯টি। নির্বাচন উপযোগী পৌরসভার সংখ্যা ২৫৯টি। আগামী বছরের জানুয়ারিতে মেয়াদ শেষ হবে ১১টি পৌরসভার। ফেব্রুয়ারির মধ্যে মেয়াদ শেষ হবে ১৮৫ পৌরসভার। এরমধ্যে ১ ও ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মেয়াদ শেষ হবে ৪টি, ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মেয়াদ শেষ হবে ৪৬টি এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মেয়াদ শেষ হবে ১৩৩ পৌরসভার। মার্চে শেষ হবে ২৮ পৌরসভার মেয়াদ। এপ্রিল থেকে নভেম্বরে শেষ হবে ৩০টির মেয়াদ। ইতোমধ্যে ৫ পৌরসভার তফসিল দিয়েছে ইসি।

ইসি জানিয়েছে, এবারে ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হবে পৌরসভা নির্বাচন। আগামী ডিসেম্বরে প্রথম ধাপে ২০/২৫ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ হবে। কয় ধাপে ভোট হবে তা চূড়ান্ত না হলেও মে মাসের মধ্যে সব পৌরসভায় ভোট শেষ করতে চায় কমিশন। পৌরসভা নির্বাচনে যতদূর সম্ভব ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button