ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

টুং টাং শব্দে মুখরিত রাঙামাটির কামার পাড়া

আসছে ২ সেপ্টেম্বর মুসলিম সম্প্রদায়ের পবিত্র ঈদুল আযহা। আর ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পারছেন রাঙামাটির কামার শিল্পীরা। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে কামারদের ব্যস্ততা।

মঙ্গলবার সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টুং টাং শব্দ বাজছে কামার দোকানগুলোতে। এক হাতে হাপর টানছেন অন্য হাতে গরম করছেন লোহা। কেউবা হাতুড়ি পেটিয়ে গরম লোহাকে নরম করছে। আবার কেউ কেউ ধার দিচ্ছে ছুরি, চাকুতে। বলা যায় তাদের কারোরই দম ফেলার সময় নেই। কারণ সামনেই কোরবানির ঈদ, ঈদের কয়েক দিন আগেই বুঝিয়ে দিতে হবে অর্ডারকৃত সরঞ্জামের।

রিজার্ভ বাজারের কামার দোকানি জয় কর্মকার জানান, আমাদের সারা বছরই দা, বটি, চাকু, ছুরি তৈরির কাজ থাকে। কিন্তু প্রতিবছর এই সময়ে (কোরবানির সময়) আমাদের ব্যস্ততা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সকাল আটটায় দোকান খুললে রাতের দশটা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। বলা যায় একেবারে দম ফেলার মত সময় নেই।

কোরবানির ছুরি কিনতে আসা মহিউদ্দিন বলেন, আমি গরু জবাইয়ের জন্য ৭০০ টাকা দিয়ে একটা বড় ছুরি কিনলাম। দাম প্রতিবছরের মতই আছে, তেমন বেশি নিচ্ছে না কামাররা।

কথা হয় কামার দোকানি পল্লব কর্মকারের সাথে। তিনি বলেন, কোরবানি ঈদ উপলক্ষে আমাদের ব্যবসা কয়েকগুণ বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু আমরা অতিরিক্ত দাম নিচ্ছি না। কোরবানির সরঞ্জামের দাম অন্য সময়ের মতই স্বাভাবিক আছে। এর মধ্যে দা এর দাম হলো ৩৫০-৪০০ টাকা, বটি হলো ২৫০-৯০০ টাকা, ছুরির দাম ১২০-৩০০ টাকা, কোরবানি করার বড় ছুরির দাম ৬৫০-৮০০ টাকা।

তিনি আরও বলেন, আমরা বাপ-দাদার আমল থেকেই এই পেশায় জড়িত। তবে তবে যুগের পরিবর্তনে অনেকেই এই কাজ ছেড়ে অন্যান্য ব্যবসা বাণিজ্যে ঝুঁকছে। এই পেশায় অনেক রোগ-ব্যাধিও ছড়ায়। কোমর ব্যথা আর ধুলোবালিতো নিত্য দিনের সঙ্গি। তার মধ্যে লোহার পেটানোর সময় সাবধানে কাজ করতে হয়, নয়তো লোহার সাথে অনেক সময় হাতও থেঁতলে যায়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × 2 =

Back to top button