ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

টানা বর্ষণে আবারো পাহাড় ধসের শঙ্কা

তিনদিনের টানা বর্ষণে রাঙামাটির মানুষের মাঝে আবারো পাহাড় ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার থেকেই হালকা ও মাঝারি বর্ষণ হচ্ছে রাঙামাটিতে। এদিকে বৃষ্টিতে আতঙ্ক থাকলেও সেভাবে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে লোকজন বাড়েনি। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের তেমন কোথাও পাহাড় ধসের খবর পাওয়া যায়নি।

গত ১২ ও ১৩ জুন রাঙামাটিতে প্রবল বর্ষণে ব্যাপক পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এতে পাহাড়সহ প্রচুর রাস্তার ক্ষয়ক্ষতি হয়। মারা যায় ১২০ জন। পাহাড় ধসে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক প্রায় নয়দিন বন্ধ থাকে। নয়দিন পর হালকা যান চলাচল শুরু হলেও ঘটনার এক মাস ১০দিন পরও এখনো ভারি যান চলাচল শুরু হয়নি। ধসে পড়া রাস্তার ওপর চলছে বেইলি ব্রিজ নির্মাণের কাজ।

এদিক রাঙামাটিতে ব্যাপক পাহাড় ধসের ঘটনার পর বৃষ্টি হলেই এখন রাঙামাটিবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। গত শনিবার থেকে আবারো টানা বৃষ্টি হওয়ায় মানুষের মধ্যে রয়েছে শঙ্কা। তবে শনিবার থেকে টানা বর্ষণের পরও সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলায় তেমন কোনও পাহাড় ধসের খবর পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস প্রস্তুত রয়েছে যেকোনও দুর্ঘটনা মোকাবেলার জন্য।

রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, যেকোন দুর্ঘটনার জন্য ফায়ার সার্ভিস পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া আমাদের এখানে ২৫জনের একটি টিমের প্রশিক্ষণ চলছে। যদি তাদের প্রয়োজন হয়, আমরা তাদেরও ব্যবহার করবো। প্রতিদিন আমাদের গাড়ি দিয়ে বিভিন্ন এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এদিকে টানা বর্ষণে কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বেড়ে গেছে। এতে কাপ্তাই হ্রদ সংশ্লিষ্ট নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রোববার সকাল হতে স্পিলওয়ের ১৬টি গেট ৩ ফুট খুলে দেয়া হয়েছে। এতে প্রতি সেকেন্ডে ৫৪ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে পড়ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পানি ছাড়ার পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

এ ব্যাপারে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মোঃ আবদুর রহমান জানান, হ্রদে এসময় ৯১ এমএসএল (মিনস সী লেভেল) পানি থাকার কথা থাকলেও পানি আছে ১০৫.২২ এমএসএল। অর্থাৎ বর্তমানে হ্রদে যে পরিমাণ পানি থাকার কথা তার চেয়ে প্রায় ১৫ ফুট পানি বেশি রয়েছে। অতিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে হ্রদের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। উজান থেকে আরও পানি ধেয়ে আসেছে। পানির চাপ বৃদ্ধি পেলে বাঁধ হুমকির মুখে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ঝুঁকি এড়াতে কর্তৃপক্ষ স্পিলওয়ে দিয়ে পানি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পানি ছাড়ার পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। বর্তমানে ৩টি ইউনিটে ১৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।

স্পিলওয়ে দিয়ে পানি ছাড়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতিমধ্যে রাঙ্গুনিয়া, রাউজানসহ নি¤œ অঞ্চলের কিছু কিছু এলাকায় নালা, ডোবা, পুকুর ও খাল-বিল পানিতে তলিয় যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে উজান থেকে ধেয়ে আসা পানির চাপ সামাল দিতে পিডিবি কর্তৃপক্ষ গত ১৬ জুন রাত থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত স্পীলওয়ে দিয়ে ২ ফুট পর্যন্ত অতিরিক্ত পানি ছেড়েছিল।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen − eight =

Back to top button