রাঙামাটি

জয় পরাজয়ের যে ব্যাখা দিচ্ছেন রফিক-মামুন !

রাঙামাটি জেলা আইনজীবি সমিতির নির্বাচন-২০২২

সুহৃদ সুপান্থ
রাঙামাটি জেলায় আনুষ্ঠানিক কমিটি গঠন করার পর প্রথমবার রাঙামাটি জেলা আইনজীবি সমিতির দুইটি পদের নির্বাচনে দুই প্রার্থীকে সমর্থন করে সবচে গুরুত্বপূর্ণ সভাপতি পদেই হেরে গেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের সমর্থক আইনজীবিদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু আইনজীবি পরিষদ। যদিও সাধারন সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন তাদের সমর্থিত প্রার্থী,তথাপি সভাপতি পদে পরাজয়কে বেশ গুরুত্ব সহকারেই দেখছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত রাঙামাটি জেলা বার এসোসিয়েশন নির্বাচনে সভাপতি পদে নির্বাচন করেছিলেন সভাপতি হিসেবে গত একবছর দায়িত্ব পালন করা কল্যাণ মিত্র চৌধুরী কানু। সভাপতি পদে থাকার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু আইনজীবি পরিষদের সমর্থনের কারণে ধারণা করা হয়েছিলো এবারো তিনিই নির্বাচিত হবেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো,ভোটের মাঠে তিনি হেরে গেছেন একবছর আগে যাকে পরাজিত করে সভাপতি হয়েছিলেন সেই অ্যাডভোকেট মোখতার আহম্মদ এর কাছে। জামায়াত ঘনিষ্ঠ হিসেবে সুপরিচিত সিনিয়র আইনজীবি মোখতার পেয়েছেন ৪৩ ভোট আর কল্যাণ মিত্র পেয়েছেন ২১ ভোট। মোট ভোটার ৭৯ জন হলেও ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ৬৫ জন আইনজীবি।

রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালত

অথচ সাধারন সম্পাদক পদে ঠিকই ৩৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বঙ্গবন্ধু আইনজীবি পরিষদের সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট রাজীব চাকমা। রাজীব চাকমা নিকট অতীতে সরাসরি আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত না থাকলেও তাকে সমর্থন দেয় বঙ্গবন্ধু আইনজীবি পরিষদ। এবং তিনি ঠিকই বিজয়ী হয়েছেন।

সভাপতি পদে একবছর আগে পরাজিত মোখতার আহম্মদ এবার বিপুল ভোটে বিজয়ী হলেও সাধারন সম্পাদক পদে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন ঠিকই হেরে যান ২৭ ভোট পেয়ে। বিষয়টি শহরজুড়ে বেশ আলোচনার খোরাক যুগিয়েছে। ভোটার মারপ্যাঁচ কিংবা কৌশল নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষন। যদিও সভাপতি পদে হারলেও সাধারন সম্পাদক পদসহ অধিকাংশ সম্পাদকীয় পদে নির্বাচিতরাই আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। সঙ্গতকারণেই সবচে বেশি প্রশ্ন উঠছে,তবে কেনো হারলেন দলটির সমর্থিত সভাপতি প্রার্থী !

অ্যাডভোকেট রফিক ও অ্যাডভোকেট মামুন

কেনো পরাজিত হয়েছে সমর্থিত সভাপতি কল্যাণমিত্র,এমন প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু আইনজীবি পরিষদের সভাপতি পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম বলছেন,‘ আমরা এবার সরাসরি প্যানেল দিইনি। সভাপতি ও সম্পাদক পদে দুইজনকে সমর্থন দিয়েছি। সাধারন সম্পাদক পদে জিতলেও সভাপতি পদে আমাদের সমর্থিত প্রার্থী হেরে গেছেন। কেনো হেরেছেন তিনি এমন প্রশ্নের বেশ কিছু জবাব আছে, একদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী মোখতার সাহেব জামাতের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও তিনি একজন সিনিয়র আইনজীবি হিসেবে সুপরিচিত এবং একবছর আগে কল্যাণমিত্রের কাছে হেরেছিলেন, সেই কারণে সহানুভূতি পেয়েছেন এবং তার চেম্বারের বেশ কিছু জুনিয়র নতুন আইনজীবি বারের সদস্য হয়েছেন, সেটাও তার জন্য প্লাসপয়েন্ট ছিলো। তবে আমাদের দলের সাথে জড়িত যারা, তারাও যদি আমাদের সমর্থিত প্রার্থীকে ভোট দিত তবে আমাদের প্রার্থী পরাজিত হতেন না। বাস্তবে সেটা হয়নি।’ অ্যাডভোকেট রফিক বলেন , ‘আমাদের সবচে দুর্ভাগ্য যে, কেউ কেউ আমাদের দল ও আদর্শের রাজনীতি করেও সাম্প্রদায়িক মানসিকতা লালন ও চর্চা করে,ফলে এরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরের গিয়ে নিজেদের দলের সমর্থিত প্রার্থীকে ভোট না দিয়ে সাম্প্রদায়িক শক্তির সাথে গোপনে সহযোগি হিসেবে কাজ করে। এরা দলের জন্য,আদর্শের জন্য ক্ষতিকর। এমন ঘটনা শুধু বারের নির্বাচনের ক্ষেত্রেই নয়, রাঙামাটি আওয়ামীলীগের সামগ্রিক রাজনীতিতেও দৃশ্যমান। এসব নিয়ে এখনই আমাদের সজাগ না হলে ভবিষ্যতে বিপদ বাড়বে।’ অ্যাডভোকেট রফিক নিজেও জেলা আওয়ামীলীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক।

পরাজয়ে বিস্মিত সাধারন সম্পাদক পদের প্রার্থী সদর থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন। তিনি বলছেন, নির্বাচনে জয় পরাজয় থাকবেই। তবে এবার বঙ্গবন্ধু আইনজীবি পরিষদ প্রকাশ্যে এসে প্রার্থী দিয়ে যেভাবে আইনজীবি সমিতিকে বিভক্ত করেছে সেটা দুঃখজনক। এর আগে দলীয়ভাবে কখনই বার বিভক্ত হয়নি। এখন তারা বঙ্গবন্ধু আইনজীবি পরিষদ করেছে,আমারও ভবিষ্যতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরাম করার ব্যাপারে ভাবব। ছোট্ট বারে এমন বিভক্তি আমাদের কাম্য ছিলোনা। তবে যারা আমার দলের রাজনীতির সাথে জড়িত তারা আমার জন্য কিছুই করেনি, তারা আমাকে ভোট দিয়েছে বলেও আমি সন্দিহান। দল করেও যারা দলীয় নেতাকে ভোট দিতে কার্পণ্য করে তাদের জন্য করুণা ছাড়া কিইবা বলার আছে।’ তবে মোকতার বিজয়ী হওয়া ও নিজের পরাজয়ের ব্যাখায় মামুন বলছেন-‘ অ্যাডভোকেট মোখতার বিজয়ী,অথচ সমমনা হয়েও আমি পরাজিত,বিষয়টি কেমন জেনো! কোথাও একটা ‘নীরব সমঝোতা’ হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।’

নির্বাচনের ক’দিন আগেই সভা করে রাঙামাটিতে গঠিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু আইনজীবি পরিষদ,যাতে পিপি অ্যাডভোকেট রফিককে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট বিপ্লব চাকমাকে সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হবে বলে জানিয়েছেন সভাপতি।

নব নির্বাচিত সভাপতি অ্যাডভোকেট মোখতার ও সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাজীব

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বারের নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক পদে সরাসরি নির্বাচন হলেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন সহসভাপতি অ্যাডভোকেট সুস্মিতা চাকমা,অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম পনির। সহ-সাধারন সম্পাদক হয়েছেন অ্যাডভোকেট আবছার আলী। কোষাধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট উজ্জ্বল তংচ্ঙগ্যা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিলন চাকমা, পাঠাগার সম্পাদক অ্যাডভোকেট প্রোজ্জ্বল চাকমা নির্বাচিত হয়েছেন, সদস্য পদে নির্বাচিত অ্যাডভোকেট শফিউল আলম মিয়া, অ্যাডভোকেট বিবরণ চাকমা, অ্যাডভোকেট মোঃ মামুন ভূঁইয়া, অ্যাডভোকেট রাশেদ ইকবাল ও অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন সুজন। নির্বাচিতদের প্রায় সবাই’ই বয়সে তরুণ এবং আইন পেশায় বেশ সক্রিয়ও। আবার এদের অনেকেই আওয়ামীলীগের বিভিন্ন সহযোগি সংগঠনের রাজনীতিতেও আছেন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × 1 =

Back to top button