খাগড়াছড়িপাহাড়ের অর্থনীতিব্রেকিংলিড

জৈবিক পদ্ধতিতে বিষমুক্ত আম উৎপাদন

জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ-প্রকৃতি সুরক্ষাই লক্ষ্য

আবু দাউদ, খাগড়াছড়ি 
খাগড়াছড়িতে এবার প্রথমবারের মতো জৈবিক পদ্ধতিতে আম উৎপাদন শুরু হয়েছে। শতভাগ বিষমুক্তভাবে আম উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে ‘নিরাপদ কৃষি বলয়’ নামের একটি সংগঠন। নিরাপদ খাদ্য প্রত্যাশী মানুষদের অরগানিকভাবে উৎপাদিত আম খাওয়ানো এবং জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ-প্রকৃতি সুরক্ষায় ভূমিকা রাখাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন এর উদ্যোক্তারা। জেলা সদরের ভূয়াছড়িতে নিরাপদ কৃষি খামারে বিকল্প পদ্ধতিতে আম চাষের খবরে বেশ আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

কেবল আম চাষ’ই নয়; বর্তমানে যে কোন ধরণের কৃষিজ উৎপাদনেই বিষ, কিটনাশক ব্যবহার অপরিহার্য ব্যাপার। পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতেও নির্বিঘ্নভাবে আম চাষের সকল ধাপে বিভিন্ন কেমিক্যালস প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। বাণিজ্যিকভাবে সফল হওয়ার জন্য বাগানীরা আম গাছ ও গুটি আমে নানান রাসায়নিক কেমিক্যালস ব্যবহার করতে বাধ্য হন। তবে একদম বিষ, কিটনাশকসহ কোন ধরণের কেমিক্যালস ছাড়াই খাগড়াছড়িতে আম উৎপাদনে কাজ শুরু করেছে ‘নিরাপদ কৃষি বলয়’ নামের একটি সংগঠন।

প্রতিষ্ঠানটির খাগড়াছড়ির উদ্যোক্তা কৃষিবিদ আমিনুল ইসলাম বাবু জানালেন, রাসায়নিক কেমিক্যালস প্রয়োগের কারণে আম বা যে কোন ফলে বিষের উপস্থিতি থাকার কিছুটা হলেও আশঙ্কা থাকে। তা থেকে রক্ষায় তাদের বাগানে বিভিন্ন জৈবিক পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আমে মুকুল আসার পর থেকে কয়েকটি ধাপে রাসায়নিক কেমিক্যালের বিকল্প হিসেবে নিম, গুলঞ্চ, লেনটোনা, হলুদসহ বিভিন্ন মেডিসিনাল গাছগাছালির রস সংগ্রহ করে তা প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে বাগানে স্প্রে করা হয়েছে। আমে শতভাগ পোকামুক্ত থাকার বিষয়টি গ্যারান্টি দিতে চাননা তিনি। বানিজ্যিকভাবে লাভবান না হলেও অত্যন্ত প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদনের কারণে মানুষকে কেমিক্যালস মুক্ত আম খাওয়ানোই তাদের লক্ষ্য। একই সঙ্গে জনস্বার্থ বিবেচনায় পরিবেশ ও প্রকৃতি সুরক্ষা করা এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য বলে জানালেন তিনি।

আম বাগানটির পরিচর্যায় নিয়োজিত কর্মী শহীদুল ইসলাম জানায়, গাছকে উইভিল পোষা থেকে রক্ষায় গাছের গোড়ায় পলিথিন দিয়ে পেচিয়ে দেয়া হয়। ‘ফেরোমন ফাঁদ’ দিয়ে পুরুষ পোকাকে আকৃষ্ট করে আমের জন্য ক্ষতিকর পোকা মারার মাধ্যমে পোকার বংশ বিস্তার রোধ করা হয়।

উদ্যোক্তাদের একজন মো: মহিউদ্দিন জানালেন, ‘অনলাইন প্রচারণার মাধ্যমে ইতিমধ্যে এই আমের প্রচুর অর্ডার পাওয়া গেছে। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অরগানিক ফার্মসমূহে বিষমুক্ত এসব আম পাঠিয়েছি।’

এ ধরণের উদ্যোগ আরও ছড়িয়ে দেয়ার ওপর জোর দিয়েছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা। পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র খাগড়াছড়ির মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুন্সী রাশীদ আহমেদ বলেন, গেল ১০/১৫ বছর ধরে বাংলাদেশে জৈব পদ্ধতিতে কৃষি উৎপাদনের চেষ্টা চলছে। খাগড়াছড়িতেও জৈব পদ্ধতিতে আম উৎপাদনের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।

তিনি বলছেন, যেখানে গাছের পুষ্টি ও রোগ বালাই প্রতিরোধের জন্য পুষ্টি নিশ্চিতে জৈব সার ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি রোগ ও পোকামাকড় প্রতিরোধে জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করতে হয়। এই পদ্ধতিতে উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় পণ্য মূল্য একটু বেশি হয়। এর জন্য নির্দিষ্ট অরগানিক বাজার ধরতে হয়। না হয় ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button