করোনাভাইরাস আপডেটখোলা জানালাব্রেকিংরাঙামাটিলিড

জেলা প্রশাসকের কাছে খোলা চিঠি

প্রিয় জেলা প্রশাসক, সালাম ও শুভেচ্ছা নিবেন। স্মরণকালের ভয়াবহ পাহাড়ধসের পরেই আপনি রাঙামাটির জেলাপ্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এরপর থেকে প্রতিবছর বর্ষার আগেই দুর্যোগ মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ছুঁেটছেন এক পাহাড় থেকে অপর পাহাড়ে। লোকজনের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি এবং লোকজনদের সহায়তায়ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। ফলে লোকজন জান-মালের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছিল আর রাঙামাটিবাসীর ভালবাসার মানুষ হিসেবে সবার মনে ঠাঁই করে নিয়েছেন।

আবারো দুর্যোগ হানা দিয়েছে। কিন্তু এই দুর্যোগ দেখা দেয়ার পর থেকেই আপনি খুবই সতর্কতার সাথে মোকাবেলার আগাম প্রস্তুতি নিয়েছেন। দেশের মধ্যে নজিরবিহীন সতর্কতা ছিলো, বলা চলে রাঙামাটি জেলায়। দেশের বিভিন্ন স্থান ও বিদেশ থেকে যেসব লোক এসেছেন তাদেরকে হোমকোয়ারান্টাইনে রাখা এবং নজরদারি করার কারণে লোকজনের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। পর্যটন স্পট এবং সাপ্তাহিক হাট-বাজারও আগেবাগে বন্ধ ঘোষনা করেছিলেন। আর জেলাবাসী যাতে খাদ্যের অভাবে না থাকে সেজন্য রাতের আধারেও ঘরে ঘরে ত্রান সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। আপনার এহেন মানবিক আচরণে আবারো রাঙামাটিবাসীর আস্থাভাজন প্রশাসক হিসেবে জেলাবাসীর মনে জায়গা করে নিয়েছেন।

সোমবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভিডিও কনফারেন্সে জেলাবাসীর প্রাণের দাবি হিসেবে রাঙামাটিতে আইসিইউ’র প্রস্তাব করে আবারো রাঙামাটির প্রতি আপনার দরদের প্রমান দিলেন। যেকোনো দুর্যোগে রাঙামাটিবাসীকে সুরক্ষায় আপনার প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মধ্যবিত্ত পরিবারের তালিকা করেও তাদের খাদ্য সহায়তা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। মধ্যবিত্তরা যেহেতু আত্মসম্মানবোধের কারণে সহায়তা নিতে চায় না। এক্ষেত্রে আমার প্রস্তাব মধ্যবিত্ত পরিবারের তালিকা করে সবার মাঝে রেশনিং কার্ড দিয়ে স্ব স্ব এলাকায় নির্দিষ্ট দোকান চিহ্নিত করে দেয়া; যার বা যাদের প্রয়োজন পড়বে তারা সেখান থেকে নিয়ে নিবে। দশ টাকা কেজি দরে যে চাল দিচ্ছেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু এসব চাল নিতে গিয়ে লোক সমাগমও বাড়ছে। এই লোক সমাগম যাতে না হয়; সেজন্য পৌরসভার কাউন্সিলর ও ইউপি মেম্বারদের দিয়ে পাড়া-মহল্লায় তালিকা করে এলাকা ভিত্তিক হেডম্যান-কার্বারী বা মহল্লা প্রধানদের মাধ্যমে বিক্রি করা হলে জনসমাগম কমে আসবে ফলে সংক্রমণের ঝুঁকিও কমে যাবে।

মাননীয় জেলাপ্রশাসক সামনের দিনগুলো আমাদেরকে আরো বেশি সচেতনতার সাথে পার করতে হবে। সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের সাথে আপনার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ লোকজনদের ঘরে রাখতে রাতদিন পরিশ্রম করছেন। যেহেতু আল্লাহর রহমতে এখনো পর্যন্ত রাঙামাটিতে কোন করোনা রোগি শনাক্ত হয়নি। আর সামনের কয়েকটা দিন যদি এভাবে সবাই সচেতনতার সাথে পার করে তবে রাঙামাটিবাসী এই মহামারী থেকে মুক্ত থাকবে ইনশাল্লাহ। ইতোমধ্যেই সারাদেশের সাথে এবং জেলার অভ্যন্তরীণ সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত পণ্যবাহী কিছু গাড়িতে করে অতিরিক্ত লোক আসা যাওয়া করতে দেখা যায়। যা ঝুঁকিপূর্ণ। অতিরিক্ত লোক আসা যাওয়া বন্ধ করা গেলে ঝুঁকিও কমে আসবে। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য চাল-ডাল আলু ইত্যাদি ছাড়াও বিভিন্ন কোম্পানীর (বিস্কিট-চিপস-চকলেট প্রভৃতি) গাড়িও জেলা শহরে প্রবেশ করছে। আর এসব পণ্য স্ব স্ব এজেন্ট বা ডিলাররা তাদের এসআর আর সেলসম্যান দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন বাজারের দোকানগুলোতে ডেলিভারি দিতে বাধ্য হচ্ছে। এতে করেও সংক্রমনের ঝুঁকি থেকে যায়। কোম্পানীগুলোর চাপে ডিলার বা এজেন্টরা করতে বাধ্য হচ্ছে। এসব খাদ্যপণ্য বর্তমানে খুব বেশি দরকার বলে মনে করছিনা। আর কয়েকটা দিন এসব পণ্য ডেলিভারি বন্ধ রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আপনার সুদুষ্টি কামনা করছি। রাঙামাটির প্রবেশপথ মানিকছড়িতে নজরদারি কঠোর করার পাশাপাশি জেলায় প্রবেশ করা পণ্যবাহী গাড়ি এবং পণ্যসমূহে জীবনানাশক ছিটানোর ব্যবস্থা সার্বক্ষনিক রাখা জরুরী।

মাননীয় জেলাপ্রশাসক কিছু পেশার লোকজনদের দেশ ও জনগণের সেবায় ঘর থেকে বের হতে হচ্ছে। যেমন ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, ওষুধ সরবরাহকারী, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিক। এসব পেশার লোকজনদের চলাচলে এবং তাদের যানবাহন ব্যবহারের ব্যাপারে শিথিলতা প্রয়োজন। বিষয়টা বিবেচনা করার অনুরোধ রইল।
রাঙামাটিতে করোনা রোগীর দ্রæত চিকিৎসা সেবা প্রদান, করোনায় আক্রান্ত মৃত ব্যক্তির দ্রæত সময়ের মধ্যে কাফন-দাফনের জন্য গত ৬ এপ্রিল স্বেচ্ছাসেবকদের দিয়ে একটি কুইক রেসপন্স টিম গঠন করেছেন; যা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। যেসমস্ত স্বেচ্ছাসেবি মানবতার সেবায় নিজেদের সঁপে দিয়েছেন। তাদেরকে পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রী আগাম দেয়ার অনুরোধ করছি।

গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি বিষয় হচ্ছে-ইতোমধ্যে যে ত্রান সামগ্রী লোকজনদের দিয়েছেন তা দিয়ে কয়েকদিন হয়ত চলবে। শীঘ্রই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এসব লোকজনদের আবারো সহায়তা দিতে হবে। আর সবার কাছে সবসময় ত্রান সহায়তা পৌঁছাতে গিয়ে প্রয়োজনীয় অন্য কাজও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। জেলার প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রতিটি এলাকায় এমন অনেক বিত্তবান রয়েছে; যারা একজনের পক্ষে বেশ কয়েক পরিবারের কয়েক খাদ্য সহায়তা দেয়া সম্ভব। কাউন্সিলর এবং ওয়ার্ড মেম্বারদের দ্বারা এসব বিত্তবানদের তালিকা করে তাদের মাধ্যমে স্ব স্ব এলাকার অভাবী তালিকাভুক্তদের সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হোক। এক্ষেত্রে কাউন্সিলর বা মেম্বার কর্তৃক এলাকাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক টিম বাসায় বাসায় গিয়ে সহায়তা পৌঁছে দিবে। জেলাপ্রশাসনের টিম নজরদারি করবে।

একজন সংবাদকর্মী হিসেবে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অভাব-অভিযোগ খুব কাছ থেকে দেখা এবং শোনা হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতির সামগ্রিক বিবেচনায় কার্যকরী সমাধান হিসেবে নিজের ব্যক্তিগত অভিমত তুলে ধরলাম। জেলাবাসীর সুরক্ষায় এসব মতামত কিছুটা হলেও ইতিবাচক ফল দিবে বলে মনে করছি। তাই বিষয়গুলো বিবেচনার অনুরোধ রইল।

পরিশেষে আপনার সুস্বাস্থ্য কামনা করছি। ভালো থাকবেন সবসময়। আল্লাহ হাফেজ।

ধন্যবাদান্তে
………………………
ইয়াছিন রানা সোহেল
বার্তা সম্পাদক
দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রাম ও পাহাড় টোয়েন্টিফোর ডটকম

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button