নীড় পাতা / পার্বত্য উন্নয়ন / জেলা পরিষদ-জেলা প্রশাসন ‘বাহাস’
parbatyachattagram

প্রসঙ্গ যখন হ্রদ দখল করে হোটেল নির্মাণ

জেলা পরিষদ-জেলা প্রশাসন ‘বাহাস’

সম্প্রতি কাপ্তাই হ্রদের পাড় দখল করে একটি তারকা মানের আবাসিক হোটেল নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলো রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। রাঙামাটি শহরের নয়নাভিরাম শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকায় হ্রদের পাড়েই কোনপ্রকার অনুমতি না নিয়েই এর নির্মাণ কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু কাপ্তাই হ্রদের উপর বেআইনী ও অবৈধভাবে এই স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় ভ্রাম্যমান আদালত চালিয়ে সেই কাজ বন্ধ করে দেয় রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। এনিয়ে ভেতরে ভেতরে চাপা ক্ষোভ ও নানান আলোচনা হলেও সোমবার রাঙামাটি বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিজেদের বক্তৃতায় সরাসরি এনিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা। তার অভিযোগ ও অনুযোগের জবাবে নিজেদের অবস্থানও ব্যাখ্যা করেছেন রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক। কি বলেছিলেন এই দুই শীর্ষ ব্যক্তিত্ব,তাই জানাচ্ছেন আমাদের সিটি এডিটর হেফাজত সবুজ।

‘আমাকে হ্যালো বললেই কাজ বন্ধ করে দিতাম,কিন্তু…’ : বৃষ কেতু চাকমা
‘রাঙামাটি শহরের প্রায় ৩০ শতাংশ বসতঘর তৈরি করা হয়েছে হ্রদ দখল করে। প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। রাঙামাটি ১০ উপজেলার জন্য একটি মাত্র জেনারেল হাসপাতাল রয়েছে, সেই হাসপাতালের আশেপাশের অনেক জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। সেগুলো দখল মুক্ত করতে প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ দেখিনা। শুধু হাসপাতাল এলাকা নয়, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের পাশের জায়গাও দখল করে নিয়েছে দখলদাররা। তদের বিরুদ্ধেও কেনোন অভিযান পরিচালনা করে না প্রশাসন।’ সোমবার রাঙামাটি পৌরসভা চত্বরে আয়োজিত বৃক্ষমেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা এসব অভিযোগ করেন। তিনি আরো বলেন-

‘দেশের ৬১ জেলা পরিষদ এক আইনে চলে, কিন্তু পার্বত্য তিন জেলা পরিষদ চলে বিশেষ আইনে। এই জেলা পরিষদগুলো পার্বত্য চুক্তির আলোকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এ অঞ্চলের মানুষের চাহিদা অনুসারে এগুলো পরিচালিত হয়। সারা দেশের মানুষ তা মেনে নিয়েছে।’

জেলা পরিষদের আয় কমে গেছে দাবি করে বৃষ কেতু বলেন, আগে বাজার ফান্ড থেকে সকল বাজার ডাক দেয়া হতো তাতে আমাদের ভাল আয় হতো, কিন্তু আঞ্চলিক দলগুলো তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় যে সব বাজার আছে সেগুলো বাহিরের কেউ ডাক নিতে পারে না। তারা ক্ষমতা খাটিয়ে আগে যে বাজারের ডাক হতো ১০ লক্ষ টাকা এখন সেই বাজারে ডাক উঠে ২ লক্ষ টাকা মাত্র। একইভাবে শুল্ক ফাঁড়িরও একই অবস্থা। ফলে এখন বাজার ফান্ডের যে আয় হয়, তা দিয়ে তাদের বেতন পরিশোধ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বৃষ কেতু আরও বলেন, এখাকার মানুষ যেকোন প্রয়োজনে জেলা পরিষদের কাছেই আসে। আমাদের ওইসব মানুষকে সহযোগিতা করতে হয়। সরকারের যে বরাদ্দ আমরা পাই সেগুলো সব খাতে ব্যয় করতে পারি না। আমাদের নিজস্ব আয় থেকে এসব ব্যয় নির্বাহ করতে হয়। কিন্তু কিছুদিন আগে রাঙামাটি জেলা সমাজ কল্যাণ অফিসের পাশে একটি আধুনিক মোটেলের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। এতে আমি হতাশ হয়েছি, জেলা প্রশাসক আমাকে হ্যালো করলেই আমি কাজ বন্ধ করে দিতাম। প্রয়োজনে সাইড পরিবর্তন করে নিতাম। কিন্তু এভাবে কাজ বন্ধ করে দেয়াটা সঠিক করেননি জেলা প্রশাসন। জেলা পরিষদ এ অঞ্চলের ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিক্ষা বৃত্তি দিয়ে থাকে যা পরিষদের নিজস্ব আয় থেকেই দেয়া হয়। আয় যদি বন্ধ হয়ে যায় তবে এসব জনকল্যাণকর কাজও বন্ধ করে দিতে হবে পরিষদকে।’

‘হ্রদ দখল বন্ধ করতে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে’ : এসএম শফি কামাল

‘রাঙামাটিতে হ্রদ দখল করে স্থাপনা তৈরির মহোৎসব চলছে’ মন্তব্য করে রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসএম শফি কামাল বলেছেন, কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির পরপরই এই হ্রদ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কমিটি তৈরি করা হয়েছে। এবং রয়েছে একটি সুনিদিষ্ট আইন। আইনে বলা আছে, কাপ্তাই হ্রদে পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৯ এমএসল বা মিন সি লেভেল। এই পরিমাণ পানির সিমানায় যদি কারও একটি খুঁটিও পড়ে তাহলে সেটা হবে অবৈধ। সেটা সরকারি-বেসরকারি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন যেমনটাই হোকনা কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে জেলা প্রশাসন।’ সোমবার বৃক্ষমেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন-

‘আমরা এখানে চাকরি করতে এসেছি। সরকারের নির্দেশনা পালন করাই আমাদের প্রধান কাজ। আমরা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিপক্ষে গিয়ে কাজ করছি না। আপনারা যার এখানে থাকেন তারা আমাদের থেকে ভালো জানেন এখানে হ্রদ ব্যবস্থাপনায় কী নির্দেশনা আছে।’

এডিসি আরও বলেন, ‘হ্রদ দখল বন্ধ করতে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। আমরা চাই না, হ্রদের বুকে একটিও অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠুক। যদিও কাপ্তাই হ্রদে পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৯ এমএসএল। কিন্তু ১২০ এমএসএল পর্যন্ত হ্রদের জন্য অধিগ্রহণ করা জায়গা। এসব জায়গায় যে কোনো ধরণের স্থাপনাই অবৈধ। সরকারি জায়গা কেউ দখল করলে স্বাভাবিকভাবেই তা দখল মুক্ত করা আমাদের দায়িত্ব। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করছি মাত্র। এখানে আপনারা থাকবেন, এই হ্রদকে বাঁচাতে আপনাদেরই এগিয়ে আসতে হবে।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

যুথবদ্ধ এক বিকেল রাঙামাটির স্বেচ্ছাসেবীদের

রাঙামাটির সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো যুথবদ্ধভাবে পালন করছে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক দিবস ২০১৯। কাটিয়েছে নিজেদের মত …

Leave a Reply