প্রকৃতিপুরাণরাঙামাটি

জুমের আগুনে বিপন্ন জীববৈচিত্র্য

কাপ্তাই প্রতিনিধি
চৈত্রের খরতাপে কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন জুম পাহাড়ে আগুন লাগানোর ফলে পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। গত সপ্তাহেও কাপ্তাই শীলছড়ি আনসার ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ে কে বা কারা আগুন দেয়, খবর পেয়ে কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে আগুন নেভায়। এছাড়া চিৎমরম, রাইখালীসহ বিভিন্ন পাহাড়ে কোন না কোন দিন পাহাড়ে আগুন লাগিয়ে ধ্বংস করছে সবুজ পাহাড়ের সৌন্দর্য্যকে।

কাপ্তাইয়ের শিলছড়ি এলাকার বাসিন্দা ওয়াগ্গা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাহাবুব আলম জানান, কে বা কারা সবুজ পাহাড়ে আগুন দিচ্ছে আমরা জানি না। তবে এই আগুনের শিখায় পুড়ছে বনের পশু, পাখি ও সবুজ গাছ গাছালি। নষ্ট হচ্ছে মাটির টপ সয়েল্ট।

চৈত্র-বৈশাখ মাস আসলেই প্রচন্ড খরতাপে গাছের পাতা শুকিয়ে নিচে ঝড়ে পরে স্তূপ হয়ে যায়। এক শ্রেণীর লোক ইচ্ছায়-অনিচ্ছাই বনের মধ্যে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সিগারেটের অবশিষ্ট অংশ বনের মধ্যে ফেলে দিয়ে মজা পায়। অন্য এক শ্রেণীর মানুষ জুম চাষের জন্য প্রতি বছর বনের মধ্যে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিভিন্ন কারণে পার্বত্য অঞ্চলের রিজার্ভ বনের মধ্যে আগুন ও ঝুম চাষের ফলে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন প্রজাতির পশু, পাখি আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। এতে করে অবাসস্থল ও প্রাণী জগৎ পার্বত্য অঞ্চল হতে বিলুপ্ত হতে চলছে। পাশাপাশি, অনেক ছোট-বড় সবুজ গাছ পুড়ে পশু খাদ্য, বাগান ধ্বংস হচ্ছে। পাহাড়ে পাহাড়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ফলে নষ্ট হচ্ছে মাটির টপ সয়েল্ট। যার ফলে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হচ্ছে বলে মত প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদীরা।

কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্ক সিএমসির সভাপতি কাজী মাকসুদুর রহমান বাবুল জানান, এক শ্রেণীর অসাধু লোকজন অহেতুহ পাহাড়ে আগুন দিয়ে ঝুম চাষ করছে, ফলে পাহাড়ের বন ধ্বংস হচ্ছে পাশাপাশি পশু-পাখি বিলুপ্ত হতে চলছে। হুমকির মুখে পড়েছে পার্বত্য অঞ্চলের বন্যপ্রাণী। এখনো প্রতিদিন হাতি বনের খাদ্য না পেয়ে লোকালয়ে এসে মানুষের বাসা-বাড়িতে হামলা করছে খাদ্য সংকটের ফলে। তিনি এ ধরনের কর্মকান্ড যারা করছে তাদের প্রতি প্রচন্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

কাপ্তাই কর্ণফুলী সরকারি কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. আজিম উদ্দীন জানান, পাহাড়ে আগুন লাগানোর ফলে পরিবেশে কার্বন মনোক্সাইড (ঈঙ) এর পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে একদিকে যেমন পরিবেশ রাসায়নিক দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে অনেক প্রজাতির জীব হারিয়ে যাচ্ছে। এতে করে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রফিকুজ্জামান শাহ্ জানান, বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন বনভূমি বা পাহাড়ে কেউ আগুন দেওয়ার অপচেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক ভাবে তা প্রতিহত করা হয়। মূলত: জুম চাষীগণ পাহাড়ে চাষ করার জন্য আগুন দিচ্ছে। তিনি জানান, আগুন দেওয়ার ফলে পাহাড়ের উপরিভাগের মাটি পুড়ে গুনাগুন নষ্ট হয়ে যায়। মাটিতে যে সমস্ত উপকারি অণুজীব আছে সেগুলো ধ্বংস হয়। বন্য প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হয়। প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো গাছপালাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভূমির উর্বরতা ক্ষয় সাধিত হয়। যার ফলে ভূমিধসের শঙ্কা তৈরি হয় এবং বন্যপ্রাণীর খাবার সংকট দেখা দেয়। যার ফলে বন্যপ্রাণী লোকালয়ে আসে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button