নীড় পাতা / ফিচার / খোলা জানালা / জীবন মানেই-আঁধারে আলোর বুনন….
parbatyachattagram

জীবন মানেই-আঁধারে আলোর বুনন….

“কষ্টে আছি না দু:খে আছি তা মানুষ কে বুঝিয়ে লাভ কি!কেউ কি আমার দু:খ কমিয়ে দিবে,তার চেয়ে হাসাই ভালো,মন ভালো থাকে!”-আপনার হাসিটা সুন্দর বলতেই কি নিদারুন দামি কয়েকখানা লাইন শুনিয়ে দিলো চিন্তা দেবী।
হুম,মানুষটার নাম চিন্তা দেবি চাকমা।বাবা মায়ের শখের দেয়া নাম।নাম বলতে গিয়ে আরেক দফা বেদনা জেকে বসেছে চোখে।নামই নাকি জীবনের জন্য কাল হয়েছে।ছোট ছোট তিনটা ছেললে মেয়ে নিয়ে স্বামী অমল গত হয়েছে আসছে জুনের ছ’য়ে দুবছর হবে। এর আগে দীর্ঘদিন অসুস্থ হয়েছিল বাসায়।সম্পুর্ন সংসার তার একার হাতে।স্বামী টুকটাক মাছ ধরতো হাটে বিক্রি করতো। সংসারে অভাব থাকলেও সুখের অভাব ছিল না তার গল্পেই ছুটছিল সে রেশ। ২মেয়ে ১ছেলে নিয়ে ভালোই চলছিল সংসার।মাঝপথে ছন্দপতন স্বামীর বিয়োগ।উড়নচণ্ডী স্বামী যা আয় হতো সবটাই খরচের জন্যই প্রস্তুত।সংসারি চিন্তা কি জানি কি বুঝে প্রতিদিনের খরচ থেকেই জমিয়ে নিত দু’চার পয়সা।
হঠাৎ করে স্বামী হারানোর পর বুঝেছে সেই সঞ্চয় কতটা সাহস হিসেবে কাজ করেছে।হাতে ও কটা টাকা না থাকলে বাচ্চাদের নিয়ে কোথায় যেয়ে ঠেকতো!বলতে বলতে চোখে মুখে ভেসে আসা শংকার ভার কমে যায় দীর্ঘশ্বাসে।
জীবনের বোঝা নামিয়ে দীর্ঘশ্বাসে চিন্তার খানিকটা বিদ্রোহী ভাষ্য মেয়েরা কাজ করলেই হয়,মেয়েদের কাজ করার কত সুযোগ এটা সেটা কত বুদ্ধি বেরিয়ে যায়।একটু সংসারের হাল ধরে এগুলেই সব সহজ।তবে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের জন্য অনেক কঠিন যদিও,তবুও সম্ভব।এই যেমন আজ আমি আনারস কিনতে গেলাম আমি একা নিয়ে ফিরতে পারিনি আমার গাড়ি লেগেছে অন্য একজনের সাহায্য লেগেছে।আর আমার সাথে যে ছেলেটা গেলো কিনতে সে সুন্দর সব কটা আনারসের বস্তা কাঁধে নিয়ে হেঁটে হেঁটে চলে এলো।ওর কোন খরচই হলোনা তাই হয়তো ও খানিকটা কম দামে বিক্রি করলেও পোষাবে আমারতো বোন পোষায় নাহ! শহর থেকে খানিকটা দুরর বরাদমের রাস্তার উপরে ছোট্ট ছনের ছাউনি নিয়ে বসে চিন্তা।যে সময় যে ফলের সিজন সেটাই তখন ব্যবসা।সক্কাল সক্কাল সংসারের কাজ সেরে বাচ্চাদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়ে কয়েক মাইল হেটে এখানে চলে আসে চিন্তা।এটাই তার একমাত্র উপার্জনের জায়গা।সংসার চালানোর জায়গা।এই যেমন এখন আনারসের মৌসুম তার দোকানে এখন আনারস আছে আছে নারিকেলও।গরমে আরাম।দিনে যা হাতে আসে তাতেই চলে সংসার।।
ছুটতি পথে আনারস দেখেই নেমে পড়েছিলাম।আর আটকে গেছি শান্ত স্নিগ্ধ মেয়েটার হাসিতে।অল্প বয়সে বিয়ে তারপর আবার অল্প বয়সেই তিন বাচ্চার সংসারে স্বামী হারা।পাহাড়ের কোল ঘেষে জীবন সাজানো মেয়েটা কি সুন্দর গল্প বলে জীবনের।জীবন ধর্মের।জীবন দর্শনের।এত সাবলীল ভাবে বলে যাচ্ছে সব যেন হাজার বছর নিজেকে মেলে দেয়ার খুঁজে পায়নি কাউকে।আমি কেবল মুগ্ধ হয়ে শুনে গেছি।জীবন কাকে কি দেয় কি ছিনিয়ে নেয় সে হিসেব মেলানো কঠিন কিন্তু যা শিখিয়ে যায় তা চিরন্তন।
বেলা পড়ে গেছে।ফিরতে হবে আমাকে। তাড়া তারও।বাড়ি ফিরবে রাতের জন্য রান্না করবে।সে না ফিরলে পড়তে বসবেনা ছেলেমেয়েগুলোও। মনেহচ্ছিল এই মেয়েটার পাশে বসেই থাকি গল্প শুনি,জীবনের গল্প।হেরে গিয়ে ছুটে চলার গল্প।গলায় তেজ রেখে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর বোধ।পাহাড় জড়িয়ে বেড়ে উঠে পাহাড়ের মতই দৃড় দীপ্ত চিন্তা….জীবন এই এখানে,এমনই।তোমাকে তোমার জন্যই ছুটতে হবে।

 

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটি যুব রেড ক্রিসেন্ট’র সহশিক্ষা কার্যক্রমের  প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

যুব রেড ক্রিসেন্ট রাঙামাটি ইউনিট’র সহশিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় দুইদিন ব্যাপী রেড ক্রস/ রেড ক্রিসেন্ট মৌলিক …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

18 − seven =