নীড় পাতা / ফিচার / খেলার মাঠ / জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পাচ্ছেন বরুন দেওয়ান !

জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পাচ্ছেন বরুন দেওয়ান !

বাংলাদেশের বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে সাবেক ফুটবলার ও রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক বরুন বিকাশ দেওয়ান পাচ্ছেন জাতীয় ক্রীড়া পুরষ্কার। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওসমানী মিলনায়তনে মনোনীতদের হাতে ক্রীড়া পুরস্কার তুলে দিতে পারেন বলে জানিয়েছে দায়িত্বশীল সূত্র।

চলতি বছর একসঙ্গে চার বছরের (২০১৩, ’১৪, ’১৫ ও ’১৬) জন্য ৪৯ জনের নাম ক্রীড়া পুরস্কারের জন্য মনোনীত করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। পরে তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়। গত বুধবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটি ৪৯ জনের নাম চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন দেন। এ চূড়ান্ত তালিকা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হবে।

১৯৯৯ সালে কাঠমান্ডু সাফ গেমসে স্বর্ণজয়ী বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জুয়েল রানাকে বেছে নেয়া হয়েছে পুরস্কারের জন্য। সাবেক তারকা ফুটবলার খন্দকার রকিবুর রহমান, ইমতিয়াজ সুলতান জনি, ইলিয়াস হোসেনদের সঙ্গে পুরস্কার পাচ্ছেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এবং বরুন বিকাশ দেওয়ানও।

ক্রীড়াঙ্গনে দেশের জন্য অবদান রাখায় সাবেক জাতীয় দলের খেলোয়াড় বর্তমান রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক বরুন বিকাশ দেওয়ান পাবেন এই জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার।
বরুন বিকাশ দেওয়ান এবারে পুরস্কারের জন্য মনোনিত হওয়ায় আনন্দিত রাঙামাটি খেলোয়ার ক্রীড়া সংগঠকরা।
এ বিষয়ে ক্রীড়া সংগঠক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ভূট্টো বলেছেন, বরুন মনোনীত হয়েছে শুনে আমি উচ্ছসিত, আনন্দিত এবং গর্বিত। পার্বত্য চট্টগ্রামের গর্ব বরুন দেওয়ান। আমি নিজেকে অনেক বেশি ভাগ্যবান মনে করছি যে, আমি যার হাতে সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব হস্তান্তর করে এসেছি, সে সত্যিকার অর্থে একজন সাবেক খেলোয়ার ও দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক।

আরেক সংগঠক সুনীল কান্তি দে বলেন, বরুন আমাদের অহংকার দীর্ঘ দিন সে আমাদের পার্বত্য এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেছে, মুখ উজ্জ্বল করেছে বাংলাদেশের।

ক্রীড়া সংগঠক মনিরুজ্জামান মহসিন রানা বলেন, রাঙামাটির সন্তান বরুন দেওয়ানকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। এমন খবর আসলেই আমাদের জন্য অনেক আনন্দের। এমন পুরস্কার যে ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও সংগঠকদের আরো অনেক বেশী উজ্জেবিত করবে।

সাবেক জাতীয় মানবধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য ও ক্রীড়া সংগঠক নিরুপা দেওয়ান বলেন, এমন খবর আমাদের অনেক খুশির ও গর্বের খেলোয়াড় পরিবারের সদস্য বরুন বাংলাদেশের হয়ে খেলে যেমন দেশের নাম উজ্জ্বল করেছে ঠিক রাঙামাটির নামও উজ্জ্বল করেছেন সে।

রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী বলেন, বরুন বিকাশ দেওয়ান আমাদের সম্পদ এমন কৃত ফুটবলারদের মুল্যায়ন করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। এমন পুরস্কার প্রত্যেক খেলোয়ারকে ক্রীড়াঙ্গনে অবদান রাখার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।

এ বিষয়ে বরুন বিকাশ দেওয়ান বলেন, পুরস্কারের জন্য মনোনীত করার বিষয়টি অনেক ফোন করে আমার কাছ থেকে জানতে চেয়েছেন। আমাকে মনোনীত করায় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। আমার এ অর্জন শুধু আমার একার নয়, পার্বত্য এলাকার সকল ক্রীড়া প্রেমী মানুষের অর্জন এটি। আমার রক্তে খেলা আছে আমি মাঠে আছি মাঠে থাকবো জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মাঠে খেলা নিয়েই থাকতে চাই।’

এখানে উল্লেখ্য যে, বরুন বিকাশ খেলা থেকে অবসর নিয়ে মাঠ থেকে দুরে সড়ে যাননি, তিনি ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে দুবার টানা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। বরুন দেওয়ান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রসঙ্গত, দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ১৯৭৬ সালে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রদান শুরু হয় । ওই বছর আটজনকে দেয়া হয়েছিল ক্রীড়া পুরস্কার। ছয় বছর নিয়মিত দেয়ার পর ১৯৮২ সাল থেকে বন্ধ হয়ে যায় জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার। ১৯৯৬ সালে আবার শুরু হয় পুরস্কার প্রদান। ২০১২ সাল পর্যন্ত ২২৯ জন ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠক পেয়েছেন এ পুরস্কার। ১৮ ক্যারেট মানের ২৫ গ্রাম ওজনের স্বর্ণপদক, সনদপত্র, নগদ ৫০ হাজার টাকা ও একটি ব্লেজার দেয়া হয় পুরস্কারপ্রাপ্তদের।

আরো দেখুন

বঙ্গবন্ধু ফুটবলে রাঙামাটির চ্যাম্পিয়ন লংগদু

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

eight − 7 =