নীড় পাতা / ব্রেকিং / জমে উঠেছে বিজু বাজার
parbatyachattagram

জমে উঠেছে বিজু বাজার

পাহাড়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বৈসাবি ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বাজারে ক্রেতা বিক্রেতার ভিড়। জেলার দূর-দূরান্ত থেকে বিজু বাজারে আসছে হাজার হাজার মানুষ। বিজুর দিন অতিথিদের আপ্যায়নে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে ব্যস্ত সবাই। এ যেন এক মিলন মেলা। কেউ আসছে বিজু বাজারের চিত্র দেখতে। বনরূপা ত্রিদিব নগর কাঁচা বাজার ও পোশাকের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে।

আসন্ন চৈত্র সংক্রান্তি বিজু উদযাপনের জন্য রাঙামাটি বনরূপা বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণির লোকের ভিড় জমেছে। কাঁচামালের ক্ষেত্রে কলা, বেগুন, করলা, কাঁঠাল, পেঁপেসহ শত শত পাহাড়ি কাচাঁমালের বাজার দেখা যায় রাঙামাটি সমতা ঘাটের বনরূপা বাজারে। শুধু বনরূপা বাজারে নয়, রাঙামাটির অন্যতম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বনরূপা তৈয়বিয়া ও বিএম শপিং কমপ্লেক্সেসহ রিজার্ভ বাজার ও তবলছড়িতে হাজারো ক্রেতাদের লক্ষ্য করা যায়।

বিভিন্ন শোরুমে ঘুরে দেখা গেছে, বৈসাবি ও বৈশাখের আনন্দকে বাড়িয়ে দিতে শহরের নিউ মার্কেট, বিএম কমপে¬ক্স, আলিফ মার্কেট ও রিজার্ভ বাজার ও তবলছড়ির বিপণি বিতানগুলো নতুন নতুন পোশাকে সাজানো হয়েছে। দোকানগুলোতে বাঙালির বিভিন্ন ঐতিহ্যে আঁকা ফতুয়া, পাঞ্জাবি, শাড়ি, থ্রিপিস ও গেঞ্জি সবার নজর কাড়ছে। ফুটপাতের দোকানগুলোতেও বৈশাখী হাওয়া লেগেছে। সেখানেও নতুন নতুন পোশাক উঠেছে। বিভিন্ন শোরুমে চলছে বৈসাবি অফার।

ত্রিদিব নগর সমাজ কল্যাণ সমিতি, ছদক ক্লাব এর সহযোগিতায় ও ত্রিদিব নগর বাজার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির উদ্যোগে ৮ এপ্রিল থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত বিজু বাজারের দিন আয়োজন করা হয়েছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে নিরাপত্তা কর্মী ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১১ ও ১২ এপ্রিল হবে ত্রিদিব নগর বাজারে মূল বিজু বাজার।

বনরূপা বিএম কমপ্লেক্সের ‘দেশ’ প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী কামাল হোসেন জানান, বৈসাবি উপলক্ষে রাঙামাটির বাজারগুলো এখন ক্রেতায় ভরপুর। পাহাড়ি তরুণ-তরূণীরা দোকানে ভিড় করছে বেশি। বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাকও কিনছে তারা।

১২ এপ্রিল পানিতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে তিন পার্বত্য জেলায় শুরু হচ্ছে বৈসাবি’র মূল আনুষ্ঠানিকতা। চাকমা সম্প্রদায়ে এটিকে ‘ফুল বিজু’, ত্রিপুরা সম্প্রদায়ে ‘হাঁড়িবসু’ আর মারমা সম্প্রদায়ে সূচিকাজ বলে। এ দিন প্রায় সব পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠী পানিতে ফুল ভাসিয়ে দেয়।

উল্লেখ্য যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে ১২টি জাতিসত্তার নিজস্ব সামাজিক উৎসবের মধ্যে চাকমা জাতিসত্তার বিজু হল অন্যতম ঐতিহ্যবাহী দিন। মোট ৩ দিন বিজুর উৎসবে মেঠে উঠে চাকমারা। ১ম দিন ‘ফুল বিজু’। পানিতে ফুল ভাসিয়ে অতীতের সব দুঃখকে বিদায়ের মাধ্যমে নতুন দিনকে আগমন বার্তা জানায়। যার নাম ‘ফুল বিজু’। ফুল বিজু দিনের পর মূল বিজু। মূল বিজু দিনে বিভিন্ন জায়গায় ও প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়ে আনন্দ উল্লাসের মধ্যে দিয়ে কিশোর-কিশোরীর ঘোরা-ফেরা করা হয়। বিজু দিনে চাকমাদের অন্যতম জনপ্রিয় খাবার ‘পাঁজন’ পরিবেশন করা হয়। মূল বিজুর পরে ‘গোজ্জে-পোজ্জে” দিন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রামগড় চা বাগানের ভোগ দখলীয় জমি কেড়ে নেওয়ায় শ্রমিক অসন্তোষ

বংশ পরস্পরায় শ্রমিকদের ভোগদখলীয় জমি কেড়ে নেওয়ার হুমকির মুখে রামগড় চা বাগানের পঞ্চায়েত নেতৃবৃন্দ ও …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

four × 1 =